০৭ নভেম্বর ২০২৬ , ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬

বিপ্লব ও সংহতি দিবস আজ

বিশেষ প্রতিনিধি
আপলোড সময় : ০৭-১১-২০২৬
বিপ্লব ও সংহতি দিবস আজ ছবিঃ সংগৃহীত

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ৭ নভেম্বর একটি তাৎপর্যপূর্ণ ও আলোচিত দিন। ১৯৭৫ সালের এই দিনে সংঘটিত ঘটনাপ্রবাহ দেশের রাষ্ট্রক্ষমতা, সামরিক-বেসামরিক সম্পর্ক এবং পরবর্তী রাজনৈতিক গতিপথে বড় ধরনের প্রভাব ফেলে। দিনটি বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ হিসেবে পরিচিত। প্রতিবছর ৭ নভেম্বর দিবসটি ঘিরে রাজনৈতিক দলগুলোর আলোচনা, স্মৃতিচারণ, সভা-সমাবেশ ও নানা কর্মসূচি পালিত হয়। ২০২৬ সালেও ঐতিহাসিক এই দিনটি সামনে রেখে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

বাংলাদেশের স্বাধীনতার পরবর্তী সময় ছিল রাজনৈতিক অস্থিরতা, অর্থনৈতিক সংকট এবং রাষ্ট্রীয় কাঠামো পুনর্গঠনের এক কঠিন অধ্যায়। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যাকাণ্ডের পর দেশের রাজনীতিতে দ্রুত পরিবর্তন আসে। এরপর ৩ নভেম্বর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে জাতীয় চার নেতাকে হত্যা করা হয়। একই সময়ে সেনাবাহিনীর ভেতরে নানা অসন্তোষ ও পাল্টাপাল্টি অবস্থান তৈরি হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ৭ নভেম্বরের ঘটনা বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে বিবেচিত হয়। দিনটির তাৎপর্য শুধু একটি সামরিক অভ্যুত্থান বা ক্ষমতার পরিবর্তনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বরং এটি দেশের রাজনৈতিক নেতৃত্ব, সেনাবাহিনীর ভূমিকা, জনগণের অংশগ্রহণ এবং রাষ্ট্র পরিচালনার ভবিষ্যৎ নিয়ে দীর্ঘস্থায়ী বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল নিজেদের রাজনৈতিক দর্শন ও ঐতিহাসিক ব্যাখ্যা অনুযায়ী দিনটিকে মূল্যায়ন করে আসছে।

দীর্ঘ সময় জাতীয় পর্যায়ে দিবসটি সরকারি স্বীকৃতি ও ছুটির তালিকার বাইরে ছিল। তবে ২০২৬ সালে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ৭ নভেম্বরকে আবার জাতীয় দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। গত ২২ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক পরিপত্রে দিনটিকে ‘ক’ শ্রেণির জাতীয় দিবসের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। পরে ৫ অক্টোবর অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে ৭ নভেম্বর সরকারি ছুটি হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রতিবছর দিনটি জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস হিসেবে পালিত হবে। এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘ ১৬ বছর পর দিবসটি আবার সরকারি ছুটির মর্যাদা ফিরে পেল।

সরকারের এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিএনপি দিনটিকে তাদের রাজনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচনা করে। দলটির মতে, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সিপাহি-জনতার ঐক্য দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। অন্যদিকে, ইতিহাসের বিভিন্ন পর্যায়ে রাজনৈতিক দল ও গবেষকদের মধ্যে ওই দিনের ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে ভিন্ন ব্যাখ্যা রয়েছে। ফলে দিবসটি পালনের পাশাপাশি এর ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট নিয়ে নিরপেক্ষ আলোচনা এবং তথ্যভিত্তিক মূল্যায়নের প্রয়োজনীয়তাও সামনে এসেছে।

দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদা ও উৎসাহের সঙ্গে পালনের জন্য সরকার দেশব্যাপী ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। ৪ নভেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব কর্মসূচির কথা জানানো হয়। এর আগে ২৮ অক্টোবর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা সভায় কর্মসূচিগুলো অনুমোদন করা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মঞ্জুর মোরশেদ চৌধুরী।

কর্মসূচির অংশ হিসেবে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী পৃথক বাণী দেন। দেশের সব সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে।

বিদেশে বাংলাদেশের মিশনগুলোতেও জাতীয় পতাকা উত্তোলনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, সড়কদ্বীপ ও জনবহুল এলাকা জাতীয় পতাকা দিয়ে সাজানো হবে। স্থানীয় সরকার বিভাগ, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, সিটি করপোরেশন ও পৌরসভা যৌথভাবে এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করবে।

দিবসটি উপলক্ষে দেশের মসজিদগুলোতে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতের আয়োজন করা হবে। মন্দির, গির্জা, প্যাগোডাসহ অন্যান্য উপাসনালয়েও বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হবে। এসব আয়োজনে দেশের শান্তি, সমৃদ্ধি, স্থিতিশীলতা ও অগ্রগতি কামনা করা হবে।

এ ছাড়া হাসপাতাল, কারাগার, এতিমখানা, শিশু পরিবার, শিশু সদন, কিশোর সংশোধনাগার এবং বিভিন্ন সমাজকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠানে বিশেষ খাবারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। দেশের সব শিশু পার্কে দিনব্যাপী বিনা মূল্যে প্রবেশের সুযোগ থাকবে। শিশুদের জন্য জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আলোচনা সভা ও রচনা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে।

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে জাতীয় দৈনিকগুলোতে বিশেষ নিবন্ধ, সাহিত্য সাময়িকী প্রকাশ হয়। বাংলাদেশ টেলিভিশন, বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ও বেতারকেন্দ্রগুলো বিশেষ অনুষ্ঠান প্রচার করবে। বিভিন্ন সিনেমা হল ও ভ্রাম্যমাণ প্রদর্শনীর মাধ্যমে প্রামাণ্যচিত্র দেখানোর পরিকল্পনাও রয়েছে। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি দেশাত্মবোধক সংগীতানুষ্ঠানের আয়োজন করবে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে আলোচনা সভা এবং প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে।

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি ৫ থেকে ১১ নভেম্বর পর্যন্ত সাত দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। ২৬ অক্টোবর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত যৌথসভায় এসব কর্মসূচি চূড়ান্ত করা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।

দলীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ ৭ নভেম্বর সকাল ৬টায় নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সারা দেশের দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে। সকাল ১১টায় বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দলের জাতীয় নেতাদের সঙ্গে নিয়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও ফাতেহা পাঠ করবেন।

বিকেল ৩টায় নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের হওয়ার কর্মসূচি রয়েছে। এতে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্ব দেওয়ার কথা রয়েছে। রাজধানীর পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন জেলা ও মহানগরেও র‍্যালি আয়োজন করা হয়েছে। ৮ নভেম্বর থানা ও উপজেলা পর্যায়ে একই ধরনের কর্মসূচি পালিত হবে।

দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোও পৃথক কর্মসূচি পালন করছে। জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল, যুবদল, কৃষক দল, ছাত্রদল ও জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস) আলোচনা সভা, আলোকচিত্র প্রদর্শনী, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রমের আয়োজন করেছে। ছাত্রদলের উদ্যোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আলোকচিত্র প্রদর্শনীর কর্মসূচিও রয়েছে। এতিম শিক্ষার্থীদের মধ্যে শিক্ষা উপকরণ বিতরণের উদ্যোগ নিয়েছে ওলামা দল।

সরকারি ও দলীয় কর্মসূচির পাশাপাশি দিবসটি ঘিরে রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। বিএনপির পক্ষ থেকে কর্মসূচিতে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং শান্তিপূর্ণভাবে অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে। বড় ধরনের জনসমাগমের কারণে রাজধানীর কয়েকটি এলাকায় যান চলাচলে চাপ তৈরি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দেশের প্রশাসন ও সামরিক বাহিনীর মধ্যে অস্থিরতা বাড়তে থাকে। ৩ নভেম্বর ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফের নেতৃত্বে সেনাবাহিনীর একটি অংশ অভ্যুত্থান ঘটায়। সে সময় তৎকালীন সেনাপ্রধান জিয়াউর রহমানকে গৃহবন্দি করা হয়। খালেদ মোশাররফ সেনাপ্রধানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। রাষ্ট্রপতি হিসেবে বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম দায়িত্ব পালন করতে থাকেন।

এর মাত্র চার দিন পর ৭ নভেম্বর সেনাবাহিনীর সাধারণ সৈনিকদের মধ্যে বিদ্রোহ শুরু হয়। এই ঘটনাপ্রবাহে অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল আবু তাহের এবং তাঁর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জাসদের বিপ্লবী সৈনিক সংস্থার ভূমিকা ছিল বলে ঐতিহাসিক বিভিন্ন বিবরণে উল্লেখ রয়েছে। বিদ্রোহের একপর্যায়ে জিয়াউর রহমানকে বন্দিদশা থেকে মুক্ত করা হয়। অন্যদিকে খালেদ মোশাররফ ও তাঁর কয়েকজন সহযোগী নিহত হন। এরপর দেশের ক্ষমতার রাজনীতিতে জিয়াউর রহমানের অবস্থান শক্তিশালী হয়ে ওঠে।

তবে ৭ নভেম্বরের ঘটনাকে শুধু একটি পক্ষের বিজয় হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এই দিনের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে সামরিক বাহিনীর অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব, পাল্টা অভ্যুত্থান, রাজনৈতিক ক্ষমতার পরিবর্তন এবং একাধিক সামরিক কর্মকর্তার মৃত্যুর বেদনাদায়ক অধ্যায়। পরবর্তী সময়ে কর্নেল আবু তাহেরের বিচার ও মৃত্যুদণ্ডও এ ঘটনাপ্রবাহের সঙ্গে সম্পর্কিত হয়ে ওঠে। ইতিহাসবিদ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের কাছে এসব বিষয় এখনো আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ৭ নভেম্বরের গুরুত্ব থাকলেও দিনটির ব্যাখ্যা নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে মতপার্থক্য রয়েছে। বিএনপি দিনটিকে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস হিসেবে পালন করে। দলটির রাজনৈতিক বক্তব্যে সিপাহি-জনতার ঐক্য, জাতীয় স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার বিষয়টি গুরুত্ব পায়।

এবারের দিবস উদ্‌যাপনে একটি নতুন সংযোজন হচ্ছে স্মারক ডাকটিকিট। ৪ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বিশেষ স্মারক ডাকটিকিট উন্মোচন করেন। বাংলাদেশ ডাক বিভাগের উদ্যোগে প্রকাশিত ডাকটিকিটটির মূল্য ১০ টাকা। একই সঙ্গে ১০ টাকা মূল্যের প্রথম দিনের খাম এবং ৫ টাকা মূল্যের ডেটাকার্ড প্রকাশ করা হয়েছে। দেশের সব ডাকঘরে এসব স্মারক সামগ্রী বিক্রির জন্য পাওয়া যাবে।

স্মারক ডাকটিকিট প্রকাশের মাধ্যমে দিবসটির ঐতিহাসিক স্মৃতি সংরক্ষণের একটি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংগ্রাহকদের পাশাপাশি ইতিহাস ও ঐতিহ্য নিয়ে আগ্রহী মানুষের কাছেও এটি বিশেষ গুরুত্ব পেতে পারে।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ৭ নভেম্বর একটি গুরুত্বপূর্ণ ও বিতর্কিত অধ্যায়। স্বাধীনতার পর রাষ্ট্র পরিচালনার সংকট, সামরিক বাহিনীর অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব এবং রাজনৈতিক নেতৃত্বের পরিবর্তনের সঙ্গে দিনটি গভীরভাবে সম্পর্কিত। তাই দিবসটি পালনের ক্ষেত্রে শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়, ইতিহাসের প্রকৃত ঘটনাগুলো জানার সুযোগ তৈরি করাও গুরুত্বপূর্ণ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও জাতীয় ইতিহাস নিয়ে আলোচনা হওয়া উচিত তথ্য ও গবেষণার ভিত্তিতে। কোনো একটি রাজনৈতিক দলের দৃষ্টিভঙ্গির মধ্যে ইতিহাসকে সীমাবদ্ধ না রেখে সব পক্ষের বক্তব্য, দলিল এবং প্রাসঙ্গিক ঘটনাগুলো বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। এতে নতুন প্রজন্ম দেশের অতীত সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা পাবে। বর্তমান সময়ে বাংলাদেশের সামনে অর্থনৈতিক উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, শিক্ষা, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার মতো গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ রয়েছে। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও পারস্পরিক সহনশীলতা ছাড়া এসব ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি অর্জন কঠিন। তাই ৭ নভেম্বরের মতো ঐতিহাসিক দিনগুলো থেকে জাতীয় ঐক্য, দায়িত্বশীল রাজনৈতিক আচরণ এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর গুরুত্ব সম্পর্কে শিক্ষা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

এবারের দিবসটি সরকারি স্বীকৃতি ও ছুটির মর্যাদা ফিরে পাওয়ায় আগের বছরগুলোর তুলনায় আলাদা গুরুত্ব পাচ্ছে। রাষ্ট্রীয় আয়োজন, রাজনৈতিক দলের কর্মসূচি এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক উদ্যোগের মধ্য দিয়ে দিনটি পালিত হচ্ছে। তবে এসব আয়োজনের পাশাপাশি ইতিহাসের বিতর্কিত অধ্যায়গুলো নিয়েও গঠনমূলক আলোচনা প্রয়োজন।

৭ নভেম্বরের মূল শিক্ষা কী, এই দিনটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক গতিপথে কতটা প্রভাব ফেলেছে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে এর ইতিহাস কীভাবে তুলে ধরা হবে—এসব প্রশ্ন নতুন করে সামনে এসেছে। ইতিহাসের যথাযথ মূল্যায়ন এবং গণতান্ত্রিক চর্চার মধ্য দিয়েই দিবসটির তাৎপর্য আরও অর্থবহ হয়ে উঠতে পারে।



কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ