ছবিঃ সংগৃহীত
দায়িত্ব নেওয়ার দ্বিতীয় দিনেই হোয়াইট হাউসের সংবাদ সম্মেলনে অপ্রস্তুত পরিস্থিতির মুখে পড়লেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন প্রেস সচিব কেটি জাকারিয়া। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার সময় নিজের নিয়োগকর্তা ট্রাম্পকে ভুল করে ‘স্বামী’ বলে বসেন তিনি। তাঁর মুখে এমন কথা শুনে সংবাদ সম্মেলনকক্ষে হাসির রোল ওঠে।
গত শুক্রবার ক্যারোলিন লেভিটের উত্তরসূরি হিসেবে জাকারিয়ার নাম ঘোষণা করেন ট্রাম্প। দায়িত্ব গ্রহণের দ্বিতীয় দিনে মঙ্গলবার প্রথমবারের মতো হোয়াইট হাউসের ঐতিহাসিক ব্রিফিং কক্ষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন তিনি। শুরুতেই ট্রাম্পের হয়ে কাজ করার সুযোগ পেয়ে সম্মানিত বোধ করছেন বলে জানান নতুন প্রেস সচিব। দীর্ঘদিন ধরেই তাঁর হয়ে কাজ করার ইচ্ছা ছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এরপর প্রায় ছয় মিনিট ধরে ট্রাম্পের প্রশংসা করেন জাকারিয়া। তুলে ধরেন গত কয়েক মাসে প্রশাসনের বিভিন্ন সাফল্য। তবে লিখিত বক্তব্য পড়ার সময় তাঁকে কয়েকবার আটকে যেতে দেখা যায়। ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে পরিচালিত অভিযানকে তিনি ‘ঐতিহাসিক এক দিনের যুদ্ধ’ বলে উল্লেখ করেন। অথচ ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান যুদ্ধ ইতিমধ্যে নবম মাসের দিকে এগোচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রশ্নোত্তর পর্বে জাকারিয়া একটি নোট-কার্ড বের করেন, যেখানে কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের নাম লেখা ছিল। প্রথম প্রশ্ন করার সুযোগ পান কট্টর ডানপন্থি সংবাদমাধ্যম ব্রেইটবার্ট নিউজের এক সাংবাদিক। তিনি হোয়াইট হাউসের কর্মীদের জন্য সাধারণত বরাদ্দ আসনে বসেছিলেন। ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতি সহানুভূতিশীল নতুন ধারার সংবাদমাধ্যমগুলোর জন্য আগেই এ ধরনের ব্যবস্থা করা হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে বলা হয়।
এরপর ফক্স নিউজের সাংবাদিক পিটার ডুসিকে প্রশ্ন করার সুযোগ দেন জাকারিয়া। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির ওপর ট্রাম্পের অসন্তোষের কারণে যুক্তরাষ্ট্র কিয়েভের সঙ্গে গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান বন্ধ করেছে কি না, তা জানতে চান ডুসি। প্রশ্নের সরাসরি উত্তর না দিয়ে পরে এ বিষয়ে জানাবেন বলে জানান প্রেস সচিব।
পরে ডেইলি মেইলের এক সাংবাদিক জানতে চান, গ্রিসে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত কিম্বার্লি গিলফয়েলকে ট্রাম্প পদত্যাগ করতে বলেছেন কি না। সংবাদমাধ্যমে গিলফয়েলের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিয়ে অস্বস্তিকর খবর প্রকাশের প্রসঙ্গও সামনে আসে। জাকারিয়া জানান, ফক্স নিউজের সাবেক এই উপস্থাপিকাকে পদত্যাগ করতে বলেছেন ট্রাম্প। গিলফয়েল ট্রাম্পের বড় ছেলের সাবেক বাগদত্তা।