ছবিঃ সংগৃহীত
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের বেতন ১১তম গ্রেডে উন্নীত করাসহ তিন দফা দাবি আদায়ে ছয় ধাপের আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি। আগামী ৮ নভেম্বর সারাদেশে কালো ব্যাজ ধারণ ও জেলা প্রশাসকদের কাছে স্মারকলিপি দেওয়ার মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শুরু হবে। এরপরও দাবি বাস্তবায়নে অগ্রগতি না হলে ডিসেম্বরে ঢাকায় মহাসমাবেশ এবং প্রয়োজনে আমরণ অনশনে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষক নেতারা।
মঙ্গলবার রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) শফিকুল কবির মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। সমিতির নীতিনির্ধারণী চেয়ারম্যান মো. সিরাজুল ইসলাম লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন। এতে সভাপতিত্ব করেন কেন্দ্রীয় সভাপতি মো. মোয়াজ্জেম হোসেন শাহীন। স্বাগত বক্তব্য দেন সমিতির সাধারণ সম্পাদক খায়রুন নাহার লিপি।
সমিতির তিন দফা দাবি হলো—সহকারী শিক্ষকদের বেতন ১১তম গ্রেডে উন্নীত করা, চাকরির আট ও ১৪ বছর পূর্তিতে দুটি উচ্চতর গ্রেড নিশ্চিত করা এবং জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে সহকারী শিক্ষক থেকে প্রধান শিক্ষক পদে শতভাগ পদোন্নতির ব্যবস্থা করা। পাশাপাশি সাধারণ সম্পাদক খায়রুন নাহার লিপিসহ শিক্ষকদের হয়রানিমূলক বদলির আদেশ বাতিল এবং তাঁদের বিরুদ্ধে দায়ের করা বিভাগীয় মামলা প্রত্যাহারেরও দাবি জানিয়েছেন নেতারা।
ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, আগামী ৮ নভেম্বর সারাদেশে কালো ব্যাজ ধারণ করবেন শিক্ষকরা। একই দিন প্রয়াত শিক্ষিকা ফাতেমা এবং আন্দোলনে নিহত ও আহতদের স্মরণে কেন্দ্রীয়ভাবে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। ওই দিনই তিন দফা দাবিসংবলিত স্মারকলিপি জেলা প্রশাসকদের কাছে দেবেন শিক্ষক প্রতিনিধিরা।
এরপর ১৭ ডিসেম্বর বিভাগীয় কমিশনারদের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হবে। বার্ষিক পরীক্ষা শেষে ডিসেম্বরের মধ্যে ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার অথবা শাহবাগে মহাসমাবেশ করবেন শিক্ষকরা। এর নির্দিষ্ট তারিখ পরে জানানো হবে। এসব কর্মসূচির পরও দাবি বাস্তবায়নে অগ্রগতি না হলে জাতীয় প্রেসক্লাব অথবা শাহবাগে অবস্থান কর্মসূচি ও আমরণ অনশন পালন করবেন তাঁরা।
সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষক নেতারা বলেন, গত বছরের নভেম্বরে আন্দোলনের পর সহকারী শিক্ষকদের বেতন ১১তম গ্রেডে উন্নীত করার বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু প্রায় এক বছর পেরিয়ে গেলেও এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি হয়নি।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ২০২৫ সালের ৮ থেকে ১০ নভেম্বর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে দশম গ্রেডের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষকরা। ৮ নভেম্বর শাহবাগ এলাকায় পুলিশের টিয়ার গ্যাস, সাউন্ড গ্রেনেড, রাবার বুলেট ও লাঠিচার্জে বহু শিক্ষক আহত হন বলে অভিযোগ করেন তাঁরা। আহতদের মধ্যে সমিতির সাধারণ সম্পাদক খায়রুন নাহার লিপিসহ প্রায় দুই শতাধিক শিক্ষক গুরুতর আহত হয়েছিলেন। পরে অসুস্থ অবস্থায় ফাতেমা নামে এক শিক্ষিকার মৃত্যু হয় বলেও দাবি করেন নেতারা।
তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, আন্দোলনের পর ৯ নভেম্বর প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবের সভাপতিত্বে এবং পরদিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের সচিবের সভাপতিত্বে শিক্ষক প্রতিনিধিদের সঙ্গে পৃথক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এসব বৈঠকে সহকারী শিক্ষকদের বেতন ১১তম গ্রেডে উন্নীত করার বিষয়ে সম্মতি জানানো হয়েছিল। সরকারের আশ্বাসে আন্দোলন স্থগিত করে শ্রেণিকক্ষে ফিরে যান শিক্ষকরা। এ বিষয়ে তখন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিও প্রকাশ করা হয়।
শিক্ষক নেতারা আরও জানান, চলতি বছরের ১১ মার্চ মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সহকারী শিক্ষকদের বেতন ১১তম গ্রেডে উন্নীত করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবকে চিঠি দেয়। এরপরও প্রজ্ঞাপন জারি না হওয়ায় তাঁরা হতাশ।
সমিতির নীতিনির্ধারণী চেয়ারম্যান মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, গত বছরের ১০ নভেম্বরের বৈঠকে ১১তম গ্রেডের দাবি বিবেচনার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। বিষয়টি জাতীয় বেতন কমিশনে পাঠিয়ে সুপারিশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হয়েছিল। সেই আশ্বাসের ভিত্তিতেই শিক্ষকরা আন্দোলন প্রত্যাহার করেন। কিন্তু প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না হলে আবারও আন্দোলনে ফিরতে বাধ্য হবেন তাঁরা।