২১ অক্টোবর ২০২৬ , ৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬

আত্মরক্ষার জন্য অস্ত্র উঁচিয়ে ধরেছিলাম: ইশরাক হোসেন

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপলোড সময় : ১৯-১০-২০২৬
আত্মরক্ষার জন্য অস্ত্র উঁচিয়ে ধরেছিলাম: ইশরাক হোসেন ছবিঃ সংগৃহীত

রাজধানীর গেণ্ডারিয়ায় মাদকবিরোধী অভিযানে প্রকাশ্যে আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে ধরার ঘটনার ব্যাখ্যা দিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন। তাঁর দাবি, মাদকবিরোধী কর্মসূচি চলাকালে ৩০ থেকে ৩৫ জন ব্যক্তি তাঁদের গাড়িবহরের দিকে মারমুখী ভঙ্গিতে এগিয়ে আসেন। হামলার আশঙ্কা ও জানমালের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে তিনি এবং তাঁর সরকারি নিরাপত্তারক্ষীরা আত্মরক্ষার্থে অল্প সময়ের জন্য অস্ত্র উঁচিয়ে ধরেন।

রোববার দুপুরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এ ব্যাখ্যা দেন ইশরাক।

শনিবার গেণ্ডারিয়া রেলস্টেশন-সংলগ্ন দয়াগঞ্জ এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানের সময় তাঁর আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।

প্রতিমন্ত্রীর প্রেস কর্মকর্তা মাহফুজ কবির মুক্তার নামে প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই গেণ্ডারিয়ার ঘণ্টিঘর, মুন্সিটেক, করাতিটোলা ও আশপাশের এলাকায় মাদক কেনাবেচা এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে মাদকের বিস্তার নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে অভিযোগ পেয়ে আসছেন ইশরাক। বিবৃতিতে দাবি করা হয়, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর এলাকাটি মাদক সিন্ডিকেটের অন্যতম প্রধান চলাচলপথে পরিণত হয়।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, গত জুনে মাদক-সংক্রান্ত সহিংসতায় তিনজন নাগরিক গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর প্রতিমন্ত্রী এলাকাটি পরিদর্শন করেন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিক সমন্বয় সভা করেন। জনবলসংকট দূর করা এবং মাদকের আস্তানার কাছে স্থায়ী পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের জন্য সংশ্লিষ্ট থানাকে আধাসরকারি পত্রও দেওয়া হয়েছিল। তবে সে উদ্যোগ এখনো বাস্তবায়নাধীন রয়েছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, পুলিশ প্রশাসন এবং স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতাদের যৌথ সিদ্ধান্তে সাধারণ নাগরিক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অংশগ্রহণে সমন্বিত সামাজিক প্রতিরোধ কর্মসূচির অংশ হিসেবে তিনি শনিবার ওই এলাকায় যান। সেখানে যাওয়ার আগে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও নিজস্ব গোয়েন্দা সূত্র থেকে তাঁর নিরাপত্তাঝুঁকি এবং মাদক কারবারিদের পক্ষ থেকে ছাদ থেকে আকস্মিক গুলিবর্ষণের আশঙ্কা সম্পর্কে সতর্ক করা হয়েছিল বলেও বিবৃতিতে দাবি করা হয়।

ঘটনার বর্ণনায় ইশরাক বলেন, একটি অস্থায়ী মাদকের আস্তানার কাছে পৌঁছালে ৩০ থেকে ৩৫ জন ব্যক্তি হইচই করে তাঁদের গাড়িবহরের দিকে মারমুখী ভঙ্গিতে এগিয়ে আসেন। এ সময় হামলার আশঙ্কায় তিনি ও তাঁর নিরাপত্তারক্ষীরা গাড়ি থেকে নেমে আত্মরক্ষার জন্য অল্প সময়ের জন্য অস্ত্র উঁচিয়ে ধরেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর অস্ত্র যথাস্থানে রাখা হয়। তাঁর দাবি, আগ্নেয়াস্ত্রটি বৈধ লাইসেন্সপ্রাপ্ত এবং আত্মরক্ষার উদ্দেশ্যেই তা প্রদর্শন করা হয়েছিল।

বিবৃতিতে আরও জানানো হয়, ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পরপরই গেণ্ডারিয়া থানা-পুলিশকে অবহিত করা হয়। পরে পুলিশের উপস্থিতি ও সহযোগিতায় সন্দেহভাজন মাদকের আস্তানাগুলোতে যৌথ অভিযান চালানো হয়। এ সময় চার থেকে পাঁচটি অবৈধ ও অস্থায়ী আস্তানা উচ্ছেদ করা হয়। সেখান থেকে হেরোইন বা হেরোইনজাতীয় মাদক, বিদেশি মদ, মাদক সেবনের সরঞ্জাম, দেশীয় ধারালো অস্ত্র, মাদক বিক্রির নগদ অর্থ এবং ছিনতাই করা মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়। এ ঘটনায় ছয়জনকে আটক করে জব্দ করা আলামতসহ গেণ্ডারিয়া থানা-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।



কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ