• আন্তর্জাতিক
  • ইরানে হামলা নিয়ে বিস্ফোরক উত্তর কোরিয়া: ওয়াশিংটন-তেল আবিবকে ‘গ্যাংস্টার’ তকমা কিম প্রশাসনের

ইরানে হামলা নিয়ে বিস্ফোরক উত্তর কোরিয়া: ওয়াশিংটন-তেল আবিবকে ‘গ্যাংস্টার’ তকমা কিম প্রশাসনের

আন্তর্জাতিক ১ মিনিট পড়া
ইরানে হামলা নিয়ে বিস্ফোরক উত্তর কোরিয়া: ওয়াশিংটন-তেল আবিবকে ‘গ্যাংস্টার’ তকমা কিম প্রশাসনের

তেহরানের পাশে দাঁড়িয়ে কড়া হুঁশিয়ারি দিল পিয়ংইয়ং; পাল্টা আঘাতের হুঙ্কার দিচ্ছে ইরানও—মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ঘনীভূত হচ্ছে যুদ্ধের কালো মেঘ।

মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে (Geopolitics) নতুন মেরুকরণ উস্কে দিয়ে ইরানে মার্কিন ও ইসরাইলি হামলার কড়া নিন্দা জানালো উত্তর কোরিয়া। এই সামরিক অভিযানকে ‘অবৈধ আগ্রাসন’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে কিম জং উনের প্রশাসন সাফ জানিয়েছে, এটি একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের জাতীয় সার্বভৌমত্বের (Sovereignty) চরম লঙ্ঘন। পিয়ংইয়ংয়ের এই প্রকাশ্য অবস্থান ওয়াশিংটন এবং তেহরানের মধ্যকার বিদ্যমান উত্তেজনাকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে নতুন মাত্রা দিয়েছে।

‘গ্যাংস্টার-সদৃশ’ আচরণ: উত্তর কোরিয়ার তোপ

উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদ সংস্থা ‘কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি’ (KCNA) একটি কড়া বিবৃতি প্রকাশ করেছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইরানে এই হামলায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি সম্পৃক্ততা তাদের ‘আধিপত্যবাদী এবং গ্যাংস্টার-সদৃশ’ (Gangster-like) আচরণেরই বহিঃপ্রকাশ।

পিয়ংইয়ং মনে করছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের এই ‘আগ্রাসী যুদ্ধ’ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। উত্তর কোরিয়ার পক্ষ থেকে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে, পশ্চিমাদের এমন একতরফা সামরিক পদক্ষেপ বিশ্বের শান্তি ও স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। দীর্ঘকাল ধরে সামরিক ও প্রযুক্তিগত মিত্র হিসেবে পরিচিত ইরান ও উত্তর কোরিয়ার এই সংহতি বৈশ্বিক শক্তিধর দেশগুলোর জন্য উদ্বেগের কারণ হতে পারে।

ইরানের পাল্টা হুঁশিয়ারি: ‘যা তারা আগে দেখেনি’

এদিকে, হামলার পর থেকেই রণংদেহী মেজাজে রয়েছে ইরান। দেশটির শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলী লারিজানি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ (সাবেক টুইটার) সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। লারিজানি জানান, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি (শনিবার) ইরান থেকে নিক্ষেপ করা ক্ষেপণাস্ত্রগুলো (Missile) নিখুঁতভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে।

তিনি আরও যোগ করেন, “আজ আমরা তাদের এমন শক্তি দিয়ে আঘাত করব, যা তারা আগে কখনও দেখেনি।” এই মন্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, তেহরান কেবল আত্মরক্ষা নয়, বরং বড় ধরনের প্রতিশোধমূলক হামলার (Retaliation) প্রস্তুতি নিচ্ছে।

ট্রাম্পের পাল্টা বার্তা: সীমানা না পেরোনোর সতর্কতা

ইরানের এই হুমকির পর চুপ থাকেননি ডোনাল্ড ট্রাম্পও। সামাজিক মাধ্যমে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে ট্রাম্প লিখেছেন, “ইরান জানিয়েছে তারা আজ খুব জোরালোভাবে আঘাত হানবে, আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি। তারা যেন এমনটা না করে।”

ট্রাম্প আরও সতর্ক করে দিয়ে বলেন, যদি ইরান কোনো দুঃসাহস দেখায়, তবে আমেরিকা এমন বিধ্বংসী শক্তি প্রয়োগ করবে যা মানব ইতিহাসে নজিরবিহীন। মূলত ‘Red Line’ বা চরম সীমা অতিক্রম না করতে ইরানকে পরোক্ষভাবে হুমকি দিয়ে রাখলেন তিনি।

উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্য: সংঘাতের শেষ কোথায়?

পিয়ংইয়ংয়ের এই সংহতি এবং ওয়াশিংটন-তেহরানের পাল্টাপাল্টি হুমকির ফলে মধ্যপ্রাচ্য এখন এক অগ্নিকুণ্ডে পরিণত হয়েছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, উত্তর কোরিয়ার মতো পারমাণবিক শক্তিধর দেশের এই কূটনৈতিক হস্তক্ষেপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। অন্যদিকে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা এবং আমেরিকার সামরিক শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষ ও বিশ্ব অর্থনীতি কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়, সেটাই এখন বড় আশঙ্কার বিষয়।

Tags: donald trump international relations missile strike kim jong un north korea war threat geopolitics news us israel iran attack ali larijani