সিলেট মহানগর জামায়াত আয়োজিত এক ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী আকাঙ্ক্ষা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন। রোববার (২২ মার্চ) বিকেলে সিলেট নগরীর দক্ষিণ সুরমার একটি কমিউনিটি সেন্টারে এই অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা ও স্থিতিশীলতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় থাকলেও দেশে কাঙ্ক্ষিত স্থিতিশীলতা ফিরে আসেনি। তিনি অভিযোগ করেন, সমাজ থেকে অনিয়ম, বিশৃঙ্খলা ও প্রতিহিংসা দূর হয়নি। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে পাশ কাটিয়ে দলীয় বিবেচনায় নিয়োগ প্রক্রিয়া চলছে, যা জনগণের আকাঙ্ক্ষার পরিপন্থি। বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে দেড় বছর কৃতিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনকারী ভিসি ও প্রোভিসিদের সরিয়ে দলীয় নিয়োগের সমালোচনা করেন তিনি।
সংবিধান ও সংস্কার প্রসঙ্গ সংবিধানের দোহাই দিয়ে সংস্কার প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত না করার আহ্বান জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, ‘মনে রাখতে হবে সংবিধানের জন্য জনগণ নয়, বরং জনগণের জন্যই সংবিধান।’ তিনি উল্লেখ করেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের কারণেই সংবিধানে না থাকা সত্ত্বেও বর্তমান রাজনৈতিক সমীকরণ সম্ভব হয়েছে। তাই জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সংস্কার প্রস্তাবগুলো এড়িয়ে যাওয়ার যেকোনো ষড়যন্ত্র থেকে বিরত থাকার জন্য তিনি সরকারি দলের প্রতি আহ্বান জানান।
অর্থনীতি ও অব্যবস্থাপনা দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, প্রথমবারের মতো দলীয় বিবেচনায় একজন গার্মেন্টস ব্যবসায়ীকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের পদে বসানো হয়েছে। এছাড়া ঈদ যাত্রায় অতিরিক্ত ভাড়া আদায় এবং যাতায়াতের চরম অব্যবস্থাপনা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। তিনি মনে করেন, মেধা থাকা সত্ত্বেও শুধুমাত্র চরিত্রের অভাবের কারণে দেশ কাঙ্ক্ষিত উন্নতি করতে পারছে না।
বিরোধী দলের ভূমিকা ও ভবিষ্যৎ পথচলা নির্বাচনী ফলাফল মেনে নিলেও নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ফলাফল মেনে নেওয়ার অর্থ এই নয় যে নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে; বরং নির্বাচন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের বিষয়টি জাতির সামনে পরিষ্কার। ভবিষ্যতে একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়তে মেধাবীদের নেতৃত্বে আনার ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, জামায়াত কোনো অপশক্তির সঙ্গে আপোস করেনি এবং মাথা উঁচু করেই রাজনীতি চালিয়ে যাবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সিলেট মহানগরী জামায়াতের আমির মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম এবং সঞ্চালনা করেন মহানগর সেক্রেটারি মোহাম্মদ শাহজাহান আলী। বিশেষ অতিথি হিসেবে অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের ও মাওলানা হাবিবুর রহমানসহ অন্যান্য কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।