ছবিঃ সংগৃহীত
হেপাটাইটিস বি থেকে কার্যকর নিরাময়ের সম্ভাবনা নিয়ে ‘বিপরোভারসেন’সহ নতুন চিকিৎসাপদ্ধতির ওপর আজ শনিবার বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএমইউ) একটি সেমিনার হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের পঞ্চম তলার লেকচার হলে হেপাটোলজি বিভাগ এর আয়োজন করে। একই অনুষ্ঠানে যথাযথ মর্যাদায় পালিত হয় প্রখ্যাত লিভার বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মবিন খানের দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী।
প্রধান অতিথি ছিলেন বিএমইউর উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী। বক্তব্যে তিনি জানান, অধ্যাপক ডা. মবিন খান ছিলেন তাঁর সরাসরি শিক্ষক, এফসিপিএস ডিগ্রি অর্জনে তিনিই অনুপ্রেরণা জুগিয়েছেন। ১৯৮৩ সালে আইপিজিএমআরে ইন্টার্নশিপের সময় তাঁর সঙ্গে পরিচয়। তখন অস্ট্রেলিয়া থেকে হেপাটোলজিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নিয়ে দেশে ফিরে হেপাটোলজি বিভাগ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন তিনি।
অধ্যাপক ডা. এফএম সিদ্দিকী বলেন, পরে অধ্যাপক মবিন খান ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে বদলি হন। দুই বছর পর আইপিজিএমআরে ফিরে হেপাটোলজি বিভাগ প্রতিষ্ঠার জন্য সংগ্রাম চালিয়ে যান তিনি।
সেমিনারের বিষয় নিয়ে উপাচার্যের মন্তব্য, কার্যকর নিরাময়ের সম্ভাবনা তৈরি করছে—এমন একটি ওষুধ সামনে আসায় তিনি আনন্দিত ও আশাবাদী। একসময় যা অবিশ্বাস্য মনে হতো, চিকিৎসাবিজ্ঞানের অগ্রগতিতে তা এখন বাস্তব সম্ভাবনা হয়ে দেখা দিচ্ছে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিএমইউর হেপাটোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মো. শাহিনুল আলম। অধ্যাপক ডা. মবিন খানকে অসাধারণ মানুষ হিসেবে স্মরণ করে তিনি বলেন, প্রতিদিন সকাল ৭টায় হাসপাতালে আসতেন মবিন খান। কর্মজীবনে হেপাটোলজিতে নতুন বিষয় ও কোর্স চালুর পাশাপাশি বিভিন্ন মেডিকেল কলেজে এ বিভাগ প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন তিনি।
অধ্যাপক শাহিনুল আলম আরও বলেন, লিভারের রোগ নিয়ে গবেষণায় এ বিভাগ কখনো পিছিয়ে থাকেনি, তারই ধারাবাহিকতায় এ সেমিনারের আয়োজন। রোগীদের চিকিৎসার খরচ কমানোর লক্ষ্যেই নতুন চিকিৎসাপদ্ধতি ও প্রটোকল নিয়ে আলোচনা হচ্ছে।
সেমিনারে ‘সাইলেন্সিং এইচবিভি, আনলকিং কিউর: দ্য প্রমিজ অব বিপরোভারসেন’ শিরোনামে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিএমইউর হেপাটোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. এসকে নাজমুল হাসান। ‘দ্য ফাংশনাল কিউর ট্রায়াল: বিপরোভারসেন ভার্সাস পেগিলেটেড ইন্টারফেরন’ শিরোনামে আরেকটি প্রবন্ধ তুলে ধরেন স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও মিটফোর্ড হাসপাতালের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. মো. ফরহাদ হোসেন।
মডারেটরের দায়িত্বে ছিলেন বিএমইউর হেপাটোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. সাইফুল ইসলাম এলিন। অধ্যাপক ডা. মবিন খানের বর্ণাঢ্য কর্মময় জীবন নিয়ে একটি প্রামাণ্যচিত্রও দেখান তিনি। স্বাগত বক্তব্য দেন ডা. তানভীর আহমাদ, আর অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ডা. তাহরিনা মাহাবুব।
বিশেষজ্ঞ প্যানেলে মত দেন বারডেমের হেপাটোলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. গোলাম আজম, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের হেপাটোলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের হেপাটোলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. আব্দুল্লাহ আল ফারুক, ঢাকা মেডিকেল কলেজের হেপাটোলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. এ.বি.এম. শাকিল গনি, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের হেপাটোলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. ফজল করিম, বিএমইউর গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. এ বি এম ছফিউল্লাহ ও অধ্যাপক ডা. জাহিদুর রহমান এবং মুগদা মেডিকেল কলেজের হেপাটোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. আসাদুজ্জামান।