হামের চেয়ে ‘এ প্লাস’ ক্যাম্পেইনে শিশু বাড়লো ৫৮ লাখ, ব্যবধান নিয়ে প্রশ্ন

আপলোড সময় : ২৭-০৬-২০২৬ , আপডেট সময় : ২৭-০৬-২০২৬ ১০:১৯:৩৬ অপরাহ্ন
 

আগামীকাল রোববার (২৮ জুন) থেকে দেশব্যাপী ভিটামিন ‘এ প্লাস’ ক্যাম্পেইন শুরু করছে সরকার। এই কর্মসূচিতে ৬ মাস থেকে ৫ বছরের কম বয়সী ২ কোটি ৪০ লাখ শিশুকে ভিটামিন ‘এ প্লাস’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু একই বয়সী শিশুদের জন্য মাত্র দুই মাস আগে পরিচালিত হাম-রুবেলা (এমআর) টিকাদান কর্মসূচির লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ কোটি ৮২ লাখ। অর্থাৎ দুই জাতীয় কর্মসূচির লক্ষ্যভুক্ত শিশুর সংখ্যার মধ্যে ৫৮ লাখের ব্যবধান দেখা দিয়েছে। এই ব্যবধান সরকারি শিশু জনসংখ্যার হিসাবের নির্ভুলতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

চলতি বছরের এপ্রিল ও মে মাসে ধাপে ধাপে পরিচালিত হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচিতে ১ কোটি ৮২ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। পরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, তারা ওই লক্ষ্যমাত্রার ১০৩ শতাংশ অর্জন করেছে। তবে অল্প সময়ের ব্যবধানে একই বয়সী শিশুদের সংখ্যা এতটা বেড়ে যাওয়ায় সরকারি তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

 

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, একই জনগোষ্ঠীকে কেন্দ্র করে পরিচালিত দুটি জাতীয় কর্মসূচির লক্ষ্যমাত্রায় এত বড় পার্থক্য তথ্য-পরিকল্পনার দুর্বলতার ইঙ্গিত দেয়। একইসঙ্গে এটি জনস্বাস্থ্য কর্মসূচির বাস্তব মূল্যায়ন ও কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি করছে।

 

তাদের ভাষ্য, হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচিতে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার দাবি করা হলেও দেশে এখনো প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার নতুন হামের রোগী শনাক্ত হচ্ছে। কভারেজের দাবির সঙ্গে বাস্তব পরিস্থিতির এই অমিলও উদ্বেগের বিষয়।

ভিটামিন ‘এ প্লাস’ ক্যাম্পেইনের প্রস্তুতি

 

২৫ জুন সচিবালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত জানান, সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত সারা দেশে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার কেন্দ্রে শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। পাশাপাশি বাস টার্মিনাল, রেলস্টেশন ও লঞ্চঘাটে প্রায় ৫০০টি ভ্রাম্যমাণ কেন্দ্র থাকবে।

তিনি জানান, দেশের ৫৮টি দুর্গম উপজেলায় মূল কর্মসূচির পর চার দিনের বিশেষ অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে, যাতে বাদ পড়া শিশুদের খুঁজে বের করে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল দেওয়া যায়। আগামী ডিসেম্বর মাসে এ কর্মসূচির দ্বিতীয় ধাপও অনুষ্ঠিত হবে।

বছরে সাধারণত দুইবার আয়োজিত ভিটামিন ‘এ প্লাস’ ক্যাম্পেইন সর্বশেষ অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০২৫ সালের মার্চে। অর্থসংকট ও ক্রয়সংক্রান্ত জটিলতার কারণে এরপর দীর্ঘদিন কর্মসূচিটি স্থগিত ছিল।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের কর্মসূচিতে দীর্ঘ বিরতি শিশুদের অপুষ্টির ঝুঁকি বাড়ানোর পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধক্ষমতা দুর্বল করে এবং হামের মতো সংক্রমণকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

লক্ষ্যমাত্রায় বড় ব্যবধান

দেশে হামের অস্বাভাবিক প্রাদুর্ভাবের পর সরকার প্রথমে ৩০টি উচ্চঝুঁকির উপজেলায়, পরে চারটি সিটি করপোরেশনে এবং শেষে সারা দেশে জরুরি হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি পরিচালনা করে। ওই কর্মসূচিতে ছয় মাস থেকে পাঁচ বছরের কম বয়সী ১ কোটি ৮২ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০ মে পর্যন্ত ১ কোটি ৮৩ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে, যা লক্ষ্যমাত্রার ১০২ শতাংশ।

এরপরও সরকার জানিয়েছে, কিছু শিশু টিকার আওতার বাইরে রয়ে গেছে। অন্যদিকে একই বয়সী শিশুদের জন্য আসন্ন ভিটামিন ‘এ প্লাস’ ক্যাম্পেইনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২ কোটি ৪০ লাখ।

ভিটামিন ‘এ’ কর্মসূচি বাস্তবায়নকারী ইনস্টিটিউট অব পাবলিক হেলথ নিউট্রিশন (আইপিএইচএন)-এর পরিচালক মোহাম্মদ ইউনুস আলী বলেন, সিভিল সার্জন কার্যালয় ও সিটি করপোরেশন থেকে পাওয়া হালনাগাদ তথ্যের ভিত্তিতে নতুন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

টিকাদানের তুলনায় ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল কর্মসূচিতে শিশু সংখ্যা বেশি হওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) কীভাবে তথ্য সংগ্রহ করেছে, তা আমি জানি না। আমরা আমাদের নিজস্ব পদ্ধতিতে শিশুদের তালিকা করেছি।’

সম্পাদকীয় :

 সম্পাদক ও প্রকাশক : এসএম শহীদ উল্লাহ, নির্বাহী সম্পাদক : শারমিন সুলতানা, ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : এসকে তমিজ উদ্দিন

অফিস : ১৯৩/১ (৩য় তলা) মতিঝিল, ঢাকা - ১০০০ থেকে প্রকাশিত। মোবাইল : 01753492430, ই-মেইল : ajkerawaz73@gmail.com

অফিস :