শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামিদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করার দাবিতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে ১৫ দিনের আলটিমেটাম (Ultimatum) দিয়েছে ইনকিলাব মঞ্চ। আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে সরকারের ‘রহস্যজনক নীরবতা’ ও ‘নিষ্ক্রিয়তা’ নিয়ে প্রশ্ন তুলে ৬ দফা দাবি উত্থাপন করেছে সংগঠনটি।
রোববার (২২ মার্চ) রাতে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই চূড়ান্ত সময়সীমা ও দাবিগুলো তুলে ধরা হয়।
সরকারের ভূমিকা নিয়ে ইনকিলাব মঞ্চের উদ্বেগ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শহীদ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের আসামিরা ভারতের পশ্চিমবঙ্গে আটক হওয়ার পর ১৪ দিনের রিমান্ড শেষে রোববার পুনরায় আদালতে তোলা হয়েছিল। ভারতের আদালত তাদের আরও ১৪ দিনের বিচারিক হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে। তবে এই পুরো প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ সরকারের অবস্থান নিয়ে গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ইনকিলাব মঞ্চ। সংগঠনটির মতে, আসামিদের গ্রেপ্তারের ঘটনাকে শুরুতে সরকারের সাফল্য হিসেবে দেখা হলেও, বর্তমানে তাদের ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি না থাকাটা চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে।
ইনকিলাব মঞ্চের ৬ দফা দাবি উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে ইনকিলাব মঞ্চ নিম্নলিখিত ৬টি দাবি পেশ করেছে:
১. জরুরি কূটনৈতিক পদক্ষেপ: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে (Ministry of Foreign Affairs) এই মুহূর্ত থেকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ শুরু করতে হবে। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে আসামিদের ভারত থেকে ফিরিয়ে এনে (Extradition) বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে হবে।
২. বিচার বিভাগীয় তদন্ত: হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের কুশীলব বা মাস্টারমাইন্ডদের (Mastermind) আড়াল করার সব চেষ্টা বন্ধ করতে হবে। অবিলম্বে একটি উচ্চপর্যায়ের নিরপেক্ষ বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি (Judicial Probe Committee) গঠন করে প্রকৃত সত্য জনসমক্ষে আনতে হবে।
৩. সীমান্ত পালানোর তদন্ত: আসামিরা কার মদতে এবং কাদের সহায়তায় সীমান্ত অতিক্রম করেছে, তা খতিয়ে দেখতে হবে। গোয়েন্দা সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো সদস্য বা স্থানীয় প্রভাবশালী কেউ জড়িত থাকলে তাদের অতিদ্রুত গ্রেপ্তার করে নাম প্রকাশ করতে হবে।
৪. বিশেষ আইনি বিশেষজ্ঞ সেল: ভারতের ‘ইউএপিএ’ (UAPA) আইনের মারপ্যাঁচে পড়ে বিচার প্রক্রিয়া যেন দীর্ঘায়িত না হয়, সেজন্য বাংলাদেশ সরকারকে একটি বিশেষ আইনি বিশেষজ্ঞ সেল (Legal Expert Cell) গঠন করতে হবে। এই সেল ভারতীয় আদালতের কার্যক্রম নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করবে এবং জাতিকে আপডেট জানাবে।
৫. উন্মুক্ত বিচার (Open Trial): ওসমান হাদি হত্যার বিচার কোনো রুদ্ধদ্বার কক্ষে বা গোপন ট্রায়ালে হবে না। ইনকিলাব মঞ্চ দাবি করেছে, এই বিচারের স্বচ্ছতা নিশ্চিতে এটি ‘ওপেন ট্রায়াল সিস্টেম’-এ পরিচালনা করতে হবে এবং জাতীয় গণমাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার (Live Broadcast) করতে হবে।
৬. কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি: আগামী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে আসামিদের দেশে ফিরিয়ে আনার দৃশ্যমান অগ্রগতি বা রোডম্যাপ (Roadmap) ঘোষণা না করা হলে, ইনকিলাব মঞ্চ রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে একযোগে কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে।
ইনকিলাব মঞ্চের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, রাজপথের আন্দোলনের মাধ্যমে জন্ম নেওয়া এই সংগঠন শহীদের রক্তের অবমাননা বরদাশত করবে না। সরকারের ওপর চাপ প্রয়োগ অব্যাহত রাখতে তারা প্রয়োজনে রাজপথে বড় ধরনের গণজমায়েত করারও পরিকল্পনা করছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শহীদ হাদি হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে সৃষ্ট এই অসন্তোষ সরকারকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করতে পারে।