০৫ নভেম্বর ২০২৬ , ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬

জনবল সংকটে ধুঁকছে ছলিমপুর স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপলোড সময় : ০৫-১১-২০২৬
জনবল সংকটে ধুঁকছে ছলিমপুর স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র ছবিঃ সংগৃহীত

ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার ৬ নম্বর ছলিমপুর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রটি দীর্ঘদিন ধরে জনবল সংকটে রয়েছে। সরকারি অর্থে নির্মিত দ্বিতল ভবন থাকলেও প্রয়োজনীয় জনবল ও অবকাঠামোগত সুবিধার অভাবে পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্যসেবা পাচ্ছেন না ছলিমপুরসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামের হাজারো মানুষ। ফলে চিকিৎসা ও পরিবার পরিকল্পনাসেবা নিতে তাঁদের ছুটতে হচ্ছে দূরের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে।

স্থানীয় সমাজসেবক মরহুম আবদুল আজিজ সরকার ও আফাজ উদ্দিন সরকার মানবসেবার উদ্দেশ্যে কেন্দ্রটির জন্য প্রায় সাড়ে ৩২ শতাংশ জমি দান করেন। তাঁদের দেওয়া জমিতে নির্মিত হয় কেন্দ্রটির দ্বিতল ভবন। ২০০৬ সালের ৯ মে ভবনটি ত্রিশাল উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তবে হস্তান্তরের ১৯ বছর পেরিয়ে গেলেও প্রয়োজনীয় জনবল ও পদ মঞ্জুরি না হওয়ায় কেন্দ্রটি এখনো পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা সম্ভব হয়নি।

বর্তমানে উপজেলার অন্য ইউনিয়ন থেকে একজন পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা, একজন ফার্মাসিস্ট, একজন আয়া ও একজন নিরাপত্তা প্রহরীকে পালাক্রমে অতিরিক্ত দায়িত্ব দিয়ে কোনো রকমে সেবা কার্যক্রম চালু রাখা হয়েছে। সীমিত জনবল দিয়ে এলাকার বিপুলসংখ্যক মানুষের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না।

এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন গর্ভবতী মা, নবজাতক, শিশু, কিশোর-কিশোরী ও সাধারণ রোগীরা। প্রয়োজনীয় সেবা না পেয়ে অনেককে ৮ থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যেতে হচ্ছে।

জনবল সংকটের পাশাপাশি কেন্দ্রটির অবকাঠামোগত সমস্যাও রয়েছে। ভবনের চারপাশে সীমানাপ্রাচীর নেই, নিরাপদ পানির জন্য সাবমারসিবল পাম্পের ব্যবস্থা করা হয়নি। এ ছাড়া ভবনের বিভিন্ন স্থানে মেরামতের প্রয়োজন রয়েছে।

এ বিষয়ে ত্রিশাল উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ডা. মাহমুদা ইসলাম দীপা বলেন, কেন্দ্রটির বিদ্যুৎ সমস্যা সমাধান করা হয়েছে। বর্তমানে পানির লাইন স্থাপনসহ পূর্ণাঙ্গ মেরামতের জন্য স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। তবে সবচেয়ে বড় সমস্যা জনবল সংকট। কেন্দ্রটিতে কোনো পদই মঞ্জুর নেই। এ কারণে স্থানীয়ভাবে জনবল নিয়োগের সুযোগ নেই। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাঠানো হয়েছে এবং প্রতি মাসেই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হচ্ছে। তবে কেন্দ্রটি বন্ধ রাখা হয়নি। প্রতিদিনই কেউ না কেউ দায়িত্ব পালন করছেন এবং তাঁদের পক্ষ থেকে সেবা চালু রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে।

এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত কেন্দ্রটির প্রয়োজনীয় পদ মঞ্জুরি দিয়ে জনবল নিয়োগ দিতে হবে। পাশাপাশি সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ, সাবমারসিবল পাম্প স্থাপন ও ভবন সংস্কার করে কেন্দ্রটিতে পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনাসেবা নিশ্চিত করতে হবে।



কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ