০৩ নভেম্বর ২০২৬ , ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬

আগাম মজুরি বোর্ডের পরও সহিংসতা, পেছনে আওয়ামী লীগের অর্থের যোগ থাকতে পারে: তথ্য উপদেষ্টা

বিশেষ প্রতিনিধি
আপলোড সময় : ০৩-১১-২০২৬
আগাম মজুরি বোর্ডের পরও সহিংসতা, পেছনে আওয়ামী লীগের অর্থের যোগ থাকতে পারে: তথ্য উপদেষ্টা ছবিঃ সংগৃহীত

নির্ধারিত সময়ের আগেই মজুরি বোর্ড গঠনের পরও পোশাক খাতের চলমান আন্দোলনে সহিংসতা ও নাশকতার পেছনে কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের লুটপাটের অর্থ বিনিয়োগের সংযোগ থাকতে পারে বলে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। শ্রমিকদের জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই সরকার সময়ের আগে বোর্ডটি গঠন করেছে বলে জানান তিনি।

আজ মঙ্গলবার সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে সাপ্তাহিক প্রেস ব্রিফিং চলাকালে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে উপদেষ্টা এসব কথা বলেন।

পোশাক খাতের আন্দোলন ও নাশকতা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান, শ্রমিকদের ন্যায্য দাবির প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই আগে থেকে ঠিক করা সময়ের আগে মজুরি বোর্ড করা হয়েছে, ফলে শ্রমিকদের মূল আন্দোলন বা দাবির যৌক্তিকতা এখন আর থাকার কথা নয়। এর মধ্যেও যারা সহিংস আচরণে জড়াচ্ছে, সাধারণ শ্রমিকদের সঙ্গে তাদের কোনো সম্পৃক্ততা থাকতে পারে না বলে মনে করেন তিনি।

গোয়েন্দা তথ্যের বরাত দিয়ে উপদেষ্টা বলেন, ফ্যাসিস্ট চক্র বা নিষিদ্ধ দলটির হাতে লুটপাটের প্রচুর টাকা রয়েছে, আর সেই টাকা খরচ করে কোথাও না কোথাও নাশকতা ঘটানোর অপচেষ্টা চলছে; এর সঙ্গে শ্রমিক আন্দোলনের সংযোগ থাকতে পারে। সরকার ও প্রশাসন কঠোরভাবে তা প্রতিহত করতে প্রস্তুত আছে বলেও জানান তিনি। তবে এর মানে যে ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার ফেরার পথ তৈরি করা হচ্ছে—সরকার এমনটা মনে করে না বলে স্পষ্ট করেন উপদেষ্টা।

শেখ হাসিনার দেশে ফেরা নিয়ে যে গুঞ্জন চলছে, সে বিষয়ে উপদেষ্টার বক্তব্য—আইনগত প্রক্রিয়া মেনে ফিরতে চাইলে সরকার তাঁর পথে কোনো বাধা হয়ে দাঁড়াবে না।

পুলিশ প্রসঙ্গে তিনি জানান, বিগত আমলের মতো নির্বিচারে বা মাত্রাতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগের সংস্কৃতি থেকে বাহিনীটিকে বের করে আনা হয়েছে। পরিস্থিতি সাপেক্ষে বলপ্রয়োগের আইনি অধিকার পুলিশের রয়েছে, তবে সেটি যেন সুনির্দিষ্ট নিয়মের ভেতরে থেকে নিশ্চিত করে পরিচালিত হয়—সে কথাও বলেন তিনি।

জ্বালানি ও রান্নার গ্যাসের (এলপিজি বা এলএনজি) দাম বাড়ানো নিয়ে এক প্রশ্নে উপদেষ্টা বলেন, বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম আর এলএনজি আমদানির খরচ—দুটোই অনেকখানি বেড়েছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সরকার রেকর্ড পরিমাণ ভর্তুকি দিয়ে যাচ্ছে। তবু অর্থনীতির ওপর বাড়তি চাপ এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের কথা বিবেচনায় রেখে সরকারকে কিছু অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে, যার চাপ কারো না কারো ওপর পড়ছে। তাঁর ভাষায়, “আমাদের মাথায় রাখতে হবে— ভর্তুকি দেওয়ার সামর্থ্য সরকারের ক্রমাগত কমছে।”

জনগণের দীর্ঘমেয়াদি কল্যাণ ও রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক সক্ষমতার কথা ভেবেই এসব পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. শাহ আলম এবং তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদও ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন।



কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ