০২ নভেম্বর ২০২৬ , ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬

সুলায়মানিয়া জয় করে দেশে ফিরল বাংলাদেশের আর্চারি দল

ক্রীড়া ডেস্ক
আপলোড সময় : ০২-১১-২০২৬
সুলায়মানিয়া জয় করে দেশে ফিরল বাংলাদেশের আর্চারি দল ছবিঃ সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক আর্চারিতে আরও একটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে বাংলাদেশ। ইরাকের সুলায়মানিয়ায় অনুষ্ঠিত এশিয়া কাপ আর্চারি ওয়ার্ল্ড র‍্যাঙ্কিং টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় ধাপে ৩টি স্বর্ণ, ৩টি রৌপ্য ও ৪টি ব্রোঞ্জসহ মোট ১০টি পদক জিতেছে বাংলাদেশের আর্চাররা। প্রতিযোগিতা শেষে রোববার (১ নভেম্বর) ভোরে দেশে ফিরেছে জাতীয় আর্চারি দল।

ভোর ৪টা ৪৫ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে আর্চারদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। বাংলাদেশ আর্চারি ফেডারেশনের সভাপতি ও ওয়ার্ল্ড আর্চারি এশিয়ার সভাপতি কাজী রাজীব উদ্দীন আহমেদ চপল তাঁদের স্বাগত জানান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. মাহফুজুল আলম খান, ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক তানভীর আহমেদ, যুগ্ম সম্পাদক মো. রুবেল হোসেন ও সোহেল হোসেলসহ ক্রীড়াসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

গত ২৪ থেকে ২৯ অক্টোবর অনুষ্ঠিত এই প্রতিযোগিতায় রিকার্ভ ও কম্পাউন্ড—উভয় বিভাগেই নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন বাংলাদেশের আর্চাররা। এবারের আসরে সবচেয়ে বড় অর্জন এসেছে রিকার্ভ পুরুষ দলীয় ইভেন্টে। কাজাখস্তানকে ৬-২ সেট পয়েন্টে হারিয়ে এশিয়া কাপে প্রথমবারের মতো এই বিভাগে স্বর্ণপদক জেতে বাংলাদেশ। আব্দুর রহমান আলিফ, মো. সাগর ইসলাম ও আবদুল্লাহ আল মোহাম্মদ রাফির সমন্বয়ে গড়া দলটি এই সাফল্য এনে দেয়। কম্পাউন্ড নারী দলীয় ইভেন্টেও স্বর্ণপদক জিতেছে বাংলাদেশ। বন্যা আক্তার, শ্রীপর্ণা বিশ্বাস ও কুলসুম আক্তার মনির দল কাজাখস্তানকে ২৩০-২২০ স্কোরে হারিয়ে শিরোপা নিশ্চিত করে। ব্যক্তিগত ইভেন্টেও সাফল্য পেয়েছেন বন্যা আক্তার। কম্পাউন্ড নারী ব্যক্তিগত বিভাগে কাজাখস্তানের মিলানা বুরলেভাকে ১৪৫-১৪৩ স্কোরে হারিয়ে স্বর্ণ জেতেন তিনি। এশিয়া কাপে এটি তাঁর প্রথম ব্যক্তিগত স্বর্ণপদক।

দেশে ফিরে নিজের অনুভূতি জানিয়ে বন্যা আক্তার বলেন, এই অর্জন তাঁকে আরও বড় স্বপ্ন দেখতে অনুপ্রাণিত করবে। বিশ্বকাপ, বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ ও অলিম্পিকের মতো বড় আসরে ভালো করার আত্মবিশ্বাস জোগাবে এবারের সাফল্য। অন্যদিকে রিকার্ভ পুরুষ দলের স্বর্ণজয়ী আর্চাররা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিনের পরিশ্রম ও প্রস্তুতির ফল এই অর্জন। ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক মঞ্চে আরও বড় সাফল্য অর্জনের প্রত্যাশাও তাঁদের।

দলের টিম ম্যানেজার তাজুল হোসেন বাপ্পী আন্তর্জাতিক মানের প্রস্তুতি ও নিয়মিত প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তাঁর মতে, আর্চারির মতো মনোযোগ ও মানসিক দৃঢ়তানির্ভর খেলায় ভালো ফল পেতে প্রয়োজন উপযুক্ত প্রশিক্ষণ পরিবেশ, পর্যাপ্ত অনুশীলন এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় নিয়মিত অংশ নেওয়ার সুযোগ। প্রধান কোচ মার্টিন ফ্রেডরিক জানান, এবারের দলে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক তরুণ আর্চারকে রাখা হয়েছিল। বিশেষ করে অনূর্ধ্ব-২১ ও অনূর্ধ্ব-১৮ পর্যায়ের খেলোয়াড়দের আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই দল গঠন করা হয়। বড় দর্শকের সামনে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার ফাইনালে খেলার অভিজ্ঞতা তরুণদের আত্মবিশ্বাস ও দক্ষতা বাড়াতে সহায়ক হবে বলে মনে করেন তিনি।

এদিকে দেশের ক্রীড়াবিদদের আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও প্রতিযোগিতামূলক করে তুলতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেছেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. মাহফুজুল আলম খান। তিনি জানান, প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রায় ৩০০ ক্রীড়াবিদকে মাসিক এক লাখ টাকা করে ক্রীড়া ভাতা দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি তৃণমূল পর্যায় থেকে প্রতিভা অন্বেষণের মাধ্যমে নির্বাচিত খেলোয়াড়দের শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের দায়িত্ব নিচ্ছে সরকার, যার আওতায় তাঁদের বিকেএসপিতে সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার বার্ষিক সূচির সঙ্গে সমন্বয় করে ফেডারেশনগুলোর বছরব্যাপী প্রশিক্ষণ পরিকল্পনা তৈরির উদ্যোগের কথাও জানান ভারপ্রাপ্ত সচিব। তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য শুধু আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা নয়, বরং খেলোয়াড়দের মধ্যে পদক জয়ের সক্ষমতা তৈরি করা।



কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ