মোশারফ করিম, যশোর: যশোরে পৃথক মাদকবিরোধী অভিযানে আলোচিত ব্যক্তি মঈদুল্লাহ ইসলামসহ তিনজনকে আটক করা হয়েছে। অভিযানে ২৯ বোতল উইনকরেক্স ও ১৫১ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে বলে দাবি করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তবে মঈদুল্লাহর পরিবারের দাবি, ব্যক্তিগত আক্রোশের জেরে তাকে পরিকল্পিতভাবে ফাঁসানো হয়েছে।
সোমবার বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত র্যাব-৬ যশোরের একটি দল সদর উপজেলার ইছালী ইউনিয়নে মঈদুল্লাহ ইসলামের মালিকানাধীন বেস্ট ব্রেড অ্যান্ড বেকারি কারখানা, অফিস ও বসতবাড়িতে অভিযান চালায়। র্যাবের দাবি,তল্লাশির একপর্যায়ে কারখানার জেনারেটর কক্ষ থেকে ২৯ বোতল উইনকরেক্স উদ্ধার করা হয়। পরে মঈদুল্লাহকে আটক করে র্যাব ক্যাম্পে নেওয়া হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সিভিল পোশাকে র্যাব সদস্যরা কারখানায় প্রবেশ করে দীর্ঘ সময় তল্লাশি চালান। অভিযানের খবর ছড়িয়ে পড়লে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে জড়ো হন। পরে মাদক উদ্ধার করা হয়।
মঈদুল্লাহর পরিবারের দাবি,তিনি বহু আগে মাদক ব্যবসা ছেড়ে বেকারি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। সম্প্রতি র্যাবের এক সদস্যের সঙ্গে ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে তাকে ফাঁসানো হয়েছে। তাদের মতে,প্রতিষ্ঠানের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করলে প্রকৃত ঘটনা স্পষ্ট হবে।
এ বিষয়ে র্যাব-৬ যশোরের কোম্পানি কমান্ডার এটিএম ফজলে রাব্বি প্রিন্স বলেন,“মঈদুল্লাহ একজন আলোচিত মাদক কারবারি। তার বিরুদ্ধে মোট ৯টি মামলা রয়েছে, যার অধিকাংশই মাদকসংক্রান্ত। অভিযানে ২৯ বোতল উইনকরেক্স উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দিয়ে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হবে।” ফাঁসানোর অভিযোগ খতিয়ে দেখা হবে বলেও জানান তিনি।
অন্যদিকে, বাঘারপাড়া থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ পৃথক অভিযানে ১৫১ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ দুইজনকে আটকের দাবি করেছে।
বাঘারপাড়া থানা পুলিশের দাবি,সোমবার বিকেলে উপজেলার বাগডাঙ্গা বৈরাগীপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে কাওসার গাজীর গোয়ালঘরে লুকিয়ে রাখা ১০১ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় কাওসার গাজীকে আটক করা হয়েছে। তিনি ওই এলাকার মৃত সুফিয়ার গাজীর ছেলে।
এদিকে, ডিবি পুলিশের অভিযানে সোমবার বিকেলে যশোর শহরের শেখহাটি হাইকোর্ট মোড় এলাকার একটি নির্মাণাধীন ভবনের সামনে অভিযান চালিয়ে ৫০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ এনামুল হক রিপনকে আটক করা হয়। রিপন ওই এলাকার মৃত একরামুল হক মন্টুর ছেলে। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক মামলা দিয়ে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।