২৭ অক্টোবর ২০২৬ , ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

ভালোবাসা ও বিশ্বাস থেকেই ইসলাম ধারণ করেছি’: কনকচাঁপা

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপলোড সময় : ২৭-১০-২০২৬
ভালোবাসা ও বিশ্বাস থেকেই ইসলাম ধারণ করেছি’: কনকচাঁপা ছবিঃ সংগৃহীত

নিজের ধর্মীয় বিশ্বাস, ইসলামচর্চা ও মানবতা নিয়ে স্পষ্ট অবস্থান তুলে ধরেছেন জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী রুমানা মোর্শেদ কনকচাঁপা। মুসলমান হিসেবে ইসলাম ধর্মের প্রতি গভীর ভালোবাসা এবং ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলার বিষয়ে নিজের ভাবনা জানিয়ে রোববার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি দীর্ঘ পোস্ট দিয়েছেন তিনি। পোস্টে নিজের পরিচয়, পারিবারিক শিক্ষা, ধর্মীয় বিশ্বাস এবং মানবসেবার সঙ্গে ধর্মচর্চার সম্পর্ক নিয়ে বিস্তারিত লিখেছেন এই শিল্পী।

পোস্টের শুরুতে কনকচাঁপা নিজেকে বাংলাদেশের একজন সচেতন নাগরিক ও গর্বিত মুসলমান হিসেবে পরিচয় দেন। সংগীতজগতের সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততা এবং ভক্তদের প্রতি ভালোবাসার কথাও তুলে ধরেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, ভক্তদের তিনি নিজের ভালোবাসার প্রতিচ্ছবি মনে করেন এবং তাঁদের যথেষ্ট সম্মান করেন।

নিজের পারিবারিক পরিচয় তুলে ধরে কনকচাঁপা জানান, তাঁর বাবা আজিজুল হক মোর্শেদ বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপপরিচালক ছিলেন। তিনি ছিলেন নানা বিষয়ে আগ্রহী একজন মানুষ। তাঁর মা মোমেনা জাহান ইসলামি চিন্তাবিদ ও সমাজসেবক। তাঁদের আদি নিবাস সিরাজগঞ্জের কাজীপুর হলেও কনকচাঁপার জন্ম ও বেড়ে ওঠা ঢাকায়। তাঁর স্বামী মইনুল ইসলাম খান একজন সুরকার ও সংগীত পরিচালক। পড়াশোনা এবং পৃথিবীর নানা বিষয় সম্পর্কে জানার প্রতিও তাঁর গভীর আগ্রহ রয়েছে বলে জানান এই শিল্পী।

নিজের ধর্মীয় বিশ্বাসের বিষয়ে কনকচাঁপা লেখেন, অন্য সব ধর্মের প্রতি তাঁর সম্মান রয়েছে। তবে নিজের ধর্ম ইসলাম, সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ এবং মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি তাঁর ভালোবাসা ও বিশ্বাস গভীর। নিজের এই বিশ্বাস প্রকাশ করতে কোনো সংকোচ নেই বলেও উল্লেখ করেন তিনি। পরকাল, কিয়ামত, বিচার দিবস এবং জান্নাতের প্রতি বিশ্বাসের কথাও তুলে ধরেন এই কণ্ঠশিল্পী।

ইসলাম ও মহানবীকে নিয়ে কটাক্ষের প্রসঙ্গেও নিজের মতামত জানিয়েছেন কনকচাঁপা। তাঁর মতে, এ ধরনের আচরণে ইসলাম বা মহানবীর মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয় না। ধর্মীয় আদবকেতা নিয়ে বিদ্রূপকারীদের কথাকেও তিনি গুরুত্ব দিতে চান না বলে পোস্টে উল্লেখ করেন।

ধর্মীয় জ্ঞান অর্জনের ক্ষেত্রে পবিত্র কোরআন পাঠের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন কনকচাঁপা। তিনি জানান, আরবিতে কোরআন পড়ার পাশাপাশি বাংলায়ও পড়েন, যাতে এর অন্তর্নিহিত অর্থ আরও ভালোভাবে বুঝতে পারেন। নিয়মিত পড়াশোনার মাধ্যমে ধর্মীয় গ্রন্থের অর্থ ও তাৎপর্য জানার চেষ্টা করেন তিনি।

মানবতা ও ধর্মের সম্পর্ক নিয়েও নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন এই শিল্পী। তাঁর মতে, মানুষের মধ্যে মানবিক গুণ থাকা জরুরি। তবে ধর্মীয় বিশ্বাস বজায় রেখে মানবসেবায় যুক্ত হতেও কোনো বাধা নেই। মানবতার কথা বলে ধর্মীয় বিধিবিধান এড়িয়ে চলার প্রবণতার সমালোচনাও করেছেন তিনি।



কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ