প্রধানমন্ত্রী রংপুরে আসছেন মঙ্গলবার, মহানগরীতে উৎসবের আমেজ
সংগৃহীত ছবি
শাহিনুরা আক্তার, রংপুর : মঙ্গলবার রংপুরে আসছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শারদীয় দুর্গোৎসবে পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে তাঁর এ সফর ঘিরে রংপুর মহানগরীসহ পুরো জেলায় বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ। ওইদিন( মঙ্গলবার) বেলা ১১টার দিকে তিনি রংপুরের ঐতিহাসিক রাধাঁ গোবিন্দ মন্দির ধর্মসভা পরিদর্শন করবেন। সেখানে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শারদীয় দুর্গোৎসবের শুভেচ্ছা ও কুশল বিনিময় করবেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর সফর সফল করতে দলীয় প্রস্তুতির পাশাপাশি মহানগরীর পরিচ্ছন্নতা ও নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে রংপুর মহানগর জুড়ে চলছে সাঁজসঁজ্জার কাজ। রংপুর সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে রাস্তাঘাট ও সড়ক বিভাজক ধোয়া-মোছা এবং রং করার কাজ চলছে তড়িৎ গতিতে। সড়ক বিভাজকে লাগানো হচ্ছে ফুলের গাছ। ইতোমধ্যে মহানগরীর প্রধান সড়কগুলোর ফুটপাত পরিষ্কার করে চলাচলের উপযোগী করা হয়েছে। মহানগরীকে দৃষ্টিনন্দন করে তুলতে নেওয়া হয়েছে নানা উদ্যোগ।
মহানগরীর বিভিন্ন বিলবোর্ডে শোভা পাচ্ছে রংপুর সিটি করপোরেশন, রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, শারদীয় দুর্গোৎসব কমিটি, সাংস্কৃতিক ঐক্য পরিষদ এবং রংপুর জেলা ও মহানগর বিএনপির শুভেচ্ছাবার্তা-সংবলিত ব্যানার। গানে গানে সম্প্রীতির রংপুরকে তুলে ধরতে প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা—জাসাসের জেলা ও মহানগর শাখা।
প্রধানমন্ত্রীর যাতায়াতের জন্য নির্ধারিত সড়কগুলোর সংস্কারকাজও চলছে। বিশেষ করে মহানগরীর ডিসির মোড় থেকে চেকপোস্ট পর্যন্ত সড়কের সংস্কারকাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে নেওয়া হয়েছে। সেই সাথে সৈয়দপুর এবং তারাগঞ্জ এলাকার হাইওয়ে সড়কের সড়ক বিভাজনে রং তুলি দিয়ে রাঙ্গানো হচ্ছে। এছাড়াও সড়কের দু ধারের আগাছা পরিষ্কার ব্যস্ত সময় পার করছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের শ্রমিকরা।
রংপুরের এসব কাজ সরেজমিনে তদারকি করছেন রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট মাহফুজ উন নবী ডন।
এদিকে,প্রধানমন্ত্রীর তারেক রহমানের এ সফর ঘিরে চার স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা গড়ে তোলা হচ্ছে। তাঁর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ), জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই), পুলিশ ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) কর্মকর্তারা তৎপর রয়েছেন। ইতোমধ্যে ৫১ বিজিবির অধিনায়কসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সফরের নির্ধারিত স্থান পরিদর্শন করেছেন। পুরো মহনগরীতে বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হচ্ছে।
রাঁধা গোবিন্দ মন্দির ধর্মসভার সভাপতি পার্থ বোস বলেন, প্রধানমন্ত্রী রংপুরের একটি মন্দিরে আসছেন—এতে তারা অত্যন্ত আনন্দিত। প্রত্যন্ত অঞ্চলে কীভাবে শারদীয় উৎসব উদ্যাপন করা হয়। তা তিনি সরেজমিনে দেখবেন এবং তাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করবেন, এটি তাদের জন্য পরম পাওয়া। প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে ধর্মসভার পরিচ্ছন্নতা ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। এসএসএফসহ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা ইতোমধ্যে মন্দির পরিদর্শন করেছেন এবং সার্বক্ষণিক খোঁজখবর রাখছেন। তারাও সফর সফল করতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহান বলেন, প্রধানমন্ত্রী রংপুরের ঐতিহাসিক রাঁধা গোবিন্দ মন্দির ধর্মসভা পরিদর্শনের পাশাপাশি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শারদীয় দুর্গোৎসবের শুভেচ্ছা ও কুশল বিনিময় করবেন। তাঁর সফর নির্বিঘ্ন করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এ উপলক্ষে একাধিক প্রস্তুতিমূলক সভাও অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সফর সফল করতে রংপুরবাসী প্রস্তুত রয়েছেন।
রংপুর মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব ও সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজ উন নবী চৌধুরী ডন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে রংপুরের মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে আনন্দ ও উৎসাহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তারাও এ সফর নিয়ে আনন্দিত।
মাহফুজ উন নবী চৌধুরী ডন আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী সম্প্রতি রংপুরের উন্নয়নে ১ হাজার ৮০০ কোটি টাকার দুটি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছেন। সম্প্রীতির বার্তা নিয়ে শারদীয় দুর্গোৎসবে পূঁজামণ্ডপ পরিদর্শনে তার রংপুরে আসা মহানগরবাসীর জন্য আনন্দের। রাজধানীর বাইরে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে শারদীয় উৎসব দেখতে প্রধানমন্ত্রীর এই সফর একটি বিরল ঘটনা। এ সফর রংপুরকে আরও আলোকিত করবে। সফর সফল ও নির্বিঘ্ন করতে তিনি সবার সহযোগিতা কামনা করেন।
প্রসঙ্গত, এবার রংপুরে মোট ৯৬৪টি পূঁজামণ্ডপে শারদীয় দুর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর মধ্যে রংপুর মহানগরীতে ১৬৪টি এবং জেলার আটটি থানায় ৮শ টি পূজামণ্ডপ রয়েছে। পূঁজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তাব্যবস্থার পাশাপাশি বিশেষ ত্রাণ হিসেবে চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়াও মণ্ডপপ্রতি সরকারি অনুদান বাড়িয়ে ১৫ হাজার টাকা করা হয়েছে।
কমেন্ট বক্স