কক্সবাজারের সমুদ্র সৈকতে মঙ্গলবার ঐতিহ্যবাহী মহা বারুণী স্নান ও গঙ্গা পূজাকে কেন্দ্র করে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের ঢল নামে। চৈত্র মাসের কৃষ্ণা ত্রয়োদশী তিথিতে প্রতিবছরের মতো এবারও এই স্নান উৎসবের আয়োজন করা হয়।
উৎসবমুখর পরিবেশে বারুণী স্নান মঙ্গলবার ভোর থেকেই কক্সবাজারের কবিতা চত্বর পয়েন্টে সমবেত হতে থাকেন হাজার হাজার পুণ্যার্থী। কেবল কক্সবাজার জেলা নয়, পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন এলাকা থেকেও সনাতন ধর্মাবলম্বীরা এই স্নানে অংশ নিতে আসেন। ভক্তিভরে সমুদ্রের পানিতে স্নান করার মাধ্যমে নিজেদের পাপ মোচন এবং পুণ্য লাভের প্রার্থনা করেন তারা। স্নানের পাশাপাশি সৈকতে গঙ্গা পূজা, গুরু পূজা, মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্বলন এবং ভজন কীর্তনের মধ্য দিয়ে ধর্মীয় গাম্ভীর্য বজায় রাখা হয়।
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির আহ্বান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল বলেন, “বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। কোনো ধর্মই মানুষের মধ্যে বিদ্বেষ ছড়ায় না, বরং সব ধর্মই শান্তির বার্তা দেয়। কিছু অসাধু ব্যক্তি সমাজে ঘৃণা ছড়ানোর চেষ্টা করে, যা অত্যন্ত গর্হিত কাজ।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বর্তমান সরকার একটি বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশ গড়তে সব ধর্মের মানুষের ঐক্যবদ্ধ অংশগ্রহণ চায়।
ধর্মীয় আচারের বৈচিত্র্য অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন ধর্মীয় গুরু শ্রীমৎ স্বামী দেবদীপানন্দ পুরী মহারাজ। পুণ্যার্থীরা এসময় তাদের পূর্ব-পুরুষদের আত্মার শান্তি কামনায় ‘তর্পণ’ ও বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠান সম্পন্ন করেন। বারুণী স্নানকে কেন্দ্র করে পুরো সৈকত এলাকায় এক অনন্য উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়, যা পর্যটকদের মাঝেও বিশেষ কৌতূহল সৃষ্টি করে।
নিরাপত্তা ব্যবস্থা বড় আকারের এই জনসমাগম ঘিরে সমুদ্র সৈকত এলাকায় বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। জেলা পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারিতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে এবারের বারুণী স্নান উৎসব।