ছোটপর্দার পরিচিত মুখ জাহের আলভীর স্ত্রী ইকরার আকস্মিক মৃত্যুতে শোবিজ অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এই ঘটনায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এক দীর্ঘ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা তমা মির্জা। ইকরার চলে যাওয়াকে কেন্দ্র করে তিনি সম্পর্কের গভীরতা ও মানসিক যন্ত্রণার দিকগুলো বিশ্লেষণ করেছেন।
ভালোবাসা ও আর্থিক সীমাবদ্ধতা তমা মির্জা তার পোস্টে উল্লেখ করেন, একটি মেয়ে যখন কাউকে মন থেকে ভালোবাসে, তখন সে ওই মানুষটির আর্থিক অবস্থা বা সীমাবদ্ধতাকে বড় করে দেখে না। বরং কঠিন সময়ে পাশে দাঁড়িয়ে তাকে সাহস ও এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা দেয়। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেখা যায়, সেই মানুষটি যখন সফলতার মুখ দেখেন, তখন তিনি বদলে যেতে শুরু করেন।
বদলে যাওয়া আচরণ ও মানসিক কষ্ট অভিনেত্রীর মতে, একটি মেয়ে অনেক ঝড়-ঝাপটা সহ্য করতে পারলেও প্রিয় মানুষের অবহেলা ও প্রতারণা মেনে নিতে পারে না। তমা লেখেন, “সফলতা অর্জনের পর অনেক সময় প্রিয় মানুষটি বদলে যায়—প্রতারণা, অবহেলা ও মানসিক কষ্ট দেয়। এই বদলে যাওয়া আচরণ যখন অসহনীয় হয়ে ওঠে, তখন জীবনের অর্থ হারিয়ে যায় এবং মানুষ নিজেকে পরাজিত মনে করে।”
চরম সিদ্ধান্তের পেছনের যন্ত্রণা তমা মির্জা তার পোস্টে ইকরার আত্মহত্যার দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, এমন পরিস্থিতিতে অনেকে নিজেকে গুটিয়ে নেয় বা চরম কোনো সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলে। তিনি মনে করেন, এভাবে চলে যাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির জীবনে হয়তো খুব একটা পরিবর্তন আসে না, কিন্তু যে মানুষটি তীব্র মানসিক যন্ত্রণা বয়ে বেড়াচ্ছিল, সে হয়তো তার থেকে একটু কম যন্ত্রণার কোনো আশ্রয় খুঁজে নিয়েছে।
আলভী ও ইকরার দীর্ঘ দাম্পত্য উল্লেখ্য, ২০১০ সালের ৯ নভেম্বর ভালোবেসে গোপনে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন জাহের আলভী ও আফরা ইভনাথ খান ইকরা। দীর্ঘ ১৪ বছর পর ২০২৪ সালে তাদের বিয়ের খবরটি প্রকাশ্যে আসে। এই দম্পতির একটি সন্তানও রয়েছে। শনিবার দুপুর দেড়টার দিকে মিরপুর ডিওএইচএসের বাসা থেকে ইকরার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। শোবিজ অঙ্গনের সহকর্মীরা এই অকাল মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করছেন।