দীর্ঘ সময় পর এই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ফিরে আসা কেবল একটি নির্বাচন নয়, বরং জনমতের প্রতিফলনের এক নতুন অধ্যায় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এই দীর্ঘ সময়ে একটি পুরো প্রজন্ম প্রাপ্তবয়স্ক হয়েছে, যারা আগে কখনো ব্যালটে সিল মারার অভিজ্ঞতা পায়নি। তাই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার এই ফিরে আসাকে ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ করা যাচ্ছে।
দীর্ঘ বিরতির পর আজ ভোটাররা তাদের পছন্দের প্রতিনিধি নির্বাচনে সরাসরি অংশ করছেন। এ নির্বাচনে নতুন ভোটারদেরও অংশগ্রহণ বেড়েছে। যারা গত দুই দশকে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন, তাদের জন্যও এটি জীবনের প্রথম ব্যালট অভিজ্ঞতা।
মিরপুর-কল্যাণপুর গার্লস স্কুলে ভোট দিতে এসেছেন তানভীর আহমেদ। বলেন, আমি এক্সাইটেড, জীবনের প্রথম ভোট দিলাম। ভালো একটা অভিজ্ঞতা হলো, পরিবেশটা ভালো, আগামীতেও এই রকম পরিবেশ থাকুক, এমনটাই প্রত্যাশা করি। ৮০ বছর বয়সী বিলকিস বেগম ধীরে ধীরে ঢুকলেন কল্যাণপুর গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রাঙ্গণে। এক আত্মীয়ের কাঁধে হাত রেখে এগিয়ে এলেন।
ভিড় বাড়ার আগেই এসে পৌঁছেছিলেন– উদ্দেশ্য একটাই, ভোট দেবেন। বিলকিসের জন্য এই হাঁটাটা শুধু নাগরিক দায়িত্ব ছিল না, ছিল ১৮ বছরের অপেক্ষার অবসান। তিনি বলেন, সর্বশেষ ভোট দিয়েছি ২০০৮ সালে। এরপর যখনই কেন্দ্রে এসেছি, শুনেছি আমার ভোট নাকি হয়ে গেছে। আজ নিজের হাতে ভোট দিতে পেরেছি, খুব ভালো লাগছে।
ঢাকা-১৪ আসনের ১০৬ নম্বর কেন্দ্রটি স্কুল প্রাঙ্গণের ভেতরে। এলাকার বেশ কয়েকটি কেন্দ্রের একটি এটি। সকাল থেকে শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশের কথা জানান কর্মকর্তারা।
সকাল সাড়ে ৭টা থেকেই স্কুলের সামনে দেখা যায় দীর্ঘ লাইন। নারী ও পুরুষের জন্য আলাদা সারিতে দাঁড়িয়েছিলেন প্রায় ৫০০ ভোটার। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভিড়ও বাড়তে থাকে।
কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও পরিদর্শক মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, সময়মতো ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে এবং গেট খোলার পরপরই ভোটাররা আসতে শুরু করেন। এখন পর্যন্ত কোনো নিরাপত্তা সমস্যা হয়নি এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে।
১০৬ নম্বর কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার সোহাগ হোসেন জমাদ্দার বলেন, দুপুর ১২টা পর্যন্ত ভোট পড়েছে প্রায় ২০ শতাংশ। দিন শেষে ভোটার উপস্থিতি ৬০ শতাংশ ছাড়াবে বলে আশা করছি। এই কেন্দ্রে নিবন্ধিত পুরুষ ভোটার ২,৬৩৪ জন। পুরো স্কুল প্রাঙ্গণে মোট ১০টি কেন্দ্র রয়েছে।
পাশের ১০৩ নম্বর কেন্দ্রে নারী ভোটার প্রায় ২,৫৪০ জন। সেখানে দায়িত্বপ্রাপ্ত আরেক প্রিজাইডিং কর্মকর্তা জানান, নারী ভোটারদের উপস্থিতি তুলনামূলক বেশি। পরিবেশটা উৎসবমুখর মনে হচ্ছে। মানুষ আগ্রহ নিয়ে আসছেন। নির্বাচন কমিশন এবার ভালো পরিবেশ তৈরি করতে পেরেছেন বলে তিনি জানান।