কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে বসেছে মৌসুমি তুলার হাট। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সপ্তাহজুড়ে এসব হাটে স্থানীয় চাষিরা তুলা বিক্রি করতে আসছেন। হাটে এসে মিলাররা বস্তাভর্তি তুলার আর্দ্রতা পরীক্ষা করে তা ক্রয় করছেন।
চাষিদের অভিযোগ, দীর্ঘমেয়াদি এই ফসলের আবাদ থেকে শুরু করে বিক্রয় পর্যন্ত এ বছর খরচ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। কিন্তু গত বছরের তুলনায় বাজারে দাম কম থাকায় হতাশ ও ক্ষুব্ধ তারা। তবে তুলা উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চলতি মৌসুমে কুষ্টিয়া জোনে কৃষি প্রণোদনা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এবার উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ব্যাপকভাবে বেড়েছে তুলার চাষ। বিশেষ করে হাইব্রিড জাতের রুপালি-১, হোয়াইট গোল্ড-১ ও হোয়াইট গোল্ড-২ জাতের তুলা উচ্চ ফলনশীল হওয়ায় অনেক চাষিই বিঘাপ্রতি ১৫-১৬ মণ উৎপাদনের আশা করছেন।
উপজেলার ধর্মদহ গ্রামের তুলা চাষি মোস্তাক আহমেদ বলেন, এ বছর অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে কয়েকবার তুলার বীজ বপন করতে হয়েছে। তার ওপর সার ও কীটনাশকের দাম গত বছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। তুলা আবাদ থেকে উত্তোলন পর্যন্ত সব খরচই বেড়েছে।
তিনি আরও জানান, জমি থেকে তুলা সংগ্রহ করতে এ বছর প্রতি বিঘায় প্রায় ৯ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে। সব মিলিয়ে প্রতি বিঘা জমিতে তুলা চাষে প্রায় ৩৫ হাজার টাকা ব্যয় হচ্ছে।
আরেক চাষি নাহারুল ইসলাম বলেন, তুলা একটি দীর্ঘমেয়াদি ফসল। প্রায় ৭-৮ মাস সময় লাগে আবাদ শেষ করতে। এবার বিঘাপ্রতি ১৫-১৬ মণ ফলনের সম্ভাবনা আছে। গত বছর প্রতি মণ ৪ হাজার টাকা দরে বিক্রি করেছি, কিন্তু এবার মিলাররা ৩ হাজার ৮৪০ টাকা নির্ধারণ করেছেন। তিনি তুলার ন্যায্যমূল্য বৃদ্ধির দাবি জানান।
আলমদিনা জিনিং মিলের কর্মকর্তা মো. ইমন হোসেন জানান, এ বছর প্রতি কেজি তুলার দাম ৯৬ টাকা, অর্থাৎ প্রতি মণ ৩ হাজার ৮৪০ টাকা দরে তুলা কেনা হচ্ছে। হাটে বস্তাভর্তি তুলার আর্দ্রতা পরীক্ষা করে মিলাররা তুলা ক্রয় করছেন।
কুষ্টিয়া জেলার প্রধান তুলা উন্নয়ন কর্মকর্তা কৃষিবিদ শেখ আল মামুন জানান, জেলায় দৌলতপুর, মিরপুর ও ভেড়ামারা এই তিন উপজেলায় তুলা চাষ হয়। চলতি মৌসুমে ২ হাজার ৪৫০ হেক্টর জমিতে আবাদ লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও ২ হাজার ৪৩৪ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে।
তিনি বলেন, জেলায় ২ হাজার ৫০ জন চাষিকে কৃষি প্রণোদনার আওতায় আনা হয়েছে। এর মধ্যে দৌলতপুরেই তুলা চাষির সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। এবার কুষ্টিয়া জোনে প্রায় ১৫৫ কোটি টাকার তুলা উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। আগামিতে কুষ্টিয়া জোনে কৃষকদের জন্য প্রণোদনা আরও বাড়ানো হবে বলেও জানান তিনি।