ছবিঃ সংগৃহীত
শুরুতে পিছিয়ে পড়ে একসময় চাপে পড়ে গিয়েছিল বার্সেলোনা। নিজেদের মাঠে গালাতাসারাইয়ের গোল আর স্বাগতিক সমর্থকদের উল্লাসে কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়ার আভাস মিলছিল। তবে বিরতির আগে সমতায় ফিরে দ্বিতীয়ার্ধে দুর্দান্ত ফুটবল খেলেছে হান্সি ফ্লিকের দল। একের পর এক গোল করে শেষ পর্যন্ত ৪-১ ব্যবধানের বড় জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে কাতালানরা।
চ্যাম্পিয়নস লিগের লিগ পর্বের দ্বিতীয় ম্যাচে গালাতাসারাইকে হারিয়ে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা দশম জয় তুলে নিয়েছে বার্সেলোনা। এর আগে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ফেইনুর্ডকে ৫-১ গোলে হারিয়েছিল স্প্যানিশ ক্লাবটি।
ম্যাচের শুরু থেকেই বলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের কাছে রাখে বার্সেলোনা। প্রথম ২৫ মিনিটে অ্যান্থনি গর্ডন ও দানি ওলমো কয়েকটি সুযোগ তৈরি করলেও গোলের দেখা পায়নি তারা। উল্টো ২৮ মিনিটে নিজেদের প্রথম লক্ষ্যে থাকা শট থেকেই এগিয়ে যায় গালাতাসারাই।
রাফায়েল লিয়াওয়ের কাটব্যাক থেকে বক্সের বাইরে বল পেয়ে শট নেন আলেক্সেই বাতরাকভ। জোয়াও কানসেলোর গায়ে লেগে বলের গতিপথ বদলে গেলে বার্সেলোনার জালে জড়িয়ে যায় সেটি। গোলের পর রামস পার্কে উল্লাসে মেতে ওঠেন স্বাগতিক সমর্থকেরা।
এর ছয় মিনিট পর ব্যবধান দ্বিগুণ করার সুযোগ পায় গালাতাসারাই। বারিস আলপার ইলমাজের গোলের পর আরও চাপে পড়ে বার্সেলোনা। তবে দীর্ঘ সময় ভিডিও সহকারী রেফারির পর্যালোচনা শেষে অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল হয়। এতে বড় বিপদ থেকে রক্ষা পায় সফরকারীরা। বিরতির ঠিক আগে সমতায় ফেরে বার্সেলোনা। ৪৩ মিনিটে লামিনে ইয়ামালের আক্রমণ থেকে তৈরি হওয়া পরিস্থিতিতে দানি ওলমোর ট্যাকল থেকে বল পান কানসেলো। ডান পায়ের নিখুঁত শটে জাল খুঁজে নিয়ে দলকে ১-১ সমতায় ফেরান পর্তুগিজ ডিফেন্ডার।
বিরতির পর ম্যাচের চিত্র পুরোপুরি বদলে দেয় বার্সেলোনা। দ্বিতীয়ার্ধের প্রথম ২০ মিনিটেই তিন গোল করে জয় প্রায় নিশ্চিত করে ফ্লিকের দল। ৫০ মিনিটে কর্নার থেকে ফিরে আসা বল বক্সে পাঠান ইয়ামাল। সেখান থেকে কাছের হেডে গোল করে বার্সেলোনাকে এগিয়ে দেন ফেরমিন লোপেজ।
এর তিন মিনিট পর ব্যবধান বাড়ায় কাতালানরা। পেদ্রির পাস পেয়ে গোললাইন থেকে বল মাঠে রেখে গর্ডনকে পাস দেন ইয়ামাল। সেই পাস কাজে লাগিয়ে জাল কাঁপান ইংলিশ ফরোয়ার্ড। স্কোরলাইন তখন ৩-১।
৬৫ মিনিটে আসে বার্সেলোনার চতুর্থ গোল। গ্যাব্রিয়েল জেসুসের গায়ে লেগে বল করিম আদেয়েমির সামনে চলে এলে নিচু শটে দূরের পোস্ট দিয়ে লক্ষ্যভেদ করেন জার্মান ফরোয়ার্ড। এরপর ম্যাচে ফেরার পথ আরও কঠিন হয়ে পড়ে গালাতাসারাইয়ের।
শেষ দিকে ব্যবধান আরও বাড়ানোর সুযোগ পেয়েছিল বার্সেলোনা। ইয়ামালের ক্রস থেকে আদেয়েমির ভলি গোললাইন থেকে ফিরিয়ে দেন রোলান্ড সালাই। পরে ইয়ামালের পাসে জেসুসের শটও ঠেকিয়ে দেন গোলরক্ষক উগুরজান চাকির। শেষ পর্যন্ত আর কোনো গোল না হওয়ায় ৪-১ ব্যবধানের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে বার্সেলোনা।