• দেশজুড়ে
  • চাঁপাইনবাবগঞ্জে ফিলিং স্টেশনে তেল মজুতের কারসাজি: ‘নেই’ বলে লুকিয়ে রাখা ৯৭৮৩ লিটার জ্বালানি উদ্ধার

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ফিলিং স্টেশনে তেল মজুতের কারসাজি: ‘নেই’ বলে লুকিয়ে রাখা ৯৭৮৩ লিটার জ্বালানি উদ্ধার

দেশজুড়ে ১ মিনিট পড়া
চাঁপাইনবাবগঞ্জে ফিলিং স্টেশনে তেল মজুতের কারসাজি: ‘নেই’ বলে লুকিয়ে রাখা ৯৭৮৩ লিটার জ্বালানি উদ্ধার

গোমস্তাপুরে ‘তেল নেই’ ব্যানার ঝুলিয়ে কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা; ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে হাতেনাতে ধরা পড়ে জরিমানা গুনল পাম্প কর্তৃপক্ষ।

দেশের বাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে যখন প্রশাসন কঠোর অবস্থানে, ঠিক তখনই চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুরে এক অভিনভ জালিয়াতির ঘটনা ফাঁস হয়েছে। ‘পাম্পে তেল নেই’—এমন ব্যানার ঝুলিয়ে সাধারণ গ্রাহকদের ফিরিয়ে দিচ্ছিল একটি ফিলিং স্টেশন। তবে শেষ রক্ষা হয়নি; ভ্রাম্যমাণ আদালতের (Mobile Court) অতর্কিত অভিযানে বেরিয়ে এল থলের বিড়াল। পাম্পের আড়ালে লুকিয়ে রাখা বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল উদ্ধারসহ প্রতিষ্ঠানটিকে বড় অঙ্কের অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

লুকিয়ে রাখা ৯ হাজার লিটারের বেশি জ্বালানি জব্দ

শুক্রবার (২৭ মার্চ) বিকেলে উপজেলার পার্বতীপুর ইউনিয়নের বড়দাদপুর এলাকায় অবস্থিত ‘মেসার্স ব্রাদার্স অ্যান্ড সিস্টার্স ফিলিং স্টেশন’-এ এই অভিযান পরিচালিত হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ ছিল, পাম্পটিতে পর্যাপ্ত তেল থাকা সত্ত্বেও ‘Stock Out’ এর অজুহাতে বিক্রি বন্ধ রাখা হয়েছে। বিষয়টি আমলে নিয়ে গোমস্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (UNO) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জাকির মুন্সীর নেতৃত্বে একটি দল সেখানে তল্লাশি চালায়।

তদন্তকালে পাম্পের আন্ডারগ্রাউন্ড ট্যাংকে মজুত থাকা তেলের হিসাব মেলানো হয়। সেখানে দেখা যায়, পাম্পটিতে ২ হাজার ৩৬৮ লিটার পেট্রোল (Petrol), ৩ হাজার ৭৬০ লিটার ডিজেল (Diesel) এবং ৩ হাজার ৬৫৫ লিটার অকটেন (Octane) মজুত রয়েছে। অর্থাৎ, প্রায় ৯ হাজার ৭৮৩ লিটার জ্বালানি থাকা সত্ত্বেও পাম্প কর্তৃপক্ষ গ্রাহকদের কাছে তেল নেই বলে মিথ্যা দাবি করছিল।

কারসাজির অপরাধে অর্থদণ্ড ও প্রশাসনের হুঁশিয়ারি

জ্বালানি মজুত রেখে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরির দায়ে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ও সংশ্লিষ্ট ধারায় ওই ফিলিং স্টেশনকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালতের নেতৃত্ব দেওয়া নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জাকির মুন্সী সংবাদমাধ্যমকে জানান, জনস্বার্থে এই ধরনের অসাধু কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না।

তিনি আরও বলেন, “জ্বালানি তেলের বাজার স্থিতিশীল রাখতে এবং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে আমাদের এই ধরনের অভিযান (Market Monitoring) নিয়মিত অব্যাহত থাকবে। মজুত থাকার পরও যারা তেল বিক্রি বন্ধ রেখে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করবে, তাদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

সচেতন মহলের প্রতিক্রিয়া

অভিযান চলাকালে পার্বতীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেনসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। স্থানীয় কৃষিজীবী ও পরিবহন শ্রমিকরা এই অভিযানকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাদের মতে, সেচ মৌসুম ও পণ্য পরিবহনের এই সময়ে তেলের কৃত্রিম সংকট তৈরি করা একটি বড় ধরনের অপরাধ, যা গ্রামীণ অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

প্রশাসনের এমন তৎপরতা অন্যান্য পেট্রোল পাম্প মালিকদের জন্য একটি সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল। ডিজিটাল মনিটরিং ও নিয়মিত পরিদর্শনের মাধ্যমে এই ধরনের কারসাজি রোধ করা সম্ভব বলে সাধারণ মানুষ আশা প্রকাশ করছে।