চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা
বাঁশের সেতুতে ঝুঁকিপূর্ণ চলাচল, স্থায়ী সেতুর দাবি
রবিউল ইসলাম বাবু (চুয়াডাঙ্গা) প্রতিনিধি: চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার নাটুদাহ ও নতিপোতা ইউনিয়নের দুলালনগর-নতিপোতা গ্রামের ভৈরব নদীর ওপর নির্মিত একটি বাঁশের সেতুর ওপর নির্ভর করেই প্রতিদিন চলাচল করছে অন্তত ৪-৫টি গ্রামের হাজারো মানুষ। দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছেন ওই সেতু দিয়ে। সেতুটি বর্তমানে জরাজীর্ণ হয়ে পড়ায় যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,দুলালনগর,নতিপোতা,কালিয়াবকরি,প্রতারপাড়া, গোপালপুর ও ভগীরথপুরসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষের জন্য ভৈরব নদী পারাপারের অন্যতম সহজ মাধ্যম এই বাঁশের সেতু দিয়ে যাতায়াত করে থাকে। পার্শ্ববর্তী জগন্নাথপুর বাজার, ব্যাংক, মহাজনপুর কলেজসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে যাতায়াতের জন্য এ সেতু ব্যবহার করেন এলাকাবাসী।স্থানীয়দের অভিযোগ, সেতুটি দিয়ে মোটরসাইকেল ও বাইসাকেল ঝুঁকি নিয়ে কোন মতে পারারপার করলে ও অন্যান্য যানবাহন নিয়ে তাদের হেমায়েতপুর-চারুলিয়া হয়ে অতিরিক্ত ৪ থেকে ৫ কিলোমিটার পথ ঘুরে গন্তব্যে পৌছাতে হয়। এতে সময় ও অর্থ দুটোরই অপচয় হয়। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, কৃষক ও ব্যবসায়ীদের দুর্ভোগ সবচেয়ে বেশি।
দুলালনগর গ্রামের যুবক রমজান আলী ওরফে টিটন (৪৫) বলেন, বহু বছর ধরে আমরা এই বাঁশের সেতুর ওপর নির্ভর করে চলাচল করছি। একটি স্থায়ী সেতুর আশ্বাস মিললেও দীর্ঘদিনের তা বাস্তবায়ন হয়নি। ফলে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়েই আমাদের যাতায়াত করতে হয়।শুধু একটি সেতুর অভাবে কয়েকটি গ্রামের সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ীরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। চুয়াডাঙ্গা, দামুড়হুদা কিংবা মেহেরপুরে যেতে হলে এই ঝুঁকিপূর্ণ সেতু পার হতে হয়।
অন্যদিকে বিকল্প পথে গেলে ৪-৫ কিলোমিটার ঘুরে যেতে হয়। একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ হলে হাজারো মানুষের দুর্ভোগ লাঘব হবে।দুলালনগর পূর্বপাড়া জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা ফারুকুজ্জামান বকুল (৫৫) বলেন, একটি সেতুর অভাবে বছরের পর বছর আমরা দুর্ভোগ পোহাচ্ছি। মাঠ থেকে ফসল ঘরে তুলতে কিংবা নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজে যেতে অতিরিক্ত কয়েক কিলোমিটার পথ ঘুরতে হয়। এতে সময় যেমন নষ্ট হয়, বাড়তি অর্থ ব্যয় হয় তেমনি ভোগান্তি তো আছেই। আমরা দ্রুত একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণের দাবি জানাচ্ছি।স্থানীয় ওই এলাকার বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম (৬০) ও নজরুল ইসলাম জানান, বিভিন্ন সময় সরকারি কর্মকর্তারা এসে স্থান পরিদর্শন ও পরিমাপ করে গেলেও এখনো কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি। ফলে এলাকাবাসীর মধ্যে হতাশা বাড়ছে।
এদিকে সরকারী ভাবে ডেকে নেওয়া ইজারাদার নিজস্ব অর্থায়নে বাঁশের সেতুটি নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা ছলিমুদ্দিনের ছেলে নাজমুল হোসেন বলেন, সেতুটি নির্মাণ করতে তাদের খরচ হয়েছে দেড় লক্ষ টাকার মত।অথচ সংস্কারে প্রতি বছর তার প্রায় ৫০-৬০ হাজার টাকার মতো খরচ হয়।কিন্তু প্রতিদিন ৪-৫ গ্রামের হাজার মানুষ এখান দিয়ে নিয়মিত পারাপার হলে ও তারা ঠিকমত টোল না দেওয়ায় সেই খরচ ওঠে না।
প্রতিবছর বাঁশ ও কাঠ নষ্ট হয়ে যায়, আবার সংস্কার করতে হয় এতেও মোটা অংকের খরচ হয়। এবারও সেতটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। খরচের তুলনায় আয় না থাকায় নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ করা কঠিন হয়ে যাচ্ছে।তারপরও মানুষের সুবিধার কথা চিন্তা করে সেতুটি চালু রেখেছি।স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ এই সেতু ব্যবহার করলেও বর্তমানে সেটি অত্যান্ত ঝুঁকিপূণ্য হয়ে পড়েছে। এখনই সংস্কার না করলে চলতি বর্ষা মৌসুমে পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে স্রোতের তোড়ে সেতুটি ভেসে যেতে পারে ও যেকোন সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা।এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী খালিদ হাসান বলেন,সেতুটির বর্তমান অবস্থা আমরা পর্যবেক্ষণ করেছি এবং বিষয়টি সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।
স্থায়ী সেতু নির্মাণের জন্য প্রস্তাবনা পাঠানোর প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। জনগণের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা করা হচ্ছে। ততদিন পর্যন্ত সবাইকে সতর্কতার সঙ্গে সেতুটি ব্যবহার করার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।এলাকাবাসীর দাবি, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে ওই স্থানে দ্রুত একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ করা হোক। তাদের মতে, একটি স্থায়ী সেতু নির্মিত হলে কয়েকটি গ্রামের হাজারো মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান ঘটবে এবং শিক্ষা, কৃষি ও ব্যবসা-বাণিজ্যে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
কমেন্ট বক্স