• আন্তর্জাতিক
  • ইসরায়েলের ৫ বিদ্যুৎকেন্দ্রে পাল্টা হামলার ছক কষছে ইরান

ইসরায়েলের ৫ বিদ্যুৎকেন্দ্রে পাল্টা হামলার ছক কষছে ইরান

তেহরানে হামলার প্রতিশোধ নিতে ইসরায়েলের বিদ্যুৎ গ্রিড অচল করে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে ইরান; লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় রয়েছে বড় ৫টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র।

আন্তর্জাতিক ১ মিনিট পড়া
ইসরায়েলের ৫ বিদ্যুৎকেন্দ্রে পাল্টা হামলার ছক কষছে ইরান

তেহরানের বিদ্যুৎ অবকাঠামোতে ইসরায়েলি হামলার প্রতিক্রিয়ায় কঠোর প্রতিশোধের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান। সামরিক বিশ্লেষকদের তথ্যমতে, ইরানের সম্ভাব্য নিশানায় রয়েছে অধিকৃত অঞ্চলের প্রধান পাঁচটি তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র, যা ইসরায়েলের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার অর্ধেকেরও বেশি সরবরাহ করে। এসব স্থাপনায় হামলা হলে পুরো ইসরায়েলি জাতীয় গ্রিড মারাত্মক বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

তেহরানের শোহাদা স্কয়ার এলাকার বিদ্যুৎ অবকাঠামোতে ইসরায়েলি হামলার অভিযোগ ওঠার পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। এই ঘটনার পাল্টা জবাব দিতে ইরান এখন ইসরায়েলের কৌশলগত বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করার পরিকল্পনা করছে।

ইরানের নিশানায় থাকা প্রধান ৫ বিদ্যুৎকেন্দ্র ইরানের সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় প্রথমেই রয়েছে হাদেরার কাছে অবস্থিত অরোত রাবিন স্টিম পাওয়ার প্ল্যান্ট। ১৯৮২ সালে প্রতিষ্ঠিত এই কেন্দ্রটির উৎপাদন ক্ষমতা ২ হাজার ৫৯০ মেগাওয়াট এবং এটি ইসরায়েল ইলেকট্রিক কর্পোরেশনের বৃহত্তম স্থাপনাগুলোর একটি।

তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে আশকেলনের রুটেনবার্গ স্টিম পাওয়ার প্ল্যান্ট। ১৯৯০ সালে নির্মিত এই কেন্দ্রটির ক্ষমতা ২,২৫০ মেগাওয়াট। এছাড়া উত্তরাঞ্চলীয় ইয়োকনেয়ামের কাছে অবস্থিত ১ হাজার ৩৭১ মেগাওয়াট ক্ষমতার হাগিত কম্বাইন্ড সাইকেল পাওয়ার প্ল্যান্টকেও অন্যতম লক্ষ্যবস্তু হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

অন্যান্য সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে রয়েছে ১৯৭৪ সাল থেকে চালু থাকা আশদোদ-এর ৯১২ মেগাওয়াট ক্ষমতার এশকল হাইব্রিড পাওয়ার প্ল্যান্ট এবং ২০১৫ সালে চালু হওয়া বেসরকারি মালিকানাধীন ৯০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার হারুভিত (জাফিত) পাওয়ার প্ল্যান্ট

ইসরায়েলি অর্থনীতি ও জনজীবনে প্রভাব বিশ্লেষকদের মতে, এই পাঁচটি বিদ্যুৎকেন্দ্র ইসরায়েলের জাতীয় গ্রিডের মেরুদণ্ড। এগুলোর ওপর কোনো ধরনের আক্রমণ হলে দেশটির অভ্যন্তরীণ বিদ্যুৎ ব্যবস্থা পুরোপুরি অচল হয়ে পড়বে। এতে শুধু যে জনজীবন বিপর্যস্ত হবে তাই নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়বে ইসরায়েল।

আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও বর্তমান পরিস্থিতি ইরানের এই রণকৌশল মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে যুদ্ধাংদেহী পরিস্থিতির জন্ম দিয়েছে। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, হামলার ক্ষেত্রে ইরান প্রযুক্তিগত প্রভাব এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির মতো জটিল দিকগুলো গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। অন্যদিকে, সম্ভাব্য হামলা মোকাবিলায় ইসরায়েলও তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে সর্বোচ্চ সতর্কতায় রেখেছে।

Tags: geopolitics middle east tension energy security iran israel conflict iran retaliation power plant attack