২৯ অক্টোবর ২০২৬ , ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

অন্য সব আমলের বিচার নির্ভর করবে নামাজের ওপর

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপলোড সময় : ২৯-১০-২০২৬
অন্য সব আমলের বিচার নির্ভর করবে নামাজের ওপর ছবিঃ সংগৃহীত

মুমিনের জীবনে যে কটি ইবাদত সবচেয়ে বড়, নামাজ তার একটি। রবের সঙ্গে বান্দার সম্পর্ক সবচেয়ে গভীরভাবে ধরা পড়ে এখানেই। কেউ নামাজের প্রতি কতটা যত্নশীল, তাতেই বোঝা যায় তার ইমান আর আল্লাহর প্রতি আনুগত্য কেমন। কোরআন ও হাদিসে নামাজের গুরুত্ব নিয়ে পরিষ্কার নির্দেশনা যেমন এসেছে, তেমনি এসেছে কড়া সতর্কবার্তাও।

নামাজ যেন সব সময় ঠিকঠাক আদায় হয়, সে বিষয়ে আল্লাহ তাআলা কোরআনে বলেছেন, ‘তোমরা নামাজের প্রতি পুরোপুরি যত্নবান থেকো এবং (বিশেষভাবে) মধ্যবর্তী নামাজের প্রতি। আর আল্লাহর সামনে আদবের সঙ্গে অনুগত হয়ে দাঁড়াও।’ (সুরা বাকারা: ২৩৮)

মুমিনের ইমান ও সফলতার পরিচয়

ইমান, সৎকর্ম, নামাজ ও জাকাতকে একসঙ্গে উল্লেখ করে কোরআনে বলা হয়েছে, ‘যারা ইমান আনে, সৎকর্ম করে, নামাজ কায়েম করে এবং জাকাত দেয়, তাদের জন্য তাদের প্রতিপালকের কাছে রয়েছে প্রতিদান। তাদের কোনো ভয় নেই এবং তারা কোনো দুঃখও পাবে না।’ (সুরা বাকারা: ২৭৭)

প্রকৃত মুমিন কারা, সে পরিচয়ও দেওয়া হয়েছে অন্য এক আয়াতে: ‘যারা নামাজ কায়েম করে এবং আমি তাদের যে রিজিক দিয়েছি, তা থেকে (আল্লাহর পথে) ব্যয় করে, এরাই প্রকৃত মুমিন। তাদের জন্য তাদের প্রতিপালকের কাছে রয়েছে উচ্চ মর্যাদা, ক্ষমা ও সম্মানজনক রিজিক।’ (সুরা আনফাল: ৩-৪)

আখিরাতে প্রথম হিসাব হবে নামাজের

কিয়ামতের দিন বান্দার আমলনামা খোলা হবে নামাজ দিয়ে। অন্য আমলের বিচারও ঠিক হবে এর ভিত্তিতে। আবু হুরায়রা (রা.) জানিয়েছেন, তিনি রাসুল (সা.)-কে বলতে শুনেছেন, ‘কিয়ামতের দিন বান্দার আমলের মধ্যে সর্বপ্রথম হিসাব নেওয়া হবে নামাজের। যদি তা সঠিক বলে গণ্য হয়, তবে সে হবে কল্যাণপ্রাপ্ত ও সফলকাম। আর যদি তা সঠিক বলে গণ্য না হয়, তবে সে হবে বিফল ও ক্ষতিগ্রস্ত।’ (জামে তিরমিজি: ৪১৩)

নামাজে অবহেলার পরিণতি

যারা নামাজে গাফিলতি করে, তাদের ব্যাপারে রাসুল (সা.)-এর হুঁশিয়ারি অত্যন্ত কঠোর। তিনি বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি সঠিকভাবে নামাজ আদায় করবে, তার জন্য নামাজ কিয়ামতের দিন নুর ও দলিলরূপে আত্মপ্রকাশ করবে। আর যে ব্যক্তি তা সঠিকভাবে পালন করবে না, কিয়ামতের দিন তার পক্ষে কোনো নুর থাকবে না, দলিলও থাকবে না আর সেদিন তার নাজাতের কোনো উপায় থাকবে না। সেদিন সে কারুন, ফেরাউন, হামান ও উবাই ইবনে খালাফের সঙ্গে থাকবে।’ (মুসনাদ আহমাদ: ৬৫৭৬)



কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ