পাকিস্তানের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ডন-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে ইসলামাবাদের হুমাক পুলিশ স্টেশনের আওতাধীন একটি মার্কেটের পার্কিং এলাকায়। ঈদের আনন্দ যখন চারদিকে, তখনই এই মর্মান্তিক মৃত্যুসংবাদ পাকিস্তানজুড়ে শোকের ছায়া ফেলেছে।
ঘটনার বিবরণ ও প্রত্যক্ষদর্শীর বয়ান মার্কেটে দায়িত্বরত একজন নিরাপত্তারক্ষী জানান, হঠাৎ করেই পার্কিং এলাকা থেকে গুলির শব্দ শোনা যায়। তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখেন লাল পোশাক পরিহিত এক নারী রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে পড়ে আছেন। তার পাশেই পিস্তল হাতে দাঁড়িয়ে ছিলেন এক যুবক। রক্ষীর চোখের সামনেই ওই যুবক নিজের মাথায় গুলি চালিয়ে দেন এবং ঘটনাস্থলেই দুজনের মৃত্যু হয়।
পরিচয় ও পারিবারিক প্রেক্ষাপট নিহত সানা জাভেদ মূলত পাকিস্তানের আটকের বাসিন্দা ছিলেন। টিকটকে তিনি 'আউট লোফারা' নামে পরিচিত ছিলেন এবং তার বিপুল সংখ্যক অনুসারী রয়েছে। অন্যদিকে, ঘাতক স্বামী মোহাম্মদ সাদিকও একই এলাকার বাসিন্দা। জানা গেছে, সাদিক আটক পুলিশের সাবেক কনস্টেবল ছিলেন। তবে অসদাচরণের দায়ে তাকে আগেই চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছিল।
তদন্তে উঠে আসা তথ্য পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি ৯ এমএম পিস্তল এবং তিনটি বুলেটের খোসা উদ্ধার করেছে। প্রাথমিক তদন্তে গোয়েন্দাদের ধারণা, দীর্ঘদিনের পারিবারিক কলহের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। তবে ঈদের দিনে কেন তারা ওই মার্কেটে গিয়েছিলেন এবং সেখানে কী নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
টিকটকারদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ পাকিস্তানে নারী টিকটকারদের ওপর হামলার ঘটনা এটিই প্রথম নয়। গত এক বছরের মধ্যে ইসলামাবাদে এটি দ্বিতীয় হাই-প্রোফাইল হত্যাকাণ্ডের ঘটনা। এর আগে গত বছরের জুনে সানা ইউসুফ নামে ১৭ বছর বয়সী এক টিকটকারকে তার নিজ বাড়িতে গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল। প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় তাকে প্রাণ দিতে হয়েছিল বলে পুলিশ জানিয়েছিল। সাম্প্রতিক এই ঘটনা টিকটকার ও সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সারদের নিরাপত্তা নিয়ে আবারও নতুন করে প্রশ্ন তুলছে।