ছবিঃ সংগৃহীত
আট বছর আগে এশিয়ার শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করে দেশের ক্রিকেটে গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়ের সূচনা করেছিলেন বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটাররা। তবে মাঠের সেই সাফল্যের আড়ালে নারী ক্রিকেটারদের নিরাপত্তা ও কর্মপরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন এখনো রয়ে গেছে। সাবেক অধিনায়ক জাহানারা আলমের যৌন হয়রানির অভিযোগ এবং এ নিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) তদন্ত প্রতিবেদন ঘিরে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে ৭০ পৃষ্ঠার ওই তদন্ত প্রতিবেদন জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন বিসিবির আইনজীবী ব্যারিস্টার মাহিন এম রহমান।
বুধবার (৪ নভেম্বর) হাইকোর্টে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, আদালতের নির্দেশনা এবং বিসিবির নিজস্ব নীতিমালা অনুযায়ী তদন্ত প্রতিবেদনটি গোপন রাখা বাধ্যতামূলক। ভুক্তভোগী, অভিযোগকারী ও সাক্ষীদের পরিচয় সুরক্ষা এবং তাদের ব্যক্তিগত জীবন ও সম্মান রক্ষার স্বার্থেই প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হবে না।
জাহানারা আলমের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সাবেক একজন বিচারপতির নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছিল বিসিবি। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে জমা দেওয়া ওই প্রতিবেদনে জাহানারার অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্ত পাঁচজনের মধ্যে সাবেক নির্বাচক ও ম্যানেজার মনজুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে অনাকাঙ্ক্ষিত স্পর্শ এবং অসংবেদনশীল ও অশোভন আচরণের সত্যতা পাওয়া যায়।
তদন্ত প্রতিবেদনের পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে বিসিবির পরিচালনা পর্ষদ মনজুরুল ইসলামকে বোর্ডের সব ধরনের ক্রিকেটীয় কর্মকাণ্ড থেকে আজীবন নিষিদ্ধ করে। এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মনজুরুল হাইকোর্টে পৃথক দুটি রিট আবেদন করেন। পরে বিসিবির পক্ষ থেকে মূল তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়া হয়। বিস্তারিত পর্যালোচনার পর আদালত তার করা দুটি রিটই খারিজ করে দেন।
সংবাদ সম্মেলনে ব্যারিস্টার মাহিন এম রহমান বলেন, তদন্ত প্রতিবেদন গণমাধ্যমে প্রকাশ না করায় অনেকে প্রশ্ন তুলছেন। তবে নীতিমালায় যৌন হয়রানির অভিযোগসংক্রান্ত তদন্তের নথি সম্পূর্ণ গোপন রাখার বিধান রয়েছে। বিচারিক প্রয়োজনে প্রতিবেদনটি আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও আদালতের প্রয়োজন হলে তা দেওয়া হবে। তবে বিসিবি নিজ উদ্যোগে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করবে না। বিসিবির এই আইনজীবী আরও জানান, ২০২৬ সালের আগস্টে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে ‘পশ’ (প্রিভেনশন অব সেক্সুয়াল হ্যারাসমেন্ট) গাইডলাইন আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন ও বাস্তবায়ন করা হয়েছে। বর্তমানে বিসিবির ওয়েবসাইটে নারী ক্রিকেটার এবং নারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অভিযোগ জানানোর জন্য আলাদা অভিযোগ সেল ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা যুক্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া কোনো ঘটনায় ফৌজদারি অপরাধের বিষয় থাকলে ভুক্তভোগী বা অভিযোগকারী নিজ উদ্যোগে আইনি পদক্ষেপ কিংবা মামলা করতে চাইলে বিসিবি তাকে প্রয়োজনীয় আইনি ও অন্যান্য সহযোগিতা দেবে বলেও আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।