২৫ অক্টোবর ২০২৬ , ১০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬

আনভীরের উইকেট আন্তর্জাতিক মানের: হাবিবুল বাশার

ক্রীড়া ডেস্ক
আপলোড সময় : ২৫-১০-২০২৬
আনভীরের উইকেট আন্তর্জাতিক মানের: হাবিবুল বাশার

টেস্ট খেলুড়ে কোনো দেশকে এই প্রথম স্বাগত জানাল এবিজি স্পোর্টস সিটির আনভীর ক্রিকেট স্টেডিয়াম। ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিকেটারদের উপস্থিতিতে প্রাণ ফিরে পাওয়া মাঠটি দেশের ক্রীড়াঙ্গনে আন্তর্জাতিক ভেন্যু হিসেবে জায়গা পাকা করার দিকে আরও এক ধাপ এগোল। বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ শুরুর আগে বিসিবি একাদশের সঙ্গে দুই দিনের একটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলছে ক্যারিবীয়রা। সেই ম্যাচ ঘিরে মাঠের মনোরম পরিবেশ, উইকেটের মান আর খেলার জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিয়ে সন্তুষ্টির কথা জানিয়েছেন ক্রিকেটের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা।

টস-পরবর্তী শুরুতে বল হাতে মাঠে নামে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তবে প্রথম দিনটি ছিল বিসিবি একাদশের ব্যাটারদের। কালাম সিদ্দিকীর দুর্দান্ত শতক, সঙ্গে জিশান আলম ও চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ানের হাফসেঞ্চুরিতে ভর করে ৯০ ওভার শেষে ৭ উইকেটে ৩৭১ রান তোলে স্বাগতিক একাদশ। কালামের ব্যাট থেকে আসে ১৩৫ রান, জিশান করেন ৮৬ আর রিজওয়ানের সংগ্রহ ৫৯। সারা দিন বোলিং করার ফাঁকে আনভীর ক্রিকেট স্টেডিয়ামের পরিবেশও উপভোগ করেছেন ক্যারিবীয় ক্রিকেটাররা।

মাঠে বসে প্রস্তুতি ম্যাচটি দেখেছেন জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক হাবিবুল বাশার, যিনি বিসিবির প্রধান নির্বাচকের দায়িত্বও পালন করেছেন। স্টেডিয়ামের উইকেট দেখে তিনি সন্তুষ্ট। তাঁর মূল্যায়ন, মানের বিচারে আনভীরের উইকেট বেশ ভালো এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেট আয়োজনের উপযোগী।

ক্যারিবীয় বোলিং সামলে সাবলীল ভঙ্গিতে খেলে গেছেন কালাম সিদ্দিকী অলিন। এই ইনিংসেই এল তাঁর ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি। ১৩৫ রান করতে তিনি খেলেছেন ১৮৪ বল, মেরেছেন ২০টি চার ও একটি ছক্কা। উইকেট নিয়ে কালামের মন্তব্যও ইতিবাচক। তিনি বলেন, ব্যাট করার জন্য উইকেট বেশ ভালো ছিল; স্পিনাররা এখানে সহায়তা পেয়েছেন, আবার পেসারদের জন্যও সুযোগ ছিল।

টেস্ট মর্যাদাপ্রাপ্ত কোনো দলের খেলা এই মাঠে এবারই প্রথম। তবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের স্বাদ আগেই পেয়েছে স্টেডিয়ামটি। গত আগস্টে আইসিসির সহযোগী সদস্য মালয়েশিয়া এখানে তিনটি ওয়ানডে খেলে যায়। দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটের গুরুত্বপূর্ণ আসর ঢাকা প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগেরও বেশ কয়েকটি ম্যাচ হয়েছে এই ভেন্যুতে।

স্টেডিয়ামটিকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের পূর্ণাঙ্গ ভেন্যুতে রূপ দিতে কাজ চলছে সমান তালে। এবিজি স্পোর্টস সিটির পরিচালক ইমরুল হাসান জানান, আনভীর ক্রিকেট স্টেডিয়ামে এরই মধ্যে বসানো হয়েছে ফ্লাডলাইট, শেষ হয়েছে গ্যালারি নির্মাণের কাজও।

শুধু ক্রিকেট নয়, ফুটবলসহ নানা খেলার অবকাঠামো তৈরির উদ্যোগও নিয়েছে এবিজি স্পোর্টস সিটি। কমপ্লেক্সটিতে বাস্কেটবল, স্কোয়াশ, প্যাডেল টেনিস, ফুটসাল ও সাঁতারের ব্যবস্থা রয়েছে। জুলকারনাইন বক্সিং ও স্কোয়াশে আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের আয়োজনও হয়েছে এখানে।

পরিচালক ইমরুল হাসানের ভাষ্য, এবিজি স্পোর্টস সিটিকে দেশের একটি পূর্ণাঙ্গ ক্রীড়া কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছেন তাঁরা। দেশের তরুণদের খেলাধুলায় যুক্ত রাখা আর আন্তর্জাতিক মানের একটি স্পোর্টস হাব তৈরি করাই তাঁদের প্রধান লক্ষ্য বলে জানান তিনি। তাঁর কথায়, এখান থেকে বেরিয়ে আসা ক্রীড়াবিদরা যাতে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করতে পারেন, সেই উদ্দেশ্য সামনে রেখেই কাজ এগোচ্ছে।

সামনের দিনগুলোতে এবিজি স্পোর্টস সিটিতে শুটিং ইভেন্ট আয়োজনের পরিকল্পনাও আছে। নানা খেলার উপযোগী অবকাঠামো তৈরি এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা আয়োজনের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠানটিকে দেশের ক্রীড়াঙ্গনের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে দাঁড় করানোর চেষ্টা চলছে।



কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ