৩০ অক্টোবর ২০২৬ , ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬

বসুন্ধরা ফাউন্ডেশনের ঋণ বিতরণ: এক দিনে ৩০ লাখ টাকা পেলেন প্রান্তিক নারীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপলোড সময় : ৩০-১০-২০২৬
বসুন্ধরা ফাউন্ডেশনের ঋণ বিতরণ: এক দিনে ৩০ লাখ টাকা পেলেন প্রান্তিক নারীরা ছবি: সংগৃহীত
৮৫তম ঋণ বিতরণ কর্মসূচিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরের ১৬৮ জন সুবিধাবঞ্চিত নারীর হাতে ৩০ লাখ টাকা তুলে দিয়েছে বসুন্ধরা ফাউন্ডেশন। এই ঋণের বিপরীতে কাউকে সুদ বা সার্ভিস চার্জ গুনতে হবে না, জামানতও রাখতে হয়নি। গ্রামের নারীদের আত্মনির্ভর করে তোলার লক্ষ্যে দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠী বসুন্ধরা গ্রুপ দুই দশক ধরে এই ব্যতিক্রমী মানবিক কার্যক্রম চালিয়ে আসছে, যার ভূমিকা এখন সর্বজনস্বীকৃত। ঋণ বিতরণের এই আয়োজন বসে উপজেলার আকানগর মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে। মো. চাঁনমিয়া সরকারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির আসন অলংকৃত করেন বসুন্ধরা গ্রুপের উপদেষ্টা ময়নাল হোসেন চৌধুরী এবং বসুন্ধরা ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এম নাছিমুল হাই। ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে ডিজিএম মাইমুন কবির ও ডেপুটি ম্যানেজার মোশাররফ হোসেন উপস্থিত ছিলেন; স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন। যাঁরা ঋণ পেয়েছেন, তাঁদের বাড়ি বাঞ্ছারামপুর ও নবীনগর উপজেলায়। একেকজন নারীর কাঁধে রয়েছে পুরো একটি পরিবারের ভার। অভাবের কারণে নিজের ইচ্ছেগুলো পূরণের আগেই বারবার থেমে যেতে হয়েছে তাঁদের। এ অবস্থায় বসুন্ধরা ফাউন্ডেশনের সহায়তা তাঁদের সামনে খুলে দিয়েছে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার। চড়া সুদ থেকে মুক্তির প্রসঙ্গ টেনে অনুষ্ঠানে এম নাছিমুল হাই বলেন, ‘চড়া সুদের ফাঁদ থেকে মুক্তি পেয়ে অসচ্ছল নারীরা আজ নিজেদের পায়ে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছেন। গ্রামীণ অর্থনীতিতেও এর ইতিবাচক পরিবর্তন আসছে। ঋণগ্রহীতাদের প্রতি আমার অনুরোধ, এই টাকা কোনো অবৈধ কাজে না লাগিয়ে সৎ পথে বৈধ আয় বৃদ্ধিতে বিনিয়োগ করুন।’ ঋণ কার্যক্রমের বাইরেও গ্রুপের নানা উদ্যোগ রয়েছে বলে উল্লেখ করেন উপদেষ্টা ময়নাল হোসেন চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘সুদ ও সার্ভিস চার্জমুক্ত ঋণ প্রকল্পের মাধ্যমে বসুন্ধরা গ্রুপ একটি অনন্য মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। শুধু ঋণ বিতরণ নয়, বরং শিক্ষাবৃত্তি, বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা, প্রশিক্ষণ, সেলাই মেশিন বিতরণ এবং নানা সামাজিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমেও গ্রুপটি মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে।’ ঋণের টাকা নিয়ে নিজেদের পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন কয়েকজন উপকারভোগী। পরিবারের আর্থিক অবস্থা ফেরানোই লক্ষ্য নবীনগর উপজেলার থোল্লাকান্দি গ্রামের শিল্পী আক্তারের। বাড়াইল গ্রামের মর্জিনা আক্তার টাকাটা কাজে লাগাবেন স্বামীর চাষাবাদে সহযোগিতায়। আর আকানগর গ্রামের গীতা রানী গতবারের মতো এবারও গরু কিনবেন, যাতে সংসারে আয় বাড়ে। ফাউন্ডেশনের দেওয়া হিসাব বলছে, এবার মোট চারটি ধাপে ১৬৮ জনকে দেওয়া হয়েছে ৩০ লাখ টাকা। প্রথম ধাপের ৫০ জন ১৫ হাজার টাকা করে পেয়েছেন; এ ধাপে বিতরণ হয়েছে ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা। একই হারে দ্বিতীয় ধাপে ২২ জনের মধ্যে বণ্টন করা হয়েছে ৩ লাখ ৩০ হাজার টাকা। তৃতীয় ধাপ থেকে ঋণের অঙ্ক বেড়ে দাঁড়ায় জনপ্রতি ২০ হাজার টাকায়—এ ধাপের ২১ জন মিলে পেয়েছেন ৪ লাখ ২০ হাজার টাকা। সবশেষ চতুর্থ ধাপে ২০ হাজার টাকা করে ৭৫ জনকে দেওয়া হয়েছে ১৫ লাখ টাকা। কোনো সুদ বা সার্ভিস চার্জ ছাড়া পরিচালিত এই কল্যাণধর্মী কর্মসূচি অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতার পথে গ্রামীণ নারীদের দারুণভাবে উৎসাহিত করছে।


কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ