দেশ ও জাতির কল্যাণে ইমামদের ভূমিকা রাখতে হবে: এমপি মিলন
সংগৃহীত ছবি
মোস্তাফিজুর রহমান লিটন, রাজশাহী : দেশ ও জাতির কল্যাণে ইমামদের আরও সক্রিয় ও কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শফিকুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, মসজিদে নামাজ আদায় ও ধর্মীয় শিক্ষা প্রদানের পাশাপাশি সমাজে নৈতিকতা প্রতিষ্ঠা, মানবিক মূল্যবোধের বিকাশ, সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষা এবং মাদক, সন্ত্রাস ও সামাজিক অবক্ষয় প্রতিরোধে ইমামদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। একই সঙ্গে ধর্মীয় জ্ঞানের পাশাপাশি প্রশিক্ষণলব্ধ জ্ঞান কাজে লাগিয়ে আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি ও আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার জন্যও তিনি ইমামদের প্রতি আহ্বান জানান।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকাল ১০টায় রাজশাহী ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমির মিলনায়তনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ১ হাজার ২২৮তম দলের ৪৫ দিনব্যাপী নিয়মিত ইমাম প্রশিক্ষণ কোর্সের সমাপনী ও সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এমপি মিলন বলেন, ইমামরা সমাজের মানুষের কাছে অত্যন্ত সম্মানিত ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিত্ব। তাঁদের বক্তব্য, উপদেশ ও পরামর্শ মানুষের ব্যক্তিগত জীবন, পারিবারিক বন্ধন এবং সামাজিক আচরণে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই ধর্মীয় দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি মানুষের মধ্যে সততা, ন্যায়বিচার, সহনশীলতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ জাগ্রত করতে ইমামদের এগিয়ে আসতে হবে।
তিনি বলেন, বর্তমান সমাজে তরুণ প্রজন্মকে নৈতিক শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ করা এবং তাদের মাদক, সন্ত্রাসসহ বিভিন্ন অসামাজিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখতে ইমামদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ধর্মীয় মূল্যবোধ ও মানবিক শিক্ষার মাধ্যমে একটি সুন্দর, শান্তিপূর্ণ ও নৈতিকতাসম্পন্ন সমাজ গঠনে ইমামরা উল্লেখযোগ্য অবদান রাখতে পারেন।
ইমাম প্রশিক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, ১৯৭৯ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমি প্রতিষ্ঠা করেন। পরবর্তী সময়ে ১৯৯৩ সালে মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম চালু হয়। বর্তমানে দেশের ৮১৮টি প্রশিক্ষণকেন্দ্রের মাধ্যমে এ পর্যন্ত প্রায় ১ লাখ ২৩ হাজার ইমামকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতা শুধু ধর্মীয় দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রেই নয়, বরং আর্থসামাজিক উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ইমাম ও মুয়াজ্জিনেরা প্রশিক্ষণলব্ধ জ্ঞান কাজে লাগিয়ে আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারেন। এর মাধ্যমে তাঁরা নিজেদের আর্থিক অবস্থার উন্নয়নের পাশাপাশি পরিবার ও সমাজের কল্যাণেও অবদান রাখতে পারবেন।
ইমাম, মুয়াজ্জিন ও আলেম-ওলামাদের কল্যাণ প্রসঙ্গে এমপি মিলন বলেন, দুর্ঘটনা, পঙ্গুত্ব, দুরারোগ্য ব্যাধি ও বার্ধক্যজনিত অক্ষমতার কারণে আর্থিক সংকটে পড়া ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের সহায়তার লক্ষ্যে বেগম খালেদা জিয়া ইমাম-মুয়াজ্জিন কল্যাণ ট্রাস্টের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। এ ধরনের উদ্যোগ ইমাম, মুয়াজ্জিন ও আলেম-ওলামাদের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের ভাতার আওতায় আনার উদ্যোগ নিয়েছেন। ইতোমধ্যে পাইলট কর্মসূচি হিসেবে এ উদ্যোগের বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। পাশাপাশি ইসলামিক ফাউন্ডেশনকে অধিদপ্তরে রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের পেশাগত মর্যাদা বৃদ্ধি এবং আর্থিক নিরাপত্তা জোরদারে সহায়ক হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
রাজশাহী ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমির আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন একাডেমির উপপরিচালক ডা. মোঃ আসেম আলী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক এ কে এম মুজাহিদুল ইসলাম, জাতীয়তাবাদী ওলামা দল রাজশাহীর সদস্যসচিব কাজী মোঃ নুরুল আলম এবং সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদ রানা।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন একাডেমির প্রশিক্ষক মাওলানা মোঃ রাকিবুল ইসলাম। পরে প্রশিক্ষণ কোর্স সম্পন্নকারী ইমামদের মধ্যে সনদ বিতরণ করা হয়।
কমেন্ট বক্স