সাভারে ফ্যান্টাসি কিংডমের ওয়াটার ওয়ার্ল্ডে কৃত্রিম ঢেউয়ে দর্শনার্থীদের উল্লাস।
ঈদুল আজহা উপলক্ষে বিনোদনপ্রেমী মানুষের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে সাভারের বিনোদনকেন্দ্রগুলো। ঈদের আনন্দকে আরও রাঙিয়ে তুলতে বর্ণাঢ্য সাজে সেজেছে এসব বিনোদনকেন্দ্র । বিশেষ করে থিম পার্কগুলোতে স্বল্পমূল্যের বিভিন্ন অফার প্যাকেজ থাকায় বিভিন্ন বয়সী মানুষের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ করা গেছে।
রবিবার (৩১ মে) ঈদের চতুর্থ দিন সাভারের আশুলিয়ার জামগড়ায় অবস্থিত দেশের সবচেয়ে বড় থিমপার্ক ফ্যান্টাসি কিংডমে গিয়ে চোখে পড়ে হাজারো দর্শনার্থীদের সমাগম। বিশ্বমানের আদলে গড়ে ওঠা বেশ কিছু রাইড নিয়ে সাজানো পার্কটি বিনোদনপ্রেমী সব বয়সী মানুষের জন্য আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে।
পার্কটিতে ঘুরতে আসা দর্শনার্থীদের কেউ চড়ছেন রোমাঞ্চকর রোলার কোস্টারে, কেউ ম্যাজিক কার্পেটে কিংবা উড়ন্ত দোলায়। বাচ্চারা চালাচ্ছে রেসিং কার। অনেকে আবার ট্রেনে চড়ে পার্ক ঘুরে দেখছে।
কিশোর মতরুণদের মূল আকর্ষণ ওয়াটার কিংডম। সেখানে তারা ডিজে গানের তালে নীল জলের কৃত্রিম ঢেউয়ের সঙ্গে আনন্দ-উল্লাসে মেতে উঠেছে। কৃত্রিম পাহাড়ের ঝরনায় পানিতে নেমে আনন্দ উপভোগ করছে তরুণ-তরুণীরাও।
এ সময় প্রিয়জনের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি আর স্মৃতির মুহূর্তগুলো মুঠোফোনে ধারণ করতে দেখা যায় শত শত দর্শনার্থীকে।। এ সময় সবাই পরিবারের সদস্য প্রিয়জনদের নিয়ে আনন্দ উপভোগ করতে ব্যস্ত ছিলেন।
পার্কে ঘুরতে ঘুরতে ক্ষুধা লাগলে খাওয়ার জন্য রয়েছে ছোট ছোট ফুড কোর্টসহ তিন তারকা মানের ক্যাফে আশুলিয়া, লিয়া রেস্তোরাঁ ও ওয়াটার ক্যাফে।
ফ্যান্টাসি কিংডমে পরিবার নিয়ে বেড়াতে আসা সাভার পৌর এলাকার মশিউর রহমান মুকুল বলেন, ‘সারা বছর কাজে ব্যস্ত থাকতে হয়। পরিবারকে তেমন একটা সময় দিতে পারি না। তাই পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঈদের আনন্দ উদযাপন করতে ফ্যান্টাসি কিংডমে আসা। এখানকার সব রাইডই দারুণ রোমাঞ্চকর। তবে এই গরমে ওয়াটার ওয়ার্ল্ডের ইভেন্টটা একদম দুর্দান্ত।’
মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার কলিয়া এলাকা থেকে বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে আসা কলেজছাত্রী তানিয়া আক্তার দিনা বলেন, ‘আমরা সাত বন্ধু মিলে এখানে ঘুরতে এসেছি। আমরা কম্বো প্যাকেজ নিয়েছিলাম। এতে করে সবগুলো রাইডই উপভোগ করতে পেরেছি। প্রত্যেকটি রাইডই আমাদের কাছে অসাধারণ লেগেছে। এখানে আসাটা সার্থক হয়েছে। আগামীতে আবার বন্ধুবান্ধবদের নিয়ে আসব।’
ফ্যান্টাসি কিংডমের হেড অব মিডিয়া মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘আমরা সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়ে প্রতি ঈদ উপলক্ষে সপ্তাহব্যাপী নানা আয়োজনের ব্যবস্থা রাখি। এবারও তার ব্যতিক্রম নয়। ডান্স শো, ডিজে শোসহ বিভিন্ন প্যাকেজ রয়েছে। প্যাকেজভেদে খাওয়া-দাওয়ার পাশাপাশি সব রাইড উপভোগ করতে পারবেন দর্শনার্থীরা।’
তিনি বলেন, ‘এই পার্কে নিয়ম মেনে দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য বিনা খরচে ভ্রমণের সুযোগও রয়েছে। তবে বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে আবেদন ও যাচাই-বাছাই শেষে তারা এই সুযোগ পাবে।’
দর্শনার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়ে মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘বরাবরই আমরা নিরাপত্তার বিষয়টি সবচেয়ে বেশি জোর দিয়ে থাকি, যাতে পরিবার নিয়ে আসা বিনোদনপ্রেমীরা কোনো ধরনের নিরাপত্তাহীনতায় না ভোগেন। পার্কে আনসার সদস্যদের পাশাপাশি থানা পুলিশ ও অন্যান্য আইনশঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সার্বিক নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছেন।’
এছাড়া সাভারের জিরানী এলাকায় অবস্থিত নন্দন পার্ক, ধামরাইয়ের আলাদিনস পার্ক, সাভার থানা নদীর ঘাটের বিপরীত পাশে নীলা বর্ষা পার্ক, আশুলিয়ার চক্রবর্তী এলাকার মনপুরা পার্ক, সাভারের মিনি অরণ্যালয় ও জাতীয় স্মৃতিসৌধ এবং বংশাই নদীতে নৌকা ভ্রমণেও দর্শনার্থীদের ভিড় দেখা গেছে।
ঈদুল আজহা উপলক্ষে সকল বিনোদনকেন্দ্রগুলোতেই চোখে পড়ছে ভ্রমণপ্রেমীদের ভিড়।