সচিবালয়ে আসছেন প্রায় সবার আগেই। কাজ করছেন দীর্ঘ সময়। দুপুর গড়িয়ে কখনও বিকেল, কখনও সন্ধ্যা। প্রচলিত রেওয়াজের বাইরে প্রতিদিনই নতুন উদাহরণ সৃষ্টি করছেন প্রধানমন্ত্রী।
সৃষ্টি করছেন চমক। যেমন— সকাল ৯টায় অফিসে চলে আসা, সড়কে চলতে প্রটোকল না নেওয়া, ট্রাফিক সিগন্যাল মেনে চলা, স্বল্প দূরত্বের পথে হেঁটে যাওয়া। গতানুগতিকতার বাইরে একজন রাষ্ট্রপ্রধানের এমন কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তারেক রহমান জনসাধারণের মনে জায়গা করে নিচ্ছেন। তার এসব খুঁটিনাটি বিষয় নিয়ে মানুষের আগ্রহ ব্যাপক।
তাই তার সংবাদ কাভারেজে সংবাদকর্মীরাও সকাল, বিকেল, সন্ধ্যা ছুটে চলছেন। এক্ষেত্রে সাংবাদিকদের নিয়মিত ডিউটির খানিকটা ব্যত্যয়ও ঘটছে। সচিবালয় বিটে কাজ করা কয়েকজন সাংবাদিকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আগের প্রধানমন্ত্রীরা হয়তো সপ্তাহে এক দিন, মন্ত্রিসভার বৈঠকের দিন, সচিবালয়ে আসতেন। মাঝে মধ্যে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় পরিদর্শন করতেন। তবে তা সপ্তাহে এক দিনের বেশি নয়।
সচিবালয়ে এলেও মন্ত্রিসভার বৈঠক বা সংশ্লিষ্ট বৈঠক শেষ করে দ্রুত চলে যেতেন। কিন্তু নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ব্যতিক্রম। তিনি সচিবালয়ে যেমন সকাল সকাল আসছেন, অফিস শেষে বেরিয়েও যাচ্ছেন দেরিতে। প্রধানমন্ত্রী সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অফিস কক্ষে কাজ করার সময় সাংবাদিকরা বিভিন্ন বৈঠকের সংবাদ কাভারেজের জন্য স্ট্যান্ডবাই থাকেন। কারণ, বৈঠক শেষে মন্ত্রী কিংবা সচিবরা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ব্রিফ করেন।
নিয়মিত সচিবালয়ের সংবাদ কাভারেজ দেওয়া সাংবাদিকরা বলছেন, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিদিন অফিস করায় তাদের আগের ধারার কাজের ছন্দপতন ঘটছে। তাই শিফট করে দায়িত্ব পালন করছেন তারা। তবে কাজের চাপ থাকলেও সরকারপ্রধানের প্রায় সামনাসামনি থেকে দায়িত্ব পালন করাটাও তাদের জন্য গর্বের।
যেমন বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে সচিবালয়ে এসে পৌনে ১১টার দিকে হঠাৎ করেই হেঁটে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে যান তারেক রহমান। সেই দৃশ্য একেবারে কাছ থেকে মোবাইল বা ক্যামেরায় ধারণ করার সুযোগ পান সাংবাদিকরা। আবার সচিবালয়ে হেঁটে ফিরে আসার ঘটনাও চমকে দেয় তাদের। সেই দৃশ্যও ধারণ করে অফিসে ছবি, তথ্য, সংবাদ ও ভিডিও পাঠান সাংবাদিকরা।
নতুন প্রধানমন্ত্রী বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে প্রথম আনুষ্ঠানিক মন্ত্রিসভা বৈঠক করেন। এই বৈঠক নিয়ে সাংবাদিকদের আগ্রহ ছিল অনেক বেশি।
মন্ত্রিসভা বৈঠক শেষে ব্রিফিংকালে এক প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নিয়মিত অফিস করেন। সবার আগে চলে আসেন।
প্রধানমন্ত্রী কি এখন থেকে সচিবালয়ে নিয়মিত অফিস করবেন— এমন প্রশ্নে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, উনার অফিস এখানেও আছে। উনি ইচ্ছা করলে এখানে করতে পারেন। সাধারণত ওনারা অন্য অফিসে করেন। কিন্তু উনি জনদুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে অনেক কাজই করছেন। রাস্তায় প্রটোকল নিচ্ছেন না। উনি একটু আগে চলে আসেন যাতে বাধা সৃষ্টি না হয়, স্বাভাবিকভাবে আসতে পারেন। এর ফলে অন্যদের মধ্যেও যে চাপ তৈরি হওয়া উচিত, সেটি তৈরি হয়েছে।
দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাপ্তাহিক ছুটির দিনও অফিস করার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে গত শনিবার তিনি অফিস করেছেন। এছাড়া প্রতি বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে মন্ত্রিসভা বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী অংশ নেবেন বলে জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি।
এদিকে জানা গেছে, সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর টানা অফিস কার্যক্রমের সংবাদ সংগ্রহে সাংবাদিকদের বিরামহীন পরিশ্রমের বিষয়টি তার নজরে এসেছে। তারেক রহমান সাংবাদিকদের কষ্ট লাঘবে করণীয় বিষয়ে তথ্য মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দিয়েছেন। এজন্য তথ্য সচিব বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের বসার জায়গা গণমাধ্যম কেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন। এসময় সচিবালয় বিটে কর্মরত সাংবাদিকদের সংগঠন বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরামের (বিএসআরএফ) সভাপতি মাসউদুল হক উপস্থিত ছিলেন। তিনি গণমাধ্যম কেন্দ্র ঘুরে দেখান।