২৬ অক্টোবর ২০২৬ , ১১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

সহযোগী গ্রেপ্তার, মুঠোফোন জব্দ

​নবীগঞ্জে থানা হাজতে আসামির ভিডিও, দুই পুলিশ ক্লোজড

আপলোড সময় : ২৫-১০-২০২৬
​নবীগঞ্জে থানা হাজতে আসামির ভিডিও, দুই পুলিশ ক্লোজড সংগৃহীত ছবি

মো. গোলাম রহমান লিমন, প্রতিনিধি নবীগঞ্জ (হবিগঞ্জ): হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ থানা হাজতখানায় থাকা এক আসামির ভিডিও গোপনে ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় তাঁর সহযোগী শাহ জুয়েলকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। 

একই ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে থানার তৎকালীন ডিউটি অফিসার উপপরিদর্শক (এসআই) মেহেদী হাসান ও নারী কনস্টেবল আফসানা আক্তারকে প্রত্যাহার করে হবিগঞ্জ পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে। গ্রেপ্তার শাহ জুয়েল নবীগঞ্জ উপজেলার আউশকান্দি ইউনিয়নের উমরপুর গ্রামের বাসিন্দা।

পুলিশ ও থানা সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) দুপুরে নবীগঞ্জ উপজেলার আউশকান্দি ইউনিয়নের উমরপুর এলাকা থেকে শাহ তপুকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাঁকে নবীগঞ্জ থানার হাজতখানায় রাখা হয়।

পুলিশ সূত্র জানায়, শাহ তপুকে গ্রেপ্তারের পর তাঁর সহযোগী শাহ জুয়েল থানায় যান। একপর্যায়ে হাজতখানায় থাকা শাহ তপুর ভিডিও মুঠোফোনে ধারণ করেন তিনি। পরে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।

ভিডিওটি পুলিশের নজরে আসার পর নবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুল হোসেনের নির্দেশনায় অভিযান চালিয়ে শাহ জুয়েলকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাঁর ব্যবহৃত মুঠোফোনটি জব্দ করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, ওই মুঠোফোনে ধারণ করা ভিডিওসহ সংশ্লিষ্ট আলামত পাওয়া গেছে। পরে তাঁকে শাহ তপুর বিরুদ্ধে করা একই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হয়।

এদিকে থানার হাজতখানার মতো সুরক্ষিত ও স্পর্শকাতর স্থানে একজন বহিরাগত কীভাবে প্রবেশ করে মুঠোফোনে ভিডিও ধারণের সুযোগ পেলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পুলিশের হেফাজতে থাকা একজন আসামির ভিডিও ধারণের সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্যদের নজরদারিতে কোনো ঘাটতি ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ঘটনার সময় দায়িত্বে থাকা ডিউটি অফিসার এসআই মেহেদী হাসান ও নারী কনস্টেবল আফসানা আক্তারকে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে নবীগঞ্জ থানা থেকে প্রত্যাহার করে হবিগঞ্জ পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে।

নবীগঞ্জ থানার ওসি মো. আবুল হোসেন বলেন, থানার হাজতখানার মতো স্পর্শকাতর স্থানে অনুমতি ছাড়া ভিডিও ধারণ করা গুরুতর অপরাধ। এ ঘটনায় শাহ জুয়েলকে মুঠোফোনসহ গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সময় দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যদের কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্তের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তবে থানার হাজতখানার নিরাপত্তাব্যবস্থা অতিক্রম করে কীভাবে ভিডিও ধারণের সুযোগ তৈরি হলো এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যদের নজরদারিতে কোথায় ঘাটতি ছিল—এসব প্রশ্নের উত্তর তদন্তের মাধ্যমেই স্পষ্ট হবে।


কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ