কক্সবাজারের চকরিয়ার দুই যুবক পৃথক দুটি মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন। লোহাগাড়ায় যাত্রীবাহী বাস ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে এক মাদ্রাসা শিক্ষার্থী এবং চকরিয়া-বদরখালী সড়কে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় চকরিয়া পৌরসভার সাবেক এক কাউন্সিলরের বড় ছেলে নিহত হয়েছেন। পৃথক এই দুই ঘটনায় এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
লোহাগাড়ায় বেপরোয়া হানিফ বাসের চাপায় প্রাণ গেল মাদ্রাসা শিক্ষার্থী তামিমের
প্রথম দুর্ঘটনাটি ঘটে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের লোহাগাড়া বিদ্যুৎ অফিস এলাকায়। নিহত মোস্তাকিম কামাল তামিম চকরিয়া পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডের হালাকাকারা তিন বটতল সওদাগরপাড়ার বাসিন্দা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা দেলোয়ার হোসেন মেম্বারের নাতি। তার পিতা রাশেদ কামাল চকরিয়া পৌরসভায় সিনিয়র কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত আছেন। তামিম লোহাগড়া উপজেলার আধুনগর ইসলামিয়া মাদ্রাসার ফাজিল দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গেল ১৭ মে রবিবার রাত দশটার দিকে চকরিয়ার নিজ বাড়ি থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশা যোগে তার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আধুনগর মাদ্রাসার উদ্দেশ্যে রওনা হন তামিম। পথিমধ্যে অটোরিকশাটি লোহাগাড়া বিদ্যুৎ অফিসের সামনে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা বেপরোয়া গতির একটি লোকাল 'হানিফ পরিবহন' এর বাসের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে গুরুতর আহত হয়ে তামিম ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। পরে তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
অপরদিকে, চকরিয়া কেবি জালালউদ্দিন (চকরিয়া-বদরখালী) সড়কে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় চকরিয়া পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর নুরুল আমিনের বড় ছেলে শওকত হোসেন নিহত হয়েছেন।
রবিবার (১৭ মে) দিবাগত রাত আনুমানিক ৯টার দিকে সাহারবিল ইউনিয়নের রামপুর স্টেশন এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, চকরিয়া-বদরখালী সড়কে বর্তমানে উন্নয়ন কাজ চলমান রয়েছে। তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের চরম অব্যবস্থাপনার কারণে সড়কের বিভিন্ন স্থানে খোঁড়াখুঁড়ি করে মাটি ও নির্মাণ সামগ্রী এলোমেলোভাবে ফেলে রাখা হয়েছে। কোনো ধরনের সতর্কীকরণ চিহ্ন বা পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা না থাকায় রাতে এই সড়কটি চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সড়কজুড়ে থাকা এই বিপজ্জনক খোঁড়াখুঁড়ি ও এলোমেলো নির্মাণ সামগ্রীর কারণেই মূলত এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটেছে বলে দাবি স্থানীয়দের।