ছবিঃ সংগৃহীত
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে শুরুটা দারুণ করেও শেষ পর্যন্ত বড় ব্যবধানে হারতে হয়েছে বাংলাদেশকে। বল হাতে প্রতিপক্ষের প্রথম তিন উইকেট তুলে নিয়ে দলকে ভালো অবস্থানে রেখেছিলেন তাসকিন আহমেদ। কিন্তু জিম্বাবুয়ে ঘুরে দাঁড়িয়ে ২৭১ রান সংগ্রহ করে। জবাবে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে ১৭২ রানেই গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ। এমন হারে হতাশ তাসকিনের মতে, জয়ের সুযোগ থাকলেও ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতায় ম্যাচটি হাতছাড়া হয়েছে।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) আবুধাবিতে জিম্বাবুয়ের কাছে ৯৯ রানে হারের পর সংবাদ সম্মেলনে তাসকিন বলেন, ২৭২ রানের লক্ষ্য তাড়া করার সামর্থ্য বাংলাদেশের ছিল। তাঁর মতে, উইকেট ও কন্ডিশন বিবেচনায় এই রান অতিক্রম করা অসম্ভব ছিল না। কিন্তু দল হিসেবে প্রত্যাশিত পারফরম্যান্স দেখাতে পারেনি বাংলাদেশ।
তাসকিন বলেন, ‘জিম্বাবুয়ের সঙ্গে অন্তত ২৭০ অবশ্যই তাড়া করার মতো ছিল। ওদের কন্ডিশনে ওরা অস্ট্রেলিয়াকেও কঠিন সময়ের ভেতর দিয়ে নিয়েছে। কিন্তু এই কন্ডিশনে আমাদের আসলে তাড়া করা উচিত ছিল। আমরা আসলেই ভালো খেলিনি।’
ম্যাচে বাংলাদেশের শুরুটা ছিল আশাব্যঞ্জক। ২৪ রানে জিম্বাবুয়ের তিন উইকেট তুলে নিয়ে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলেছিলেন তাসকিন। তবে সেই চাপ ধরে রাখতে পারেনি বাংলাদেশ। ব্রেন্ডন টেলর ও ক্রেইগ আরভিনের ব্যাটে ঘুরে দাঁড়িয়ে ৫০ ওভারে ২৭১ রান সংগ্রহ করে জিম্বাবুয়ে।
লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে সৌম্য সরকার ও তানজিদ হাসানের উদ্বোধনী জুটিতে আসে ৪৭ রান। তানজিদ করেন ৪৬। কিন্তু এই জুটি ভাঙার পর আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি বাংলাদেশ। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে দলটি। শেষ দিকে তাসকিন ও রিশাদ হোসেনের ২৬ বলে ৩২ রানের জুটি ছাড়া উল্লেখযোগ্য কোনো প্রতিরোধ গড়তে পারেননি ব্যাটসম্যানরা।
তাসকিনের মতে, ব্যাটিংয়ে বড় জুটি গড়তে না পারাই হারের অন্যতম কারণ। তিনি বলেন, ‘দুর্ভাগ্যবশত আমরা একটাও জুটি গড়তে পারিনি। একটা জুটি হলেই খেলাটা বের হয়ে যেত। আমাদের ব্যাটিংয়ে প্রায়ই ভুল হয়ে থাকে। বোলিংয়ে অবশ্য ধারাবাহিকতা আগের চেয়ে বেড়েছে। আসলে ব্যাটসম্যানদের (আজ) জেতানো উচিত ছিল, কিন্তু পারে নাই।’
চাপের মুখে ব্যাটিংয়ে দ্রুত ভেঙে পড়ার প্রবণতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন এই পেসার। তাঁর মতে, বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের দক্ষতার অভাব নেই; বরং ম্যাচের পরিস্থিতি বুঝে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে ঘাটতি রয়েছে। বড় দল হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে হলে এই দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে হবে।
তাসকিন বলেন, ‘ম্যাচ পরিস্থিতি বুঝতে পারার ঘাটতিটা একটু বেশি। কারণ স্কিল কিন্তু সবার আছে। আপনারা যাঁরা ক্রিকেট খেলা দেখেন, প্রতিটি ব্যাটসম্যানই কিন্তু প্রমাণ করেছে, তারা ভালো ব্যাট করতে পারে। মাঝে মাঝে আমরা দল হিসেবে দেখবেন, চাপে পড়লে খুব দ্রুত ভেঙে পড়ি। এই জিনিসটাই আমাদের আসলে বের হয়ে আসতে হবে। বড় দল হতে চাইলে যেকোনোভাবে বের হয়ে আসতে হবে।’