চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলায় নিজের শিশু সন্তানকে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের চেষ্টাকালে অভিযুক্ত বাবা মো. আজিজুল (২৮) ও তার সহযোগী মো. আক্তারকে (২৬) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার দিবাগত রাত সাড়ে ৯টার দিকে জীবননগর থানাধীন পাকা দাসপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
অপহরণ ও মুক্তিপণ দাবি পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে আজিজুল তার সহযোগীকে নিয়ে নিজের সন্তান সিয়ামকে অপহরণ করে একটি নির্জন বাগানে নিয়ে যায়। সেখানে শিশুটিকে বেঁধে গলায় ধারালো হাসুয়া ধরে তার মায়ের কাছে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। দাবি করা টাকা না দিলে শিশুটিকে হত্যার পর মরদেহ গুম করার হুমকিও দেয় তারা। উল্লেখ্য, শিশুটির মা বর্তমানে কর্মসংস্থানের প্রয়োজনে ভারতে অবস্থান করছেন। সেই সুযোগটিকেই কাজে লাগাতে চেয়েছিলেন অভিযুক্ত আজিজুল।
পুলিশের বিশেষ অভিযান ও উদ্ধার ঘটনাটি জানার পরপরই জীবননগর থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) দ্রুত অভিযানে নামে। অভিযানের একপর্যায়ে পুলিশ মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে মুক্তিপণের কিছু টাকা পাঠানোর কৌশল অবলম্বন করে। পরবর্তীতে রাত সাড়ে ৯টার দিকে অভিযুক্তদের অবস্থান শনাক্ত করে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় অপহৃত শিশু সিয়ামকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ।
আলামত জব্দ ও আইনি পদক্ষেপ অভিযানকালে পুলিশ অভিযুক্তদের কাছ থেকে মুক্তিপণ হিসেবে নেওয়া ১০ হাজার ৩০০ টাকার মধ্যে ৭ হাজার টাকা উদ্ধার করেছে। এছাড়া অপরাধে ব্যবহৃত একটি ধারালো হাসুয়া ও একটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত আজিজুল স্বীকার করেছেন যে, কেবল টাকা আদায়ের উদ্দেশ্যেই তিনি নিজের সন্তানের গলায় অস্ত্র ধরে ছবি তুলে মায়ের কাছে পাঠিয়েছিলেন।
পুলিশ প্রশাসনের বক্তব্য চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান গণমাধ্যমকে জানান, একটি শ্বাসরুদ্ধকর অভিযানের মাধ্যমে শিশুটিকে দ্রুত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। জননিরাপত্তা রক্ষায় এবং এ ধরনের জঘন্য অপরাধ দমনে পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে। এ ঘটনায় জীবননগর থানায় ইতোমধ্যে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।