২৭ অক্টোবর ২০২৬ , ১১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

উজিরপুরে যুবদল নেতাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তার ৯

বিশেষ প্রতিনিধি
আপলোড সময় : ২৫-১০-২০২৬
উজিরপুরে যুবদল নেতাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তার ৯ ছবিঃ সংগৃহীত

বরিশালের উজিরপুরে কাওসার হাওলাদার নামে এক যুবদল নেতাকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় ৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাতে উপজেলার সাতলা ইউনিয়নের একটি সেতুর ওপর এ হামলার ঘটনা ঘটে। স্বজনদের অভিযোগ, তুচ্ছ ঘটনা ও পূর্ববিরোধের জেরে স্থানীয় কয়েকজন ভাড়াটে সন্ত্রাসী দিয়ে পরিকল্পিতভাবে কাওসারকে হত্যা করা হয়েছে।

নিহত কাওসার হাওলাদার সাতলা ইউনিয়নের আলামদী গ্রামের মো. মোনাসেফ হাওলাদারের ছেলে। শনিবার (২৪ অক্টোবর) দুপুর ২টায় উজিরপুর মডেল থানায় সংবাদ সম্মেলনে হত্যাকাণ্ডের বিবরণ তুলে ধরেন সহকারী পুলিশ সুপার (উজিরপুর সার্কেল) সৌমেন কুমার বাইন।

নিহত কাওসারের চাচাতো ভাই ও সাতলা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. রাসেদ আমিন জানান, শুক্রবার সকালে সাতলার একতা বাজারে কাওসারের সঙ্গে নান্নু মোল্লার হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। মাদকসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে এ ঘটনা ঘটে বলে তিনি দাবি করেন। পরে মামলা করার চেষ্টা ব্যর্থ হলে কাওসারকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয় বলে অভিযোগ তাঁর।

রাসেদ আমিনের ভাষ্য অনুযায়ী, রাত ৯টার দিকে তিনি, কাওসারসহ চার-পাঁচজন সাতলা সেতুর ওপর বসে আড্ডা দিচ্ছিলেন। এ সময় একটি মাইক্রোবাস ও মোটরসাইকেলে করে একদল অস্ত্রধারী তাঁদের ঘিরে ধরে। মাইক্রোবাস থেকে সজল মোল্লা, শামীম মোল্লা, মেহেদী মোল্লা, কাঞ্চন মোল্লা ও সাইফুল বালিসহ আট থেকে ১০ জন নেমে তাঁদের মারধর শুরু করেন। একপর্যায়ে কাওসারকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করা হয়। আহত অবস্থায় প্রাণ বাঁচাতে কাওসার পাশের বাড়ির হাবিব হাওলাদারের ঘরে আশ্রয় নেন। অভিযোগ রয়েছে, হামলাকারীরা ওই বাড়িতে ঢুকে দরজা ভেঙে তাঁকে আবারও কুপিয়ে হত্যা করে। পরে স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

হত্যাকাণ্ডের পরপরই অভিযান চালিয়ে পদ্মা সেতুর টোল প্লাজা থেকে ঘটনায় ব্যবহৃত মাইক্রোবাসটি আটক করে পুলিশ। এ সময় বিভিন্ন এলাকার নয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন সজল মোল্লা, শামীম মোল্লা, তরিকুল ইসলাম, সোহাগ, সাগর শেখ, হাসিব শেখ, হাবিব শেখ, মাহাবুবুর রহমান ও শরীফ হোসেন।

উজিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রকিবুল ইসলাম জানান, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে। সহকারী পুলিশ সুপার সৌমেন কুমার বাইন বলেন, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং অল্প সময়ের মধ্যে সন্দেহভাজনদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে।

এদিকে নিহত কাওসারের মেজ ভাই মোস্তফা হাওলাদার বাদী হয়ে উজিরপুর মডেল থানায় হত্যা মামলা করেছেন। মামলায় ১৫ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাতনামা আরও আট থেকে ১০ জনকে আসামি করা হয়েছে।



কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ