মুন্সীগঞ্জ থেকে নিখোঁজ তিন স্কুলছাত্রী কক্সবাজারে উদ্ধার
সংগৃহীত ছবি
তানিয়া আক্তার, মুন্সীগঞ্জ : মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর থেকে নিখোঁজ হওয়া তিন স্কুলছাত্রীকে কক্সবাজারের একটি হোটেল থেকে উদ্ধার করেছে জেলা পুলিশ। নিখোঁজ হওয়ার তিন দিন পর গত ১৭ অক্টোবর গভীর রাতে কক্সবাজারের কলাতলী এলাকার একটি হোটেল থেকে তাদের উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন গেমের মাধ্যমে পরিচয়ের সূত্র ধরে বাড়ি ছাড়ে তারা। এ ঘটনায় পারিবারিক অশান্তি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাবের বিষয়টিও উঠে এসেছে।
স্কুলে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল তিন কিশোরী। কিন্তু দিন পেরিয়ে রাত হলেও বাড়িতে ফেরেনি তারা। উদ্বিগ্ন পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও সন্ধান না পেয়ে দ্বারস্থ হন পুলিশের।
ঘটনাটি মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার উত্তর বালাসুর নতুন বাজার এলাকার। নিখোঁজ তিন শিক্ষার্থীর মধ্যে দুজন ভাগ্যকুল হরেন্দ্রনাথ স্কুলের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী এবং অন্যজন দারুল উলুম মহিলা মাদ্রাসার সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। প্রত্যেকের বয়স ১৪ বছর।
গত ১৪ অক্টোবর সকাল ৬টা ৪০ মিনিটে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর তাদের আর খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। পরদিন নিখোঁজ এক ছাত্রীর মা শ্রীনগর থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন।
নিখোঁজের ঘটনা তদন্তে নামে শ্রীনগর থানা পুলিশ। মুন্সীগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলম পিপিএমের নির্দেশনায় শুরু হয় উদ্ধার অভিযান। পুলিশের তদন্তে উঠে আসে, রাঙামাটির কোতোয়ালি এলাকার ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরের সঙ্গে নিখোঁজ এক ছাত্রীর টিকটক ও ফ্রি ফায়ার গেম খেলার মাধ্যমে পরিচয় হয়েছিল। সেই যোগাযোগের সূত্র ধরে পুলিশ রাঙামাটিতে গিয়ে ওই কিশোরকে জিজ্ঞাসাবাদ করে।
পরে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে, তিন ছাত্রী চট্টগ্রাম হয়ে কক্সবাজারে অবস্থান করছে।
এরপর কক্সবাজারের কলাতলীতে অভিযান চালায় শ্রীনগর থানা পুলিশের একটি দল। গত ১৭ অক্টোবর রাত ৩টা ৪০ মিনিটে গ্র্যান্ড তাজ হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট থেকে তিন ছাত্রীকে উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানায়, ওই হোটেলে নিজেদের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী পরিচয় দিয়ে ঢাকার মিরপুরের একটি ভুয়া ঠিকানা ব্যবহার করে তিন দিনের জন্য ২০ হাজার টাকায় একটি কক্ষ ভাড়া নিয়েছিল তারা। হোটেল ভাড়া নেওয়ার ক্ষেত্রে স্থানীয় এক অটোরিকশাচালক তাদের সহযোগিতা করেন বলেও জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, জিজ্ঞাসাবাদে ছাত্রীরা পারিবারিক মনোমালিন্য, অশান্তি, কঠোর অনুশাসন, অপমান ও স্বাধীনতার অভাবের কথা জানিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের প্রভাবও তাদের বাড়ি ছাড়ার সিদ্ধান্তে ভূমিকা রেখেছিল বলে ধারণা করছে পুলিশ।
এ ছাড়া কক্সবাজার থেকে সীমান্ত অতিক্রম করে পার্শ্ববর্তী দেশে যাওয়ার পরিকল্পনার কথাও পুলিশি বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে অল্প সময়ের মধ্যে অভিযান চালিয়ে তিন কিশোরীকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিয়েছে মুন্সীগঞ্জ জেলা পুলিশ।
কমেন্ট বক্স