ছবিঃ সংগৃহীত
প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের স্পিনারদের ঘূর্ণিতে দিশেহারা হয়ে পড়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তবে দ্বিতীয় ইনিংসে সেই স্পিন আক্রমণ সামলে দাপুটে ব্যাটিংয়ে মিরপুর টেস্টে ৮ উইকেটের জয় তুলে নিয়েছে ক্যারিবীয়রা। বাংলাদেশের দেওয়া ১৭০ রানের লক্ষ্য মাত্র ২ উইকেট হারিয়েই পেরিয়ে গেছে সফরকারীরা। ফলে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
চতুর্থ দিনেই ম্যাচের নিষ্পত্তি হলেও আম্পায়ারিং নিয়ে তৈরি হয়েছে বিতর্ক। দুই অনফিল্ড আম্পায়ার ভারতের নীতিন মেনন ও অস্ট্রেলিয়ার স্যাম নোগাস্কি বাংলাদেশের চারটি লেগ বিফোর উইকেটের আবেদন নাকচ করেন। পরে রিভিউতে দেখা যায়, চারবারই বল স্টাম্পে আঘাত করত। তবে আম্পায়ার্স কলের কারণে বেঁচে যান ক্যারিবীয় ব্যাটাররা।
১৭০ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসী ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। দুই ওপেনার ব্রেন্ডন কিং ও জন ক্যাম্পবেল উদ্বোধনী জুটিতে যোগ করেন ১১২ রান। বাংলাদেশের স্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজ ও তাইজুল ইসলামকে বেশ স্বাচ্ছন্দ্যে সামলান তাঁরা। শেষ পর্যন্ত ইনিংসের ২১তম ওভারের পঞ্চম বলে ক্যাম্পবেলকে বোল্ড করে জুটি ভাঙেন শরীফুল ইসলাম। ৫৫ বলে ৪৯ রান করে ফেরেন এই ওপেনার। এরপর চন্দরপল মাত্র ১ রান করে হাসান মাহমুদের বলে আউট হন। তবে তাতে জয়ের পথে কোনো বাধা তৈরি হয়নি। কাভেম হজকে সঙ্গে নিয়ে বাকি পথ সহজেই পাড়ি দেন ব্রেন্ডন কিং। তিনি ৮১ রানে অপরাজিত থাকেন। শেষ পর্যন্ত ৮ উইকেট হাতে রেখেই জয় নিশ্চিত করে সফরকারীরা। বাংলাদেশের হয়ে শরীফুল ইসলাম ও হাসান মাহমুদ একটি করে উইকেট নেন। এর আগে চতুর্থ দিনের সকালে ৬ উইকেটে ৭৯ রান নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসের ব্যাটিং শুরু করে বাংলাদেশ। আগের দিনের ১০৬ রানের লিডের সঙ্গে আরও কিছু রান যোগ করার প্রত্যাশা ছিল স্বাগতিকদের। কিন্তু দিনের শুরুতেই জাকের আলী অনিককে ফিরিয়ে সেই আশায় বাধা দেন জোমেল ওয়ারিক্যান। ২২ রান করা জাকেরের সঙ্গে নাঈম হাসানের ৩১ রানের জুটি ভাঙে তাঁর বলে। এরপর একই বোলারের শিকার হন হাসান মাহমুদ। নাঈমের সঙ্গে তাঁর জুটি থেকে আসে ২৬ রান। পরে তাইজুল ইসলাম ও শরীফুল ইসলামকে নিয়ে ছোট ছোট জুটি গড়ে দলের সংগ্রহ বাড়ানোর চেষ্টা করেন নাঈম।