০৮ নভেম্বর ২০২৬ , ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬

আমি থেমে থাকব না, হাল ছাড়ব না’: তানজিন তিশা

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপলোড সময় : ০৮-১১-২০২৬
আমি থেমে থাকব না, হাল ছাড়ব না’: তানজিন তিশা ছবিঃ সংগৃহীত

দীর্ঘদিন ধরে চলা নানা বিতর্ক, সহশিল্পীর সঙ্গে বিরোধ এবং অভিনয়শিল্পী সংঘের সদস্যপদ স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিয়ে অবশেষে নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন অভিনেত্রী তানজিন তিশা। শুটিং সেটে সামিয়া অথৈর সঙ্গে বিরোধ থেকে শুরু করে সংগঠনের সালিশ বৈঠক ও পরবর্তী সিদ্ধান্ত—সব বিষয়েই ফেসবুক লাইভে কথা বলেছেন তিনি। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযোগ প্রকাশ করে কারও পেশাগত জীবন ক্ষতিগ্রস্ত করার প্রবণতারও সমালোচনা করেছেন এই অভিনেত্রী। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) রাতে প্রায় ২৫ মিনিটের ফেসবুক লাইভে তিশা ‘পুতুলের বিয়ে’ নাটকের শুটিংয়ে ঘটে যাওয়া ঘটনা নিয়ে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন। এ সময় তিনি দাবি করেন, ওই দিনের ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন শুটিং সেটে উপস্থিত সবাই। প্রকৃত ঘটনা জানতে সংশ্লিষ্ট দৃশ্যটি দেখার আহ্বানও জানান তিনি। পাশাপাশি অভিনয়শিল্পী সংঘের সালিশ বৈঠকে দুই পক্ষের বক্তব্য শোনার বিষয়টিও উল্লেখ করেন।

লাইভে তিশা বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা প্রচারণা শিল্পীদের সমালোচনার মুখে ফেলে এবং যারা কাজের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে চান, তাদের জন্য পরিস্থিতি কঠিন করে তোলে। কাজ করতে গিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে মতবিরোধ বা সমস্যা হতেই পারে। কিন্তু সেই বিরোধ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করে কিংবা সাংবাদিকদের জানিয়ে অন্য কারও ক্যারিয়ার ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা করা উচিত নয়।

গত এক বছরে তাকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিভিন্ন বিতর্কের প্রসঙ্গ টেনে তিশা বলেন, ‘শাড়ি-কাণ্ড’সহ অনেক কিছুই দেখেছেন তিনি। সময় হলে সবকিছু সবার সামনে প্রকাশ পাবে বলেও মন্তব্য করেন এই অভিনেত্রী।

গত ৩ মার্চ মানিকগঞ্জে ‘পুতুলের বিয়ে’ নাটকের শুটিং চলাকালে তানজিন তিশার বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ তোলেন অভিনেত্রী সামিয়া অথৈ। তার অভিযোগ, নাটকের একটি দৃশ্যে আলতো করে চড় মারার কথা থাকলেও তিশা একাধিকবার জোরে চড় মারেন। এতে তিনি আহত হন বলেও দাবি করেন সামিয়া। তবে শুরু থেকেই এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন তিশা। তার দাবি, চিত্রনাট্য ও চরিত্রের প্রয়োজনে তিনি অভিনয় করেছেন; কাউকে ব্যক্তিগতভাবে আঘাত করার কোনো উদ্দেশ্য ছিল না।

ফেসবুক লাইভে এ প্রসঙ্গে তিশা বলেন, ‘পুতুলের বিয়ে’ নাটকের শুটিংয়ে একজন সহশিল্পীর সঙ্গে তার সমস্যা হয়েছিল। পুরো শুটিং ইউনিটের সদস্যরা সেই ঘটনার সাক্ষী। কী ঘটেছিল, তা তারা সবাই জানেন। নিজের চরিত্রের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, নাটকে পাগলের চরিত্রে তিনি অভিনয় করেছেন। দৃশ্যটি দেখলে কে কীভাবে অভিনয় করেছেন এবং কে অতিরিক্ত কিছু করেছেন, তা দর্শকেরাই বুঝতে পারবেন। নির্যাতনের অভিযোগের সত্যতাও দৃশ্যটি দেখলেই স্পষ্ট হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

দুই অভিনেত্রীর বিরোধ মীমাংসায় উদ্যোগ নেয় অভিনয়শিল্পী সংঘ বাংলাদেশ। সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক রাশেদ মামুন অপু জানিয়েছিলেন, একাধিকবার দুই পক্ষের সঙ্গে বৈঠক করে তাদের বক্তব্য শোনা হয়েছে। বিরোধের সমাধানে দুজনকে ক্ষমা চেয়ে বিবৃতি এবং ভিডিও বার্তা দেওয়ার পরামর্শও দেওয়া হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত সেই প্রস্তাব বাস্তবায়িত হয়নি।

সালিশ বৈঠকের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিশা বলেন, সংগঠনের জ্যেষ্ঠ ব্যক্তিরা বিচারকের দায়িত্ব পালন করেছেন। প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ধরে বৈঠকে পুরো ঘটনা নিয়ে আলোচনা হয় এবং দুই পক্ষের বক্তব্য শোনা হয়। এ-সংক্রান্ত লিখিত নোটিশও তার কাছে রয়েছে বলে জানান তিনি। বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দুজনকেই ক্ষমা চেয়ে বিবৃতি ও ভিডিও বার্তা দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। সামিয়া অথৈ ভিডিও বার্তা দেননি, তিনিও ব্যক্তিগত কারণে তা দিতে পারেননি বলে জানান তিশা। এ কারণে সংগঠনের নির্দেশনা অমান্যের অভিযোগে তার কাছে সদস্যপদ স্থগিতের চিঠি পাঠানো হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।



কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ