ছবিঃ সংগৃহীত
জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি আর মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত অর্থনীতি—শুক্রবার নির্বাচনী প্রচারের শেষ দিনে নিউজিল্যান্ডের রাজনৈতিক আলোচনায় এ দুটিই ছিল প্রধান বিষয়। দেশটি এখন তার ইতিহাসের সবচেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনগুলোর একটির মুখে।
বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে বলা হয়, সংসারের খরচ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন দেশটির সাধারণ মানুষ; নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম এখনো চড়া। এদিকে বেকারত্বের হার উঠেছে এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে।
ভোটগ্রহণের শেষ দিন শনিবার। নানা জনমত জরিপের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ক্ষমতাসীন ন্যাশনাল পার্টি বা বিরোধী লেবার পার্টি—কোনো দলই এককভাবে সরকার গড়ার মতো যথেষ্ট আসন পাওয়ার অবস্থানে নেই।
নতুন কোনো কর বসানো হবে না—এই প্রতিশ্রুতি দিয়ে নিজের ডানপন্থী জোট ক্ষমতায় টিকে থাকবে বলে আশা করছেন প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লাকসন। তবে গত তিন বছরে জোটের ভেতরের মতবিরোধ, তাঁকে নেতৃত্ব থেকে সরাতে নিজ দলের নেতাদের দুটি ব্যর্থ চেষ্টা এবং অর্থনীতির স্থবিরতা তাঁর সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
লাকসনকে সরিয়ে প্রধানমন্ত্রীর পদে বসতে চান বিরোধীদলীয় নেতা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টোফার হিপকিন্স। মানুষের অর্থনৈতিক চাপ কমাতে ব্যাপক কর্মসূচির প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তাঁর নেতৃত্বাধীন লেবার পার্টি।
দুই প্রধান দলের জনসমর্থনের ফারাক খুবই সামান্য হওয়ায় এখন দৃষ্টি পড়েছে দেশটির ছোট দলগুলোর ওপর। রাজনৈতিক মহলে বিশেষ করে আলোচনায় আছে নতুন মধ্যপন্থী দল অপরচুনিটি পার্টি।
ওয়েলিংটনের ভিক্টোরিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ডেভিড ক্যাপি এএফপিকে বলেন, ‘নিশ্চিতভাবেই এটি সবচেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনগুলোর একটি। আমার পেশাগত জীবনে এত কঠিন কোনো নির্বাচন অনুমান করা যায়নি।’ তিনি যোগ করেন, ‘এ মুহূর্তে কে জিতবে, তা বলা সত্যিই কঠিন। পরিস্থিতি অনেক বিষয়ের ওপর নির্ভর করছে।’
রাজধানী ওয়েলিংটনের রাস্তায় অনেক ভোটার এএফপিকে বলেছেন, প্রতিদিনের খরচ মেটানো তাঁদের জন্য কঠিন হয়ে গেছে। আগে যেসব দরকারি জিনিস কিনতে তেমন ভাবতে হতো না, এখন সেগুলো কেনার আগেও দুবার ভাবতে হচ্ছে।
সাংস্কৃতিক পরামর্শক জে ইকাউয়া বলেন, ‘জিনিসপত্রের দাম অনেক বেশি।’ তাঁর ভাষায়, ‘কোনো কিছু কেনার আগে আমাকে এখন সচেতনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে হয়। কিনব, নাকি কিনব না— তা ভাবতে হয়।’
জীবনযাত্রার ব্যয়কে ‘ভয়াবহ’ আখ্যা দেন ২৬ বছর বয়সী সরকারি কর্মকর্তা র্যাচেল শার্ডলো। তিনি বলেন, ‘আমার সব আয় বাসাভাড়া ও অন্যান্য বিল পরিশোধ করতেই চলে যাচ্ছে। ভবিষ্যতের জন্য সঞ্চয় করা তো দূরের কথা, কিছু টাকা জমাতেও হিমশিম খেতে হচ্ছে।’
শুক্রবার প্রকাশিত সর্বশেষ জনমত জরিপ অনুযায়ী, ৩০ শতাংশ সমর্থন নিয়ে ন্যাশনাল পার্টির চেয়ে সামান্য এগিয়ে আছে লেবার পার্টি।
নিউজিল্যান্ডের নির্বাচন হয় মিশ্র সদস্য আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (এমএমপি) পদ্ধতিতে, যেখানে প্রত্যেক ভোটারকে দুটি ভোট দিতে হয়—একটি পছন্দের রাজনৈতিক দলের জন্য, অন্যটি নিজ নির্বাচনী এলাকার প্রতিনিধি বাছাইয়ের জন্য।
তবে তথাকথিত ‘ওভারহ্যাং’ ব্যবস্থার কারণে শেষ পর্যন্ত ক্ষমতাসীন দলের আসন বেশি হতে পারে; এ ব্যবস্থায় সংসদের নির্ধারিত ১২০টি আসনের চেয়েও বেশি সদস্য নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ থাকে।
জরিপে অপরচুনিটি পার্টির প্রতি সমর্থন দেখা গেছে ৫ শতাংশের বেশি, ফলে সংসদে আসন পাওয়ার যোগ্যতা অর্জন করতে যাচ্ছে দলটি।
প্রধান দুই রাজনৈতিক শিবিরের কোনোটির সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই—এমন একটি ছোট দলও নিউজিল্যান্ডের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সংসদে প্রতিনিধিত্বের সুযোগ পেতে পারে।
দলটির নেতৃত্বে আছেন কেপিএমজির সাবেক পরামর্শক কিউলে ওং। নির্বাচিত হলে ন্যাশনাল বা লেবার—দুই দলের সঙ্গেই কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।