১৮ অক্টোবর ২০২৬ , ৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

​কিশোরগঞ্জে ফুটপাত মুক্ত করতে উচ্ছেদ অভিযান

আপলোড সময় : ০৪-০৬-২০২৬
​কিশোরগঞ্জে ফুটপাত মুক্ত করতে উচ্ছেদ অভিযান অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হচ্ছে।

এ জেড আল মুজাহিদ, কিশোরগঞ্জ : কিশোরগঞ্জ শহরের তীব্র যানজট কমাতে এবং সাধারণ মানুষের নির্বিঘ্নে চলাচলের স্বার্থে কঠোর অবস্থানে নেমেছে প্রশাসন। এরই ধারাবাহিকতায়, গত বুধবার (৩ জুন) থেকে শহরজুড়ে একটি বিশেষ ও বড় ধরনের যৌথ উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়েছে। কিশোরগঞ্জ পৌরসভা ও জেলা পুলিশের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই অভিযানের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান। বেলা ১১টায় শহরের বটতলা মোড় এলাকায় এই কার্যক্রম শুরু হয়। প্রথম ধাপে মূলত বিভিন্ন স্থায়ী দোকানের বাইরের অবৈধ বর্ধিত অংশ (এক্সটেনশন) ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, এই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার আগে দখলদারদের সতর্ক করতে মোট ছয়বার নোটিশ, গণবিজ্ঞপ্তি এবং মাইকিংয়ের মাধ্যমে সচেতন করা হয়েছিল। নির্দেশনা অমান্য করায় অভিযানের প্রথম দিনেই শহরের বটতলা মোড় থেকে একরামপুর মোড় পর্যন্ত ফুটপাতে গড়ে ওঠা সব ধরনের অবৈধ দোকানপাট ও স্থাপনা ভেঙে দেওয়া হয়।

অভিযান চলাকালে গণমাধ্যমকর্মীদের সাথে আলাপকালে পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানান যে, শহরের ফুটপাত ও সড়ককে অবৈধ দখলমুক্ত করতে প্রশাসন দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা চালিয়ে আসছে। তিনি স্পষ্ট করেন যে, প্রথম ধাপে বড় বড় দোকানদারদের ফুটপাত দখল করে রাখা অতিরিক্ত অংশ উচ্ছেদ করা হচ্ছে যাতে পথচারীরা নিরাপদে যাতায়াত করতে পারেন। এর পরবর্তী ধাপে সড়ক দখল করে থাকা ভ্যানচালকদের উচ্ছেদ না করে, তাদের জন্য বিকল্প জায়গা নির্ধারণের মাধ্যমে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।

অন্যদিকে, কিশোরগঞ্জ পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ শফিকুর রহমান জানান, শহরের যানজট পরিস্থিতি এমন চরম পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে অনেক সড়কই চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছিল। রাস্তা বড় করা এবং যানজট দূরীকরণে নাগরিকদের দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসন, পুলিশ, পৌরসভা ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সাথে একাধিক বৈঠক করেই এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বারবার নোটিশ দেওয়ার পরও যারা নিজ দায়িত্বে অবৈধ অংশ সরাননি, তাদের বিরুদ্ধেই মূলত এই ব্যবস্থা। এই অভিযানে আইনশৃঙ্খলার পাশাপাশি তিনজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটসহ জেলা ও পৌর প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সক্রিয়ভাবে অংশ নেন।

শহরের এই উদ্ভূত পরিস্থিতি ও প্রশাসনের পদক্ষেপ নিয়ে কথা বলেন জেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি খালেদ হাসান জুম্মন। তিনি উল্লেখ করেন, দীর্ঘদিন ধরে ফুটপাত ও রাস্তা দখল করে দোকানপাট বসানোর কারণে পথচারীরা বাধ্য হয়ে মূল সড়ক দিয়ে হাঁটছিলেন, যা প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছিল। প্রশাসনের এই 'জিরো টলারেন্স' নীতি ও উচ্ছেদ অভিযানকে সাধুবাদ জানিয়েছেন কিশোরগঞ্জের সাধারণ জনগণ। তাদের মতে, ফুটপাত পুরোপুরি ফাঁকা রাখা এবং এটি বজায় রাখতে নিয়মিত তদারকি করা হলে শহরের দীর্ঘদিনের তীব্র যানজট অনেকটাই কমে আসবে।

উক্ত উচ্ছেদ অভিযান চলাকালে মাঠ পর্যায়ে আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. শরিফুল হক, কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবুল কালাম ভূঞা, পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রফিকুল ইসলামসহ জেলা পুলিশ ও পৌরসভার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।


কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ