একজন প্রধানমন্ত্রীর এরকম হেঁটে যাওয়া ও হেঁটে আসা ‘নজিরবিহীন’ বলছেন সবাই। কেউ কেউ বলছেন, ভিভিআইপি হয়েও হেঁটে যাওয়া-আসায় তিনি সাধারণ মানুষের মন জয় করে নিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ১২টা ৫ মিনিটের দিকে সচিবালয়ের মূল ফটক দিয়ে হেঁটে সচিবালয়ে ঢোকেন তারেক রহমান। এরপর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে নিজ দপ্তরে প্রবেশ করেন তিনি। হেঁটে আসার সময় কন্যা জাইমা রহমান তার সঙ্গে ছিলেন।
এসময় দেখা গেছে, দুপুর ১২টা ৫ মিনিটের দিকে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তন থেকে মেয়ে জাইমা রহমানসহ হেঁটে হেঁটে সচিবালয়ে আসেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
মূল ফটক দিয়ে সচিবালয়ে আসার সময় সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনেকেই দুপাশে দাঁড়িয়ে তাকে সালাম দেন। প্রধানমন্ত্রীও হাত নেড়ে সালামের জবাব দেন। এসময় অনেকে মোবাইলে ছবি ও ভিডিও ধারণ করেন। এর আগে সকাল ১০টা ৪৭ মিনিটে সচিবালয়ের ১ নম্বর ভবনের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে ৫ নম্বর গেট দিয়ে হেঁটে বেরিয়ে যান।
সচিবালয়ের ৫ নম্বর গেট দিয়ে হেঁটে বের হয়ে যাওয়ার সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গেটম্যানের সালাম গ্রহণ করেন। ফুটপাত দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় দাঁড়িয়ে থাকা জনসাধারণের সালামের জবাব দেন। এসময় বাইরের পরিস্থিতি স্বাভাবিক ছিল। জনসাধারণ স্বাভাবিক চলাফেরা করেছে। এর মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী হেঁটে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে যান।
ফুটপাতে দাঁড়িয়ে থাকা সুমন মিঞা বলেন, এমন প্রধানমন্ত্রীই আমরা চাই, যিনি সাধারণ মানুষের কষ্ট বুঝবেন। সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশে যাবেন। এর আগে কোনো প্রধানমন্ত্রীকে হেঁটে সচিবালয় থেকে বের হতে দেখিনি। শুধু তা-ই নয়, তিনি দাঁড়িয়ে থাকা লোকজনের সালামের জবাবও দিয়েছেন। একজন প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমরা এটাই চাই।
সচিবালয়ের মূল ফটকের দায়িত্বে থাকা একজন পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, একজন প্রধানমন্ত্রী হেঁটে যাচ্ছেন-এর মাধ্যমে তিনি সাধারণ মানুষের মন জয় করে ফেলেছেন।
মূল ফটকের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা এক পথচার বলেন, আমি এই প্রথম কোনো প্রধানমন্ত্রীকে হেঁটে সচিবালয়ে ঢুকতে দেখেছি। তবে একটা বিষয়-আমরা এত দিন অভ্যস্ত ছিলাম, কোনো প্রধানমন্ত্রী বাইরে বের হলেই তার সঙ্গে প্রায় ১৫টি গাড়ি থাকে। সে সময় রাস্তায় তীব্র যানজট সৃষ্টি হতো। দীর্ঘক্ষণ মানুষ রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকত। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাধারণ মানুষের কষ্টটা বুঝতে পেরেছেন। অল্প দূরত্বে গাড়ি নিয়ে বের হলে যানজট হতো, তাই তিনি হেঁটেই গিয়েছেন। এজন্য তাকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। একই সঙ্গে তিনি ভবিষ্যতে আরও এ রকম নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করবেন বলে আশা করছি।
জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী সকাল ৯টা ৪ মিনিটে সচিবালয়ে প্রবেশ করেন। এরপর ৯.৩০ মিনিটে নতুন সরকারের প্রথম কেবিনেট সভা করেন। এরপর ১০.৪৭ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ‘একুশে পদক’ প্রদান অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার উদ্দেশ্যে সচিবালয় থেকে হেঁটে বেরিয়ে যান, যেখানে তিনি দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক এ সম্মাননা প্রদান করেন।
এদিন বিকেলেই বাংলা একাডেমি ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যান প্রাঙ্গণে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেবেন বছরের সবচেয়ে বড় সাংস্কৃতিক মিলনমেলা ‘অমর একুশে বইমেলা’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে।