• আন্তর্জাতিক
  • বিশ্বের ‘তেলপথ’ এখন ইরানের দখলে: হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন ও ইসরাইলি মিত্রদের জাহাজ চলাচলে আইআরজিসির চরম হুঁশিয়ারি

বিশ্বের ‘তেলপথ’ এখন ইরানের দখলে: হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন ও ইসরাইলি মিত্রদের জাহাজ চলাচলে আইআরজিসির চরম হুঁশিয়ারি

আন্তর্জাতিক ১ মিনিট পড়া
বিশ্বের ‘তেলপথ’ এখন ইরানের দখলে: হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন ও ইসরাইলি মিত্রদের জাহাজ চলাচলে আইআরজিসির চরম হুঁশিয়ারি

বিপাকে কন্টেইনারবাহী জাহাজ, গতিপথ পরিবর্তন করতে বাধ্য হচ্ছে বিভিন্ন দেশ; বাংলাদেশসহ ‘বন্ধুপ্রতীম’ রাষ্ট্রের জন্য বিশেষ শিথিলতার আভাস।

বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের প্রধান ধমনী হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালীতে উত্তেজনার পারদ এবার তুঙ্গে। পারস্য উপসাগরের এই কৌশলগত জলপথ দিয়ে জাহাজ চলাচল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের মিত্র দেশগুলোকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানের শক্তিশালী সামরিক বাহিনী ‘ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর’ (IRGC)। তেহরানের পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, ওয়াশিংটন বা তেল আবিবের সমর্থকদের কোনো জাহাজ এই রুট ব্যবহার করতে পারবে না।

কড়া হুঁশিয়ারি ও নিষেধাজ্ঞার নেপথ্যে

শুক্রবার (২৭ মার্চ) ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা ‘ফার্স নিউজ এজেন্সি’র মাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, তারা হরমুজ প্রণালীর যেকোনো করিডোর দিয়ে ‘ইসরাইলি-মার্কিন শত্রুদের মিত্র ও সমর্থকদের বন্দরগুলোতে’ জাহাজ চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করেছে। মূলত মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক অস্থিরতা এবং ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসনের প্রতিবাদে এই কঠোর অবস্থান নিল ইরান। আইআরজিসি নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই জলপথ বর্তমানে তাদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং নিয়ম অমান্যকারী যেকোনো জাহাজের বিরুদ্ধে ‘কঠোর ব্যবস্থা’ নেওয়া হবে।

থমকে যাচ্ছে সমুদ্রযাত্রা: গতিপথ বদলেছে তিনটি জাহাজ

আইআরজিসির এই ‘Naval Force’-এর সরাসরি হুমকির প্রভাব ইতোমধ্যেই পড়তে শুরু করেছে আন্তর্জাতিক শিপিং রুটে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, আজ শুক্রবার সতর্কবার্তার পরপরই অন্তত তিনটি বড় কন্টেইনারবাহী জাহাজ তাদের নির্ধারিত গতিপথ পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছে। জাহাজগুলো হরমুজ প্রণালীতে প্রবেশের মুখে থাকলেও আইআরজিসির অবস্থানের কারণে ঝুঁকি না নিয়ে বিকল্প পথের সন্ধানে ফিরে যায়। এই ঘটনায় বৈশ্বিক ‘Supply Chain’ বা পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

বৈশ্বিক অর্থনীতি ও ‘বন্ধুপ্রতীম’ দেশের সমীকরণ

হরমুজ প্রণালী কেবল একটি জলপথ নয়, এটি বিশ্বের ‘Energy Security’-এর জন্য এক অনিবার্য রুট। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিশ্বে সরবরাহ করা মোট তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের (LNG) প্রায় ২০ শতাংশ বা পাঁচ ভাগের এক ভাগ এই প্রণালী দিয়ে পরিবহন করা হয়। সংঘাতের আগে এটি আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত জলপথ হিসেবে ব্যবহৃত হলেও বর্তমানে ইরান এখানে তাদের সার্বভৌমত্ব ও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার দাবি করছে।

তবে তেহরানের এই কঠোর অবস্থানের মধ্যেও কিছুটা নমনীয়তা দেখা গেছে নির্দিষ্ট কিছু দেশের ক্ষেত্রে। ইরান স্পষ্ট করেছে যে, যারা যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরাইলের সামরিক ও রাজনৈতিক মিত্র নয়, তাদের জন্য এই পথ খোলা রাখা হতে পারে। সম্প্রতি বাংলাদেশসহ কয়েকটি ‘বন্ধুপ্রতীম’ দেশের জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিয়ে ইরান প্রমাণ করেছে যে, তারা এই জলপথকে ‘Geopolitical Tool’ হিসেবে ব্যবহার করছে।

সংকটে বিশ্ববাজার: কী হবে আগামীতে?

মধ্যপ্রাচ্যের এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে বিশ্ব তেলের বাজারে। যদি দীর্ঘ সময় এই নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকে, তবে ‘Global Economy’-তে মুদ্রাস্ফীতির চাপ আরও বাড়তে পারে। আল জাজিরার তথ্যমতে, ইরান এই জলপথে নিজেদের কঠোর নজরদারি বজায় রাখছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ার এই হুমকি মূলত পশ্চিমা শক্তির ওপর চাপ সৃষ্টির একটি কৌশল।

আপাতত হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলকে কেন্দ্র করে পারস্য উপসাগরে এক ধরনের অস্বস্তিকর নীরবতা বিরাজ করছে। সমুদ্রসীমার এই আধিপত্য বিস্তার শেষ পর্যন্ত কোনো বড় সামরিক সংঘাতের দিকে মোড় নেয় কি না, তা নিয়ে গভীর উদ্বেগে রয়েছে বিশ্ব সম্প্রদায়।