• জাতীয়
  • ৭ দিন সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর অফিস, এসেছে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা

৭ দিন সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর অফিস, এসেছে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা

জাতীয় ১ মিনিট পড়া
৭ দিন সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর অফিস, এসেছে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠনের পর থেকে গত বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) পর্যন্ত সাতদিন সচিবালয়ে অফিস করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

এ সময়ে ফ্যামিলি কার্ড চালু, খাল খনন শুরু, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল চালু, কৃষক কার্ড চালুসহ গুরুত্বপূর্ণ বেশ কিছু বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্দেশনা দিয়েছেন।

প্রতিদিনই প্রধানমন্ত্রী সকালে সচিবালয়ে অফিসে আসছেন। সারাদিন তিনি অফিস করছেন, দাপ্তরিক কাজকর্ম সারছেন এবং মন্ত্রীদের সঙ্গে প্রতিদিনই কয়েকটি করে বৈঠক করছেন।

কোনো কোনো দিন রাত পর্যন্তও অফিস করতে দেখা গেছে তাকে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রতিদিন দীর্ঘ সময় ধরে সচিবালয়ে অফিস করায় সচিবালয়ও প্রাণচঞ্চল হয়ে উঠেছে, প্রশাসনের কেন্দ্রবিন্দু কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও উজ্জীবিত হয়ে উঠেছেন। এদিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানই প্রথম সচিবালয়ে এভাবে নিয়মিত অফিস করছেন। প্রতিদিনই তিনি বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব প্রাপ্ত মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের ডাকছেন এবং তাদের সঙ্গে বৈঠক করে সরকারের করণীয়গুলো নির্ধারণ করছেন এবং তা বস্তবায়নের নির্দেশ দিচ্ছেন।

এর আগে কোনো প্রধানমন্ত্রীকে সচিবালয়ে প্রতিদিন অফিস করতে দেখা যায়নি। সচিবালয়ের ১ নম্বর ভবনের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ২০১ নম্বর কক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বসছেন। এ কক্ষটি প্রধানমন্ত্রীর অফিস। এ কক্ষে বসেই তিনি সরকারের ও রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ দাপ্তরিক কার্যক্রম সারছেন।

এখানে বসেই তিনি সরকারের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো নিচ্ছেন এবং তা বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টদের। প্রধানমন্ত্রীর অফিস কক্ষের পাশেই মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষ। সেখানে মন্ত্রিসভার বৈঠকসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকও করছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীার সচিবালয়ে প্রতিদিন আসা এবং দীর্ঘ সময় অফিস করায় সচিবালয়ও কর্মব্যস্ততায় মুখর হয়ে উঠেছে।

প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনায় এরই মধ্যে প্রশাসনিক কার্যক্রম ও উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী এবং প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা পুরোদমে কাজ শুরু করে দিয়েছেন।

সচিবালয়ে বসে তিনি প্রশাসনিক ব্যাপারেও বিভিন্ন দিক নির্দেশনা দিচ্ছেন বলে জানা গেছে।

প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয়ে অফিসের পঞ্চম দিন মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীতে এক স্কুলছাত্র অপহরণের ঘটনা ঘটে৷ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হস্তক্ষেপে অপহরণের সোয়া এক ঘণ্টার মধ্যেই ওই স্কুলছাত্রকে উদ্ধার করে ‍পুলিশ। তিনি সচিবালয় থেকে ওই ছাত্রকে উদ্ধারের জন্য পুলিশকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেন৷ ওইদিন বিকেলে রাজধানীর খিলগাঁওয়ের নির্মাণাধীন একটি ভবন থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। ওই স্কুলছাত্রের বাবা তথ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মচারী।

সূত্র থেকে জানা যায়, মঙ্গলবার বিকেলে তথ্য মন্ত্রণালয়ের ওই কর্মচারী সচিবালয়ে ছিলেন। ছেলে অপহরণ হওয়ার খবর শুনে তিনি কাঁদতে কাঁদতে প্রধানমন্ত্রীর অফিসে যান। তিনি প্রধানমন্ত্রীকে বিষয়টি জানান। খবরটি শুনেই প্রধানমন্ত্রী পুলিশের রমনা বিভাগের উপকমিশনারকে (ডিসি) ফোন করে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ পাওয়ার পর স্কুলছাত্রকে উদ্ধারে অভিযান শুরু করে পুলিশ। ছাত্রটি খিলগাঁওয়ের ন্যাশনাল ল্যাবরেটরি আইডিয়াল স্কুলে নবম শ্রেণিতে পড়ে। এরপর বিকেল পাঁচটার দিকে একটি নির্মাণাধীন ভবনে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ছাত্রটিকে উদ্ধার করে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রথম দিন বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে সচিবালয়ের ২০১ নম্বর কক্ষে অফিস শুরু করেন। এদিন দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সচিবালয়ে পৌঁছান তারেক রহমান। সচিবালয়ে মধ্যাহ্নভোজ ও জোহরের নামাজ আদায় করেন প্রধানমন্ত্রী। প্রথম কর্মদিবসেই তিনি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। এসব বৈঠক থেকে প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতি আনতে তার সরকারের নেওয়া পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন। এরপর বিকেল ৩টায় মন্ত্রিসভার বৈঠক করেন। প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন বিষয় প্রধান্য দিয়ে ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা ঠিক করার নির্দেশ দেন। বিশেষ করে বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের ওপর গুরুত্ব দিয়ে কাজের পরিকল্পনা নির্ধারণ ও সে অনুযায়ী কাজ করার নির্দেশনা দেন তিনি। এরপর বিকেল ৪টায় সচিবদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। সচিবালয়ে আছর এবং মাগরিব নামাজ পড়েন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ওই দিন সচিবালয়েই প্রধানমন্ত্রী হিসেবে জাতির উদ্দেশে দেওয়া তার প্রথম ভাষণ রেকর্ড করা হয়। পরে সাড়ে ৭টার দিকে তিনি সচিবালয়ের অফিস থেকে বের হয়ে যান।

বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) দ্বিতীয় দিন প্রধানমন্ত্রী সচিবালয়ে আসেন সকাল সাড়ে ৯টায়৷ এ দিনও তিনি কর্মব্যস্ত দিন কাটান সচিবালয়ে৷ এনএসআই মহাপরিচালক, ১০টায় ডিজিএফআই মহাপরিচালক, সাড়ে ১০টায় তিন বাহিনীর প্রধানরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। সাড়ে ১১টায় ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করতে কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করা সংক্রান্ত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি দুপুর ২টায় ‘৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ’ এবং জাতীয় পর্যায়ে ‘নদী-খাল-জলাধার খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচি’ বিষয়ক আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় অংশ নেন। দ্রুতই সরকারের অগ্রাধীকারের এসব কার্যক্রম শুরু হবে৷

রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে তৃতীয় দিন সকাল ৯টা ৫ মিনিটে অফিসে আসেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এরপর সকাল সাড়ে ১০টায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও সচিবের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ, ১১টায় সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ, ১২টায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সভাকক্ষ ২১৬ নম্বর কক্ষে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল বিষয়ে সভা করেন প্রধানমন্ত্রী৷ এদিন দুপুর ২টায় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সভাকক্ষে সুস্বাস্থ্যের বাংলাদেশ গঠন বিষয়ক সভা হয়। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ের চতুর্থ দিন সকাল ৯টা ২০ মিনিটে আসেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এদিন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ২০১ নম্বর কক্ষে সকাল সাড়ে ৯টায় মেজর জেনারেল মীর মুশফিকুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন। এরপর সোয়া ১০টায় জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা, জনপ্রাশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। বেলা ১১টায় চীনের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। দুপুর ১২টায় সচিবালয় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ২০০ নং কক্ষে ‘কৃষক কার্ড’ চালু সংক্রান্ত সভার সভাপতিত্ব করেন। এরপর প্রধানমন্ত্রী বিডার চেয়ারম্যান আশিকুর রহমানসহ অন্যদের সঙ্গে সভা করেন।

বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সচিবায়ের ষষ্ঠদিন সকাল ১১টার দিকে অফিসে আসেন প্রধানমন্ত্রী৷ এদিন সচিবালয়ে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন৷

সাক্ষাতের পর মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, জুলাই আন্দোলনে অংশ নেওয়া কিছু বঞ্চিত পরিবার রয়েছে, যাদের বিগত সময় বিএনপি দলীয় পরিচয় দেখে পুনর্বাসন সহায়তা স‌ঠিকভা‌বে দেওয়া হয় নাই। সেগুলো আমরা খতিয়ে দেখছি। আমাদের কাছে কোনো রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনাধীন হবে না। আন্দোলনে আত্মত্যাগ করেছেন যারা, তাদের সবাইকে পুনর্বাসন করা হ‌বে, আহতদের চিকিৎসা নিশ্চিত করা হ‌বে এবং শহীদদের পরিবারকে পুনর্বাসন করা হ‌বে, তা‌দের প্রাপ‌্য সম্মান তা‌দের দেওয়া হ‌বে।

প্রতিমন্ত্রী ব‌লেন, জুলাই যোদ্ধা‌দের পুনর্বাসনের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী জানতে চেয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী আমাদের ডেকেছিলেন এবং জুলাই অভ্যুত্থানে যারা আহত তাদের চিকিৎসা তাদের পুনর্বাসন তাদের পরিবারের সদস্যদের শিক্ষাসহ বি‌ভিন্ন ভাতার বিষয়ে উনি খোঁজখবর নিয়েছেন। জুলাই ফাউন্ডেশনের অতীতের যে কার্যক্রম রয়েছে, আপনারা জানেন যে সেখানে একটা বড় অংকের তহ‌বিল সরকারের তরফ থেকে দেওয়া হয়েছিল। সেগুলা ঠিকমতো ব‌্যবহার হয়েছে কিনা জানতে চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। আমরা ওনাকে জানিয়েছি। এদিন দুপুর ২টায় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে দেখা করেন৷ এ সময় বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) এবং বাংলাদেশ বেতারসহ অন্যান্য গণমাধ্যম নিয়ে আলোচনা হয়৷

পরে সাংবা‌দিক‌দের তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আমাদের মন্ত্রণালয়ের কাজের পরিকল্পনা এবং অগ্রগতি নিয়ে আজ মতবিনিময় করেছি। উনি সময় নিয়ে আমাদের কথা শুনেছেন। বিশেষ করে বিটিভি এবং বাংলাদেশ বেতারকে কীভাবে আমরা জনগণের কাজে লাগাতে পারি সে বিষয়ে উনি দীর্ঘক্ষণ কথা বলেছেন। প্রধানমন্ত্রী সবচাইতে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন, বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের জন্য মূল্যবোধ গড়ার কাজে আমাদের সরকারের অধীনস্ত সমস্ত প্রচার মাধ্যমকে আমরা কীভাবে কাজে লাগাতে পারি এবং একই সঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়াকেও আমরা কীভাবে কাজে লাগাতে পারি। এ ধরনের একটা দিক-নির্দেশনার মধ্যেই আজকের আলোচনা সীমাবদ্ধ ছিল। আমরা সে অনুযায়ী একটা প্রস্তাবনা তৈরি করে ভবিষ্যতে আবার কথা বলব।

বিটিভির বিষয়ে আপনারা কী পদক্ষেপ নিতে চাচ্ছেন এমন প্রশ্নের জবাবে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, একটা তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর কমিউনিকেশন সিস্টেমের মধ্যে সারা পৃথিবী এখন প্রবেশ করেছে। আমরা সেই আলোকে বিটিভিকে একটা জনগণের প্রচার মাধ্যমে রূপান্তর করতে চাই। এ বিষয়ে আমরা হোমওয়ার্ক করব।

Tags: প্রধানমন্ত্রী অফিস সচিবালয় এসেছে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা