ছবিঃ সংগৃহীত
ঢাকা জেলার কেরানীগঞ্জ একটি গুরুত্বপূর্ণ ও সম্ভাবনাময় জনপদ, বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে অবস্থিত। রাজধানী ঢাকার নিকটবর্তী হওয়ায় ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার, শিল্পকারখানা প্রতিষ্ঠা এবং আবাসন সম্প্রসারণের কারণে এ উপজেলার গুরুত্ব দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। কর্মসংস্থান, শিক্ষা, যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে কেরানীগঞ্জের রয়েছে ব্যাপক সম্ভাবনা। তবে দ্রুত নগরায়ণ ও জনসংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি এখানে যানজট, পরিবেশদূষণ, অপরিকল্পিত আবাসন এবং নাগরিক সেবার বৈষম্যের মতো বিভিন্ন সমস্যাও বিদ্যমান।
কেরানীগঞ্জের সুবিধাসমূহ: কেরানীগঞ্জের অন্যতম বড় সুবিধা হলো রাজধানী ঢাকার নিকটবর্তী অবস্থিত। এর ফলে স্থানীয় বাসিন্দারা চাকরি, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা ও উন্নত চিকিৎসাসেবার জন্য সহজেই রাজধানীতে যাতায়াত করতে পারেন।
এ উপজেলায় ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। বিভিন্ন বাজার, পাইকারি ব্যবসা, পোশাকশিল্প এবং অন্যান্য শিল্পপ্রতিষ্ঠান স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান ও আয়ের সুযোগ সৃষ্টি করেছে। পাশাপাশি ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্যও এখানে ব্যবসা সম্প্রসারণের অনুকূল পরিবেশ রয়েছে।
যোগাযোগব্যবস্থার দিক থেকেও কেরানীগঞ্জের অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ। সড়ক ও নৌপথের মাধ্যমে ঢাকা এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ রয়েছে। সড়ক অবকাঠামোর উন্নয়ন ও যোগাযোগব্যবস্থার আধুনিকায়ন এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে আরও গতিশীল করতে পারে। কেরানীগঞ্জের অসুবিধাসমূহ:
সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও কেরানীগঞ্জে বেশ কিছু সমস্যা রয়েছে। এর মধ্যে যানজট অন্যতম। জনসংখ্যা ও যানবাহনের সংখ্যা বৃদ্ধি, অপরিকল্পিত সড়ক ব্যবহার এবং বাণিজ্যিক কার্যক্রমের চাপের কারণে বিভিন্ন এলাকায় যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। এ ছাড়া পরিবেশদূষণ, অপরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, খাল ও জলাশয় দখল এবং পানি নিষ্কাশনের দুর্বলতা জনজীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। কিছু এলাকায় বৃষ্টির সময় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়।
অন্যদিকে দ্রুত আবাসন সম্প্রসারণের ফলে কৃষিজমি ও জলাশয় কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বৃদ্ধি পেলেও সর্বত্র মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। একইভাবে প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের জন্য উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করাও একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ।
সর্বশেষ বলা যায় যে কেরানীগঞ্জের ভৌগোলিক অবস্থান, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্পায়ন ও যোগাযোগব্যবস্থার কারণে এ উপজেলার উন্নয়নের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সেই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে হলে পরিকল্পিত নগরায়ণ, যানজট নিরসন, পরিবেশ সংরক্ষণ, শিক্ষার মানোন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবার সম্প্রসারণ এবং নাগরিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করেন সচেতন মহল।
সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, সামাজিক সংগঠন, ব্যবসায়ী সমাজ এবং সাধারণ জনগণের সম্মিলিত উদ্যোগ ও দায়িত্বশীল ভূমিকা থাকলে কেরানীগঞ্জকে একটি পরিচ্ছন্ন, আধুনিক, নিরাপদ, শিক্ষাবান্ধব ও বাসযোগ্য জনপদ হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব বলে জানান এলাকার শিক্ষা ও সামাজিক ব্যক্তিবর্গ।