ছবিঃ সংগৃহীত
বদলি হিসেবে মাঠে নামার মাত্র ছয় মিনিটের মধ্যেই গোল করে ভুটানের বিপক্ষে বাংলাদেশের জয়ের নায়ক হয়ে উঠেছেন মোহাম্মদ ইব্রাহিম। দীর্ঘদিন পর জাতীয় দলে ফিরে এমন গুরুত্বপূর্ণ গোল করতে পেরে উচ্ছ্বসিত ফর্টিস এফসির এই ফরোয়ার্ড। তবে তার এই প্রত্যাবর্তনের পেছনে রয়েছে হতাশা, কষ্ট আর ঘুরে দাঁড়ানোর দৃঢ় প্রত্যয়। ফিফা আসিয়ান কাপের দলে জায়গা না পাওয়ার হতাশা কাটিয়ে ক্লাবের হয়ে ভালো পারফরম্যান্স করে আবার জাতীয় দলে ফিরেছেন তিনি। এবার দেশের মাটিতে সাফ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন এই ফুটবলার।
বৃহস্পতিবার ভুটানের বিপক্ষে ম্যাচে বদলি হিসেবে মাঠে নেমেই নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দেন ইব্রাহিম। ছয় মিনিটের মাথায় তার করা গোলেই জয় পায় বাংলাদেশ। ম্যাচ শেষে নিজের অনুভূতি জানাতে গিয়ে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন পর জাতীয় দলে ফিরে গোল করতে পেরে খুব ভালো লাগছে। এমন গোল করতে পারবেন, নিজের ওপর সেই বিশ্বাস ছিল। তবে মাঠে নামার এত অল্প সময়ের মধ্যেই গোল পেয়ে যাবেন, তা ভাবেননি।
গোলের পর গ্যালারির দিকে ছুটে গিয়ে ভিন্নধর্মী উদযাপন প্রসঙ্গে ইব্রাহিম জানান, এর পেছনে বিশেষ কোনো কারণ ছিল না। গোল করার পর আবেগ থেকেই এমন উদযাপন করেছেন তিনি। নিজের পাঁচটি আন্তর্জাতিক গোলের মধ্যে ভুটানের বিপক্ষে করা গোলটিকেই সবচেয়ে এগিয়ে রাখছেন এই ফরোয়ার্ড। কারণ, তার এই গোলেই জয় পেয়েছে বাংলাদেশ।
ম্যাচ শেষে দর্শকদের কাছ থেকে নিজের জার্সি দেওয়ার অনুরোধও পেয়েছিলেন ইব্রাহিম। তবে সেটি দিতে রাজি হননি তিনি। তার কাছে নতুন মডেলের আর কোনো জার্সি না থাকলেও পুরোনো মডেলের কয়েকটি রয়েছে। ভুটানের বিপক্ষে জয়ের স্মৃতি হিসেবে এই জার্সিটি বিশেষভাবে সংরক্ষণ করতে চান তিনি। তাই সেটিকে স্মারক হিসেবে সাজিয়ে রাখার পরিকল্পনা করেছেন।
গোলের ভিডিও বহুবার দেখেছেন বলেও জানান ইব্রাহিম। তার ভাষায়, মাঠে নামার এত অল্প সময়ের মধ্যে এমন গোল করেছেন, ভিডিও দেখলে ঘটনাটি নিজের কাছেই কল্পনার মতো মনে হয়। গোলের পর সতীর্থ, বন্ধু ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছ থেকেও অভিনন্দন পেয়েছেন তিনি। বিশেষ করে জাতীয় দলের সতীর্থ হামজা চৌধুরীর ব্যক্তিগত অভিনন্দনবার্তা তাকে বাড়তি অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে। তার মতো বড় মাপের ফুটবলারের কাছ থেকে শুভেচ্ছা পাওয়া নিজের জন্য বিশেষ প্রাপ্তি বলে মনে করেন ইব্রাহিম।
জাতীয় দলে ফেরার আগে কঠিন সময় পার করতে হয়েছে এই ফুটবলারকে। ফিফা আসিয়ান কাপের জন্য প্রায় ২০ থেকে ২৫ দিন অনুশীলন করেও শেষ পর্যন্ত চূড়ান্ত দল থেকে বাদ পড়েন তিনি। বিষয়টি তাকে ভীষণভাবে কষ্ট দিয়েছিল। বাদ পড়ার পর ক্লাবের হয়ে কয়েকটি ম্যাচ খেলতে গিয়ে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে উঠলেও আসিয়ান কাপে খেলতে না পারার আক্ষেপ এখনো ভুলতে পারেননি।