• জাতীয়
  • পরিবহন খাতে দিনে ১০০ কোটি টাকার চাঁদা, গাবতলীতে ৬০ লাখ

পরিবহন খাতে দিনে ১০০ কোটি টাকার চাঁদা, গাবতলীতে ৬০ লাখ

জাতীয় ১ মিনিট পড়া
পরিবহন খাতে দিনে ১০০ কোটি টাকার চাঁদা, গাবতলীতে ৬০ লাখ

দেশের পরিবহন খাতে প্রতিদিন প্রায় ১০০ কোটি টাকা চাঁদা আদায় হয়। রাজধানীসহ সারা দেশে বাস, ট্রাক, সিএনজি, ব্যাটারিচালিত রিকশা ও অন্যান্য যানবাহন থেকে নানা নামে এই অর্থ তোলা হয়।

এই চাঁদাবাজির পেছনে মালিক-শ্রমিক সংগঠনের একাংশ, রাজনৈতিক প্রভাবশালী নেতা, এমনকি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অসাধু সদস্যদের সম্পৃক্ততার অভিযোগও রয়েছে।

বিভিন্ন সূত্র জানায়, এই অর্থের বেশিরভাগই ভয়ভীতি দেখিয়ে আদায় করা হয়।

কোথাও চাঁদা নেওয়া হয় টার্মিনাল ব্যবস্থাপনার নামে, কোথাও পার্কিংয়ের নামে। কোথাও আবার পৌর টোলের সঙ্গে জোরপূর্বক অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হয়। এ ছাড়া সড়কে দায়িত্ব পালন করা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, গোয়েন্দা সংস্থার সদস্য এবং থানা পুলিশের এক শ্রেণির অসাধু সদস্য এসব চক্রের সঙ্গে যুক্ত। নিরুপায় হয়ে পরিবহন চালক ও মালিকরা বছরের পর বছর ধরে এসব চাঁদা পরিশোধ করে যাচ্ছেন। তারা জানান, পরিবহনে চাঁদাবাজির ফলে পরিবহন ভাড়াও বাড়ে। সবজিসহ বিভিন্ন পণ্যসামগ্রীর দাম হয়ে যায় আকাশছোঁয়া। দিনশেষে সব বোঝা গিয়ে পড়ে জনগণের ঘাড়ে। ‘সমঝোতা সিস্টেম’-এর নামে চাঁদাবাজির খেসারত দিতে হয় আমজনতাকে।

এর ফলে সমাজের মধ্যবিত্তের যাপিত জীবন আরও দুর্বিষহ হয়ে ওঠে। সরকার আসে, সরকার যায়; কিন্তু প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের এই চাঁদাবাজি আর বন্ধ হয় না। অভিযোগ রয়েছে, শ্রমিক ও মালিক সংগঠনের সদস্যদের কল্যাণের নামে এভাবে চাঁদা আদায় করা হলেও বাস্তবে যা হচ্ছে তা স্রেফ চাঁদাবাজি। এসব চাঁদার ৯০ শতাংশ চালক-কন্ডাক্টরদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক নেওয়া হয়। চাহিদামাফিক চাঁদার টাকা না দিলে গাড়ি ভাঙচুরের পাশাপাশি মারধরও করা হয়।

এ ছাড়া মাঠপর্যায় থেকে বিপুল পরিমাণ চাঁদার টাকা কত হাত ঘুরে কোথায় যায় এবং কারা এর ভাগ পায়—সে বিষয়ে কেউ মুখ খুলতে চান না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মালিক-শ্রমিকদের অনেকে জানান, মূলত এসব চাঁদার টাকার ওপর ভর করে স্বাধীনতার পর এক শ্রেণির মালিক-শ্রমিক নেতা ‘জিরো থেকে হিরো’ বনে গেছেন। কেউ কেউ এমপি-মন্ত্রীও হয়েছেন। সরকার বদল হলেও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের এসব প্রভাবশালী নেতা নিজেদের মধ্যে এক ধরনের আপস করে চলেন। সারা দেশে এ সেক্টরের লাখ লাখ সাধারণ শ্রমিককে পুঁজি করে রাজনীতির হাত শক্তিশালী করা এবং রাজনীতিকে জিম্মি করার অভিযোগও রয়েছে।

গত ১৯ ফেব্রুয়ারি মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এক মতবিনিময় সভা শেষে পরিবহন খাতের চাঁদাবাজি প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেল ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, ‘সড়কে পরিবহনের চাঁদা যেটা বলা হয়, সেভাবে আমি চাঁদা দেখি না। মালিক সমিতি, শ্রমিক সমিতি আছে, তারা তাদের কল্যাণে এটা ব্যয় করে। এটা অলিখিত বিধির মতো। চাঁদা আমি সেটাকে বলতে চাই, যেটা কেউ দিতে চায় না বা বাধ্য করা হয়। মালিক সমিতি নির্দিষ্ট হারে টাকা তুলে মালিকদের কল্যাণে ব্যবহার করতে চায়। কতটুকু ব্যবহার হয়, সেটা নিয়ে হয়তো বিতর্ক আছে। কিন্তু তারা সমঝোতার ভিত্তিতে এ কাজটা করে।’

Tags: গাবতলী পরিবহন খাতে কোটি টাকার চাঁদা