রাজধানীর মোহাম্মদপুরের হুমায়ুন রোডে একটি গাড়ির গ্যারেজে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (২ মার্চ) দুপুরে একটি প্রাইভেটকার মেরামতের সময় গ্যাস লিকেজ (Gas Leakage) থেকে এই দুর্ঘটনা ঘটে। এতে গ্যারেজ মালিকসহ মোট ৮ জন দগ্ধ হয়েছেন। আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে (NIBPS) নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
দুর্ঘটনার প্রেক্ষাপট ও প্রত্যক্ষদর্শীর বিবরণ স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, সোমবার দুপুর ১টার দিকে মোহাম্মদপুর জেনেভা ক্যাম্প সংলগ্ন হুমায়ুন রোডের 'মনার গ্যারেজে' এই বিস্ফোরণ ঘটে। গ্যারেজের মালিক মো. মনা জানান, দুপুরে একটি প্রাইভেটকার মেরামতের জন্য গ্যারেজে আনা হয়েছিল। গ্যারেজের ভেতরে রেখে গাড়িটির ইঞ্জিন (Engine) এবং গ্যাস লাইনের যান্ত্রিক ত্রুটি সারাইয়ের কাজ করছিলেন মেকানিকরা। একই সময়ে ভেতরে আরও বেশ কয়েকটি গাড়িতে কর্মচারীরা কাজ করছিলেন। কাজ চলাকালীন হঠাৎ বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে এবং মুহূর্তেই গ্যারেজের ভেতরে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এতে সেখানে কর্মরত মালিক ও কর্মচারীরা দগ্ধ হন।
হতাহতদের পরিচয় ও বর্তমান অবস্থা বিস্ফোরণে দগ্ধ ৮ জন হলেন—গ্যারেজ মালিক মো. মনা (৪০), বাদল (২৩), তারেক রহমান (২৩), ইফরান (১৮), আজাদ (৫৫), মিরাজ (৩৬), আকাশ (২৫) ও জনি (৩৫)।
জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগের আবাসিক সার্জন (Residential Surgeon) ডা. শাওন বিন রহমান জানান, বিস্ফোরণে আহতদের মধ্যে ইফরান ও তারেক রহমানের অবস্থা তুলনামূলক গুরুতর। তাদের শরীরের সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ পুড়ে গেছে। প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ওই দুইজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকি ৬ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে, তবে তারা বর্তমানে আশঙ্কামুক্ত।
তদন্ত ও নিরাপত্তা ঝুঁকি প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মেরামতের জন্য আনা প্রাইভেটকারটির গ্যাস সিলিন্ডার বা গ্যাস লাইন থেকে দীর্ঘ সময় ধরে গ্যাস চুঁইয়ে পড়ছিল। গ্যারেজের বদ্ধ পরিবেশে গ্যাস জমে থাকার ফলে কোনো আগুনের স্ফুলিঙ্গ বা যান্ত্রিক ঘর্ষণে এই বিস্ফোরণ (Explosion) ঘটে থাকতে পারে। ঘনবসতিপূর্ণ মোহাম্মদপুর এলাকায় এ ধরনের গ্যারেজে অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা ও নিরাপত্তা বিধিমালা কতটা মানা হচ্ছে, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখছে। দগ্ধদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।