২৯ অক্টোবর ২০২৬ , ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

সোনারগাঁয়ে সেতুর অপেক্ষায় ১০ গ্রামের মানুষ, ভরসা বাঁশের সাঁকো

বিশেষ প্রতিনিধি
আপলোড সময় : ২৯-১০-২০২৬
সোনারগাঁয়ে সেতুর অপেক্ষায় ১০ গ্রামের মানুষ, ভরসা বাঁশের সাঁকো ছবিঃ সংগৃহীত

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে ব্রহ্মপুত্র নদীর ওপর স্থায়ী সেতু না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন অন্তত ১০ গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ। যাতায়াতের বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে বাঁশের সাঁকো দিয়ে নদী পার হতে হচ্ছে তাঁদের। বর্ষায় সাঁকো পানির নিচে চলে গেলে নৌকায় পারাপারই হয়ে ওঠে একমাত্র উপায়। এতে শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে কৃষক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ যাত্রীদের ভোগান্তি বাড়ে।স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সোনারগাঁ উপজেলার সাদিপুর ইউনিয়নের গুলনগর ও সনমান্দী ইউনিয়নের কুমারচর গ্রামের মাঝ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে ব্রহ্মপুত্র নদী। পঞ্চমীঘাট বাজারসংলগ্ন এই অংশে সেতু না থাকায় কুমারচর, জোয়ারদী, দৌলরদী, ফতেপুর, গাংকুলকান্দি, দড়িকান্দি ও সাজালেরকান্দীসহ আশপাশের অন্তত ১০ গ্রামের মানুষকে বিকল্প পথে চলাচল করতে হচ্ছে। শুষ্ক মৌসুমে স্থানীয় বাসিন্দারা নিজেদের উদ্যোগে বাঁশের সাঁকো তৈরি করেন। কিন্তু বর্ষায় নদীতে পানি বাড়লে সাঁকোটি তলিয়ে যায়। তখন নৌকায় করে নদী পার হতে হয়। এতে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, কৃষিপণ্য নিয়ে চলাচলকারী কৃষক, ব্যবসায়ী এবং জরুরি প্রয়োজনে যাতায়াত করা মানুষের দুর্ভোগ বেড়ে যায়। বিশেষ করে অসুস্থ রোগী ও অন্তঃসত্ত্বা নারীদের নদী পারাপারে পড়তে হয় বাড়তি ঝুঁকিতে।কুমারচর গ্রামের বাসিন্দা আবদুল হক বলেন, নদী পার হয়ে বাজারে যাতায়াত এবং কৃষিপণ্য আনা-নেওয়া করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত সমস্যায় পড়তে হয়। ফসল নিয়ে সরু বাঁশের সাঁকো পার হওয়া অত্যন্ত কষ্টকর। তাঁর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে এই পথে চলাচল করতে গিয়ে অনেকে দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন। দৌলরদী গ্রামের বাসিন্দা সোহেল আরমান বলেন, কুমারচর-গুলনগর এলাকায় একটি সেতু নির্মাণের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে আবেদন-নিবেদন ও আন্দোলন করে আসছেন স্থানীয়রা। বিভিন্ন সময়ে জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্বাস পাওয়া গেলেও এখন পর্যন্ত সেতু নির্মাণের দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি।পঞ্চমীঘাট উচ্চবিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী জনি জানায়, প্রতিদিন সাইকেল কাঁধে নিয়ে বাঁশের সাঁকো পার হয়ে বিদ্যালয়ে যেতে হয় তাকে। এতে ভয় ও ঝুঁকি দুটোই থাকে। সেখানে একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ করা হলে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত যাতায়াত সহজ ও নিরাপদ হবে। এই বিষয়ে সোনারগাঁ উপজেলার (এলজিইডি) প্রকৌশলী মো. সোহেল হোসেন বলেন, স্থানীয় সংসদ সদস্যের নির্দেশনায় ব্রহ্মপুত্র নদীর ওপর সেতু নির্মাণের একটি প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী অর্থবছরে প্রকল্পটি অনুমোদন পেতে পারে।দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেতে দ্রুত সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের মতে, সেতুটি নির্মিত হলে কয়েকটি গ্রামের মানুষের যাতায়াত সহজ হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষা, কৃষি ও স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।



কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ