ছবিঃ সংগৃহীত
মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলা ৫০ শয্যাবিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আজ হঠাৎ পরিদর্শনে গিয়ে নির্ধারিত সময়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাকে (ইউএইচএফপিও) কর্মস্থলে পাননি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তখন হাসপাতাল প্রাঙ্গণেই ওই কর্মকর্তার জন্য অপেক্ষা করেন মন্ত্রী।
দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে পরিদর্শনের সময় দুজন নার্সকে অন্যত্র বদলির নির্দেশ দেন তিনি। দেরিতে কর্মস্থলে আসায় ইউএইচএফপিও এবং কয়েকজন চিকিৎসকের বিরুদ্ধেও বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান মন্ত্রী।
পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকারের বিগত ১৭ বছরে জনগণের টাকা লুটপাট ও বিদেশে পাচার হওয়ায় স্বাস্থ্য খাতের অবস্থা শোচনীয় হয়ে পড়েছিল, আর সে কারণেই জনবল, টিকা ও ওষুধের তীব্র সংকট দেখা দেয়।
তিনি জানান, হাসপাতালের আউটসোর্সিং ব্যবস্থা আরও কার্যকর করতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং যেসব প্রতিষ্ঠানে জনবল কম, সেখানে ধাপে ধাপে জনবল বাড়ানো হবে। দুর্নীতি বন্ধ করে সীমিত বাজেটের সর্বোত্তম ব্যবহারের মাধ্যমেই এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
হাসপাতালগুলোতে দালাল চক্রের দৌরাত্ম্য ঠেকাতে জেলা প্রশাসকদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। কোথাও অনিয়ম ধরা পড়লে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
সরকারি হাসপাতালের এক কিলোমিটারের ভেতরে নতুন কোনো বেসরকারি হাসপাতাল বা ক্লিনিক খোলার অনুমতি মিলবে না বলে জানিয়ে তিনি বলেন, এরই মধ্যে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করে অনিয়ম পাওয়া গেলে সেগুলো বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে।
এরপর মন্ত্রী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট মাদারীপুর জেলা হাসপাতালও পরিদর্শন করেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন মাদারীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. জাহান্দার আলী মিয়া, জেলা প্রশাসক মর্জিনা আক্তার ও পুলিশ সুপার মো. ফজলে এলাহীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।